হাসান আলীম

এক.

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কোরবানি কবিতাটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ অগ্নি-বীণার এগারোতম কবিতা। এটি প্রথম ছাপা হয়েছিল বাংলা ১৩২৭ ভাদ্রের ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায়।

এ কবিতা সম্পর্কে প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ লিখেছিলেন-”তরীকুল আলম বলেএকজন ডিপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ‘কোরবানী’কে বর্বর যুগের চিহ্ন ব’লে একটি প্রবন্ধ লেখেন। এ প্রবন্ধ প’ড়ে নজরুল ইসলামের কলম গর্জে উঠল। নব্য তুর্কীরা তখন স্বাধীনতার জন্য অকাতরে জান কোরবান করছিল। সেই ব্যাপারের সাথে মিলিয়ে তিনি লিখলেন :

ওরে হত্যা নয়, আজ সত্যাগ্রহ, শক্তির উদ্বোধন! “

কাজী নজরুল ইসলাম ইসলামের মূল মর্মবাণী ধারণ করে কোরবানিকে হত্যাকাণ্ড নয় বরং পরম প্রভু আল্লাহর নির্দেশ হিসেবে মান্য করেন। আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছিলেন নবী ইব্রাহিম আ. কে তাঁর পরম প্রিয় পুত্রকে কোরবানি করার জন্য। নবী তার পুত্রকে কোরবানি করতে উদ্যত হলে আল্লাহর মোজেজায় একটি পশু কোরবানি হয়ে যায় আর তাঁর পুত্র ইসমাইল আ. বেঁচে যান।

এরপর থেকে মুসলিম জাতির সম্পদশালী লোকেরা পশু তথা গরু, ছাগল দুম্বা, উট কোরবানি করে আসছেন। এটাকে কটাক্ষ করার কোন অর্থ হয় না। এটা মুসলিম জাতির ধর্মীয় বিধান।

এটাকে পশু হত্যা বলা যায় না, কারণ অন্য সময়ে মুসলিম লোকেরা এবং অন্যান্য ধর্মের লোকেরাও তাদের পছন্দ মাফিক পশু কোরবানি করে তার গোশত ভক্ষণ করে থাকে।

জিলহজ মাসে হজ্জের সময় পশু কোরবানি করার রীতি নবী ইব্রাহিম আঃ থেকে চলে আসছে এবং নবী মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও এই রীতি বহাল রাখেন।

গবেষক এবং প্রজ্ঞাবান লেখকবৃন্দ এর বিপক্ষে নন। কাজী নজরুল ইসলামও কোরবানি করার রীতিতে বিশ্বাসী এবং এটাকে তিনি আত্মশক্তি অর্জন এবং মানবিক শক্তি অর্জনের উদ্বোধন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। প্রচুর অর্থের বিনিময়ে পশু ক্রয় করে তা কোরবানি করা অর্থাৎ সম্পদের মায়া ত্যাগ করা এবং নিজ হাতে পশু কোরবানি করার মাধ্যমে আত্মশক্তি অর্জনের বিশেষ পন্থা বলে মনে করেন।

এই বিশ্লেষণের সপক্ষে কিছু পঙক্তির উদ্ধৃতি এই কবিতা থেকে -

১. ‘এয় ইব্রাহিম আজ কোরবানি কর শ্রেষ্ঠ পুত্রধন’

ওরে হত্যা নয় আজ ‘সত্যাগ্রহ’ শক্তির উদ্বোধন!

২. তাই জননী হাজেরা বেটারে পরাল বলির পূত বসন!

ওরে হত্যা নয় আজ সত্যাগ্রহ সত্যাগ্রহ শক্তির উদ্বোধন!

৩. এই দিনই ‘মীনা’-ময়দানে

পুত্র -স্নেহের গর্দানে

ছুরি হেনে খুন ক্ষরিয়ে নে

রেখেছে আব্বা ইবরাহিম সে আপনা রুদ্র পণ!

মুসলিম জাতি তথা দেশপ্রেমিক জনতা এই ভাবে কোরবানি করে দেশের জন্য স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গ করতে উদ্বুদ্ধ হবে। এটা কিছুতেই হত্যাকর্ম নয় বরং এমনতর ঘটনা হিন্দু ধর্মেও রয়েছে। এমন একটি মিথ হল ‘প্রহ্লাদ ‘ চরিত্র। প্রহ্লাদ ছিলেন বিষ্ণু পুজারী কিন্তু তার বাবা এর ঘোর বিরোধী ছিল। এ জন্য সে নিজ পুত্র প্রহ্লাদকে হত্যা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়। এ অবস্থায় বিষ্ণু প্রহ্লাদকে রক্ষা করেন। এর সাথে মিল করে মুসলিম মোল্লাকে তথা কোরবানি প্রিয় মুসলিম জাতির কথা প্রকাশ করেছেন কবি। উদ্ধৃতি-

‘জল্লাদ নয়, প্রহলাদ সম মোল্লা খুন-বদন!

