বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ শ্রমিকের মৌলিক অধিকার। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন এলেও শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) হবিগঞ্জে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমনীতির বাস্তবায়ন অনিবার্য’—স্লোগানকে সামনে রেখে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি কাজী আব্দুর রউফ বাহার। সঞ্চালনা করেন জেলা সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হোসাইন।

অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি ও বিভিন্ন গণআন্দোলনে শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনেও শ্রমিকদের অগ্রণী ভূমিকা ছিল। ২০২৪ সালের আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক নিহত ও আহত হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা আট ঘণ্টা হলেও দেশের অনেক শ্রমিককে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাজের জন্য যথাযথ ওভারটাইমও দেওয়া হয় না। ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না করে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, কলকারখানাসহ সব খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে বাস্তবসম্মত মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। অন্যায়ভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, মাতৃত্বকালীন সময়ে নারী শ্রমিকদের চাকরির সুরক্ষা, সময়মতো ন্যায্য মজুরি প্রদান এবং কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সব কলকারখানায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আট ঘণ্টার বেশি কাজের ক্ষেত্রে ওভারটাইম, শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসন ও চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।

আতিকুর রহমান বলেন, “শ্রমিকদের কম মজুরি দিয়ে তাদের জীবনমান উন্নত করা যাবে না। আবার কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকের জীবনও চলে যাবে—এটা হতে পারে না।” শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে হলরুমের কর্মসূচি রাজপথে নিয়ে যাওয়া হবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মুখলেছুর রহমান, ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন এবং জেলা উপদেষ্টা মহসিন আহমেদ।

সমাবেশে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাকর্মী ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।