বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সারাবিশ্বই সফর করতে পারেন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত সফর করতেও কোনো অসুবিধা নেই। তবে সেই সফর হতে হবে সমতার, সমমর্যাদার ভিত্তিতে । এখন এই দেশের মানুষ আর কারো আধিপত্যবাদী আচরণ মেনে নেবে না।
গতকাল শুক্রবার সকালে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই সাথে সরকার প্রধান ও দলীয় প্রধান। তিনি চাইলেই দেশে চলমান, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্যের টুটি চেপে ধরতে পারেন। তিনি চাইলেই এসব বন্ধ হবে। তিনি চাচ্ছেন কিনা এটাই বড় বিষয়।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদ সদস্য ড. মাওলানা কেরামত আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি। সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, রাজশাহী অঞ্চল সহকারী পরিচালক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ও রাজশাহী জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল খালেক। রাজশাহী মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডলের সঞ্চালনায় এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর এ্যাড. আবু মোহাম্মদ সেলিম, ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আহসান বুলবুল, অধ্যক্ষ মো. শাহাদৎ হোসাইনসহ মহানগরীর শূরা ও বিভিন্ন থানার নেতৃবৃন্দ।
সম্মেলনে রাজশাহী মহানগরীর সহস্রাধিক নারী-পুরুষ সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী এই দেশের মানুষের কাছে একটি আদর্শিক সংগঠনের নাম। এই আস্থা অর্জন করতে এই সংগঠন দীর্ঘ সময় ধরে এদেশের মানুষের মাঝে ইসলামের দাওয়াত ও আদর্শ সমাজ এবং রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে নেতাকর্মীদেরকে জনমানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ভোট যেনো কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের নেতাকর্মীদের সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।
জেলা জামায়াতের সম্মেলন
বাদ জুময়া একই মিলনায়তনে রাজশাহী জেলা জামায়াতের সদস্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি। এতে সভাপতিত্ব করেন, জেলা আমীর অধ্যাপক আবদুল খালেক এবং সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি গোলাম মর্তুজা। সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, রাজশাহী অঞ্চল সহকারী পরিচালক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য দেন, জেলা নায়েবে আমীর মইনুল হোসেন, মাওলানা আব্দুল খালেকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দায়িত্বশীলদের সর্বাবস্থায় নিজেদের নৈতিক মান ঠিক রাখতে হবে। একটি সংগঠনের শক্তি শুধু তার সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে নয়, বরং দায়িত্বশীলদের চরিত্র, সততা, আমানতদারি ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের মধ্যেই নিহিত। তাই প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নৈতিকতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে হবে।
তিনি বলেন, সংকটকালে দায়িত্বশীলরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যারা সাহস, ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও যেকোনো সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দায়িত্বশীলদের বিচক্ষণতা, ধৈর্য এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিচয় দিতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া কোনো সংগঠন দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারে না। এজন্য মানুষের কাছে যেতে হবে, তাদের কথা শুনতে হবে এবং তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশাগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে হবে। জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, সেই প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীলদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, সকল দল ও মতের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে কাজ করতে হবে। সমাজে বিভেদ ও বৈষম্য তৈরি না করে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি অন্যায় আচরণ করা যাবে না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, সর্বক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সব জায়গায় ন্যায়বিচার ও সুবিচার নিশ্চিত করা জরুরি। ইনসাফের প্রশ্নে কারও সঙ্গে আপস করা যাবে না। দায়িত্বশীলদের নিজেদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ন্যায়, সততা ও জবাবদিহিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।
জামায়াত আমীর আরও বলেন, দায়িত্বশীলদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে হবে। সংগঠনের প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখার মাধ্যমে সংগঠনের প্রতি মানুষের আস্থা আরো দৃঢ় করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান এমপি বলেন, সংগঠনের প্রতিটি দায়িত্বশীলকে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে সততা, নিষ্ঠা ও আমানতদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দায়িত্ব কোনো পদমর্যাদার বিষয় নয়; এটি একটি আমানত। তাই দায়িত্বশীলদের নিজেদের নৈতিক ও সাংগঠনিক মান আরও উন্নত করতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীলদের আরও বেশি জনসম্পৃক্ত হতে হবে। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে হবে এবং দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় কাজ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য, সাহস ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, দায়িত্বশীলদের আল্লাহভীতি, সততা ও নৈতিক চরিত্রের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। শুধু সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নয়, মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সমস্যা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় কাজ করতে হবে। সংকট ও প্রতিকূল সময়ে ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দায়িত্বশীলদের আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
সম্মেলনে রাজশাহী জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও রুকনরা উপস্থিত ছিলেন। নেতৃবৃন্দ সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করা, নৈতিক মান উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।