ওরে হত্যা নয় আজ সত্যাগ্রহ শক্তির উদ্বোধন’!

এ ভাবে কোরবানি তথা আত্মশক্তিতে বলীয়ান মুসলিম জনতা তথা দেশপ্রেমিক জনতা স্বাধীনতা, সার্বভৌম, স্বাধীন দেশের জন্য সংগ্রাম করতে শক্তি অর্জন করবে। উদ্ধৃতি -

‘ওরে হুঙ্কারে, ভাঙি গড়া ভীম কারা লড়ব রণ-মরণ

ঢালে বাজবে ঝন-ঝনন!

ওরে সত্য মুক্তি স্বাধীনতা দেবে এই সে খুন-মোচন!

ওরে হত্যা নয় আজ ‘সত্যাগ্রহ ‘ শক্তির উদ্বোধন’!

আর এ ভাবেই দেশ ও স্বাধীনতার জন্য জান কোরবান করে আল্লাহর সন্তুষ্টি তথা পবিত্রতার বোধন হবে।

উদ্ধৃতি -

‘ঐ খুনের খুঁটিতে কল্যাণ-কেতু, লক্ষ্য ঐ তোরণ!

আজ আল্লার নামে জান কোরবানে ঈদের পূত-বোধন!

ওরে হত্যা নয় আজ ‘সত্যাগ্রহ ‘ শক্তির উদ্বোধন’!

দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামের মাধ্যমে দেশজনতা পরম স্রষ্টা আল্লাহর রহমত ও পবিত্রতা অর্জন করবে এটাই এ কবিতার মূল বিষয়।

দুই.

কবি তার এ বক্তব্যকে কোরবানি করার ঘটনাকে কাব্যভাষায় শিল্পময় করে তুলেছেন। এখন এ কবিতার শিল্প কাঠামো তথা ছন্দ এবং শিল্প সৌন্দর্য তথা অলঙ্কার ও চিত্রকল্প প্রসঙ্গে কিছুটা আলোকপাত করবো।

কোরবানি কবিতাটি অতিপর্বময় এবং এটি দ্বিপদী ও ত্রিপদী সমিল মুক্তক মাত্রাবৃত্ত ছন্দে ছয় মাত্রার চালে রচিত। এখানেও কবি ছন্দ প্রয়োগে নতুনত্ব এনেছেন কোন কোন পঙক্তি নির্মাণে।

ছন্দ বিশ্লেষণ -

১. ওরে / হত্যা নয় আজ / সত্যাগ্রহ/ শক্তির উদ্/বোধন (উদ্বোধন)

দূর্বল ভীরু / চুপ রহো,ওহো/ খামখা ক্ষুদ্ধ / মন!

ধ্বনি ওঠে রণি / দূর বাণীর, —-

আজিকার এ খুন/ কোরবানির!

দুম্বা—শির / রুম—বাসীর

শহীদের শির/—সেরা আজি।—- রহ/মান কি রুদ্র/ নন?

অতি পর্ব ও পর্ব ভিত্তিক এর মাত্রা মান -

২/৬/৬/৬/৩

৬/৬/৬/২

৬/৫

৬/৫

৫/৫

৬/৬/৬/২

এ স্তবকের প্রথম পঙক্তির ‘ওরে’ শব্দটি পঙক্তির প্রথমে বশে দুই মাত্রার একটি অতিপর্ব এবং পরের তিনটি পর্ব ছয় মাত্রার তিনটি পূর্ণপর্ব এবং পঙক্তির শেষে একটি অপূর্ণ পর্ব ‘বোধন’ তিন মাত্রার । উল্লেখ্য, এখানে প্রথম পূর্ণপর্বে — ‘হত্যা নয় আজ’ সাত মাত্রার বরং নয় + আজ = নয়াজ রূপে উচ্চারিত হবে এবং ছয় মাত্রাটি হবে /হত্যা নয়াজ/

৩+৩= ৬।

‘শক্তির উদ্বোধন ‘ এখানে ছয় মাত্রার পর্বটি হবে উদ্বোধন শব্দের মধ্যখণ্ডন করে — /শক্তির উদ/বোধন, ৪+২= ৬ এবং অপূর্ণ পর্ব বোধন ৩ মাত্রার।

