রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণকে সরকার উদার ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।
বিবৃতিতে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে সরকারের একজন মন্ত্রিপরিষদ সদস্য মন্তব্য করেছেন যে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল রেখে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিরোধীদলের সংবিধান সংস্কার পরিষদে নেওয়া শপথ আর বহাল থাকে না।
তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে চাই, এই যুক্তি যদি গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে নেওয়া শপথ কীভাবে বৈধ থাকে? কারণ ২০২৬ সালে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় কোনো সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণ ছিল সরকারের কাক্সিক্ষত সংস্কার প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ এবং গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন উদ্যোগ।
তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা বিরোধীদল আগে থেকেই জানত। এরপরও জনগণের সামনে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং গণতন্ত্রের দাবি জোরালো করতেই তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে জনগণ নতুন করে উপলব্ধি করেছে যে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই করতে সংবিধান সংস্কার অপরিহার্য।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অংশগ্রহণকে সংকীর্ণভাবে ব্যাখ্যা না করে এর অন্তর্নিহিত গণতান্ত্রিক বার্তা উপলব্ধি করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে পাশ কাটিয়ে কোনো সরকারই দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে না।