প্রথম দুই পঙক্তির অন্তমিল ‘উদ্বোধন ‘এবং ‘ক্ষুব্ধ মন’

শব্দে তাই এরা দ্বিপদী কিন্তু পরের তিনটি পঙক্তি ত্রিপদী এবং এর অন্তমিল

দূর বাণীর, কোরবানির, রুম-বাসীর, তিন শব্দের মাধ্যমে।

উল্লেখ্য, এখানে প্রথম পঙক্তিতে মোট মাত্রা ২৩, দ্বিতীয় পঙক্তিতে মোট মাত্রা ২০, তৃতীয় ও চতুর্থ,পঞ্চম পঙক্তির মোট মাত্রা ১১ করে । চতুর্থ পঙক্তিতে ‘ আজিকার এ খুন ‘ উচ্চারণ করতে হবে ‘আজিকারে খুন ‘ পড়ে। আজিকার +এ =আজিকারে, এ হিসেবে / আজিকারে খুন / হবে ৬ মাত্রার। দুম্বা -শির ও রূম-বাসীর ৫ মাত্রা হিসেবে একটি ৫ ও ৬ মাত্রার পরিকল্পিত মিশেল, তবে রুম- বাসীর কে রুম্বা-সীর হিসেবে উচ্চারণ করে ৬ মাত্রা করা যায়, কারণ দুম্বা শব্দের (দ্+উ)+(ম্+০)+(ব্+আ) বিশ্লেষণে দেখা যায় (ব্+আ) এর আ স্বরধ্বনি এবং (শ্+ই)+(র্+০) এর শ্+ই, ই স্বরধ্বনি পাশাপাশি আ এবং ই বসে যুক্ত আ+ই্ = আই্ হয়নি বরং আ+ই =আই > আ ই হয়েছে এবং এজন্য দুম্বা-শির ৬ মাত্রা মান পাবে অনুরূপ ভাবে রুম-বাসীর > রুম্বা-সীর, ৬ মাত্রা মান পাবে। এ হিসেবে দুম্বা-শির ও রুম-বাসীর ৬ মাত্রা মান পাবে। তবে এটিকে ৫ মাত্রার পরিকল্পিত মিশেল যা নজরুলের নজরুলীয় পরীক্ষা।

লক্ষ্যণীয় ড্যাশ শব্দের আগে বা পরে বসলে সে ক্ষেত্রে মাত্রা মান বৃদ্ধি পাবে না।

এ স্তবকে দূর বাণী পরে বক্তব্য শেষে ড্যাশ বসেছে এবং পঙক্তি শুরুতে রহমানের আগে ড্যাশ বসেছে তাই এরা মাত্রা মান পাবে না।

দ্বিতীয় স্তবকে আরও একটি নজরুলীয় নিরীক্ষা

দেখা যায় -

ডরতা নেই আজ / খুন খারাবিতে/ রক্ত-লুব্ধ /মন।

এখানে, ডরতা নেই আজ হবে ৬ মাত্রা মানের।

নেই এবং আজ এর ধ্বনি বিশ্লেষণ -

(ন্+এ)+(ই্+০)+(আ+০)+(জ্+০) এর স্বরধ্বনি গুলোর সমন্বয় হল এ + ই্+ আ=এই্আ=এ+ই্আ= এয়া তাই নেই আজ হবে নেয়াজ অর্থাৎ ডরতা নেই আজ হবে >ডরতা নেয়াজ = ৩+৩=৬ মাত্রা

ডরতা নেই আজ / খুন খারাবিতে / রক্ত-লুব্ধ/মন

এর মাত্রা মান ৬/৬/৬/২।

মাত্রা বৃত্ত ছন্দের ছয় মাত্রা মানের এ কবিতায় প্রতি স্তবকের সংক্ষিপ্ত পঙক্তিতে ৫ মাত্রার পরিকল্পিত মিশেল রয়েছে।

উদ্ধৃতি

প্রথম স্তবকে,

দুম্বা-শির,/ রুম-বাসীর পঙক্তি ৫/৫

দ্বিতীয় স্তবকে

মর্দামি’ই /পর্দা নেই পঙক্তি ৫/৫

খুনে / খেলবো খুন/- মাতন ৫/৩

এখানে মাতন ৩ মাত্রার অপূর্ণ পর্ব।

এ কবিতার কিছু শব্দালংকারের প্রয়োগ -

১. চুপ রহো, ওহো খামখা ক্ষুদ্ধ মন (রহো এবং ওহো শব্দদ্বয়ের হ, অন্তানুপ্রাস)

২.ধ্বনি ওঠে রণি দূর বাণীর (র, ণ বর্ণের বৃত্তানুপ্রাস)

৩.দুম্বা -শির রুম -বাসীর (দুম্বা ও রুম বা এর ম্ব,ছেকানুপ্রাস)

৪.শহীদের শির -সেরা আজি- রহমান কি রুদ্র নন (শহীদের শ এবং শির এর শ আদ্যানুপ্রাস। শির, সেরা, রহমান, রুদ্র শব্দের ইর,এরা, অর,উর তরঙ্গ অনুপ্রাস)

৫.দুধারী ধার শেরে -খোদার রক্তে -পূত- বদন (দুধারী, ধার, শেরে, খোদার, রক্তে শব্দের আরী, আর, এরে, আর,র তরঙ্গ অনুপ্রাস)

৬. শক্তি হস্তে মুক্তি, শক্তি রক্তে সুপ্ত শোন। (শক্তি, শক্তি দ্বিরুক্তি, শক্তি, রক্তে শব্দের যুক্তবর্ণ, ক্ত এর জন্য ছেকানুপ্রাস, শ ও স বর্ণের জন্য শিস-অনুপ্রাস)

৭.আস্তানা সিধা রাস্তা নয় / আজাদী মেলে না পস্তানোয় (আস্তানা, রাস্তা, পস্তানোয় শব্দের যুক্তবর্ণ স্ত এর জন্য ছেকানুপ্রাস)

৮. ঘাতক জালিম জোরবারের (জালিম ও জোরবার শব্দের জ আদিতে অবস্থিত হওয়ার জন্য আদ্যানুপ্রাস)

৯. তাথিয়া তাথিয়া নাচে ভৈরব (তাথিয়া,তাথিয়া দ্বিরুক্তি)

১০.খুনের খুঁটিতে কল্যাণ-কেতু, লক্ষ্য ঐ তোরণ (খুনের, খুঁটিতে শব্দদ্বয়ের খ আদি বর্ণের এবং কল্যাণ ও কেতু শব্দদ্বয়ের ক আদি বর্ণের জন্য এরা আদ্যানুপ্রাস)

উল্লেখ্য এ কবিতার প্রায় প্রতি পঙক্তিতে বিভিন্ন রকম শব্দালংকার রয়েছে যা পাঠকদের মনে শ্রুতিসাম্য ও মধুরতা সৃষ্টি করে।

এ কবিতার কয়েকটি অর্থালংকার সম্পর্কে কিছু উদ্ধৃতি -

১.”ওরে হত্যা নয় আজ ‘সত্যাগ্রহ’ শক্তির উদ্বোধন “

এখানে ‘সত্যাগ্রহ ‘ বলতে মোহন দাস করম দাস গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের কথা তথা ভারতের স্বাধীনতার জন্য ইংরেজদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ

আন্দোলনের কথা স্মরণে আসে।

এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সাথে মুসলমানদের পশু কোরবানি করার মাধ্যমে ঈদুল আযহা উদযাপনের কথা বলেছেন। এটি একটি স্মরণ উপমা।

২. ‘জুলফেকার ‘ খুলবে তার

দুধারী ধার শেরে খোদার রক্তে -পূত -বদন

খুনে আজকে রুধব মন”।

এখানে ‘জুলফেকার,’ ‘শেরে খোদা ‘ বলতে ইসলামের চতুর্থ খলিফা প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জামাতা হজরত আলী (রাঃ) এবং তাঁর তরবারি জুলফেকারের কথা স্মরণ করে অমিততেজা বীর সংগ্রামী এবং তার অস্ত্রের অব্যর্থতার কথা স্মরণ করে দেয় এটাও স্মরণ উপমা।

৩. “তাই জননী হাজেরা বেটারে পরাল বলির পূত বসন! “ এই পঙক্তিতে হজরত ইব্রাহিম আঃ এর স্ত্রী মা হাজেরা রাঃ এবং তার বেটা অর্থ হজরত ইসমাইল আঃ এর কথা বলা হয়েছে। হজরত ইব্রাহিমের নির্দেশে হাজেরা রাঃ তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল আঃ কে কোরবানি করার জন্য সাদা এবং পবিত্র কাপড়ে সাজিয়ে দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটাও স্মরণ উপমা।

৪. “আজ জল্লাদ নয়, প্রহ্লাদ সম মোল্লা খুন-বসন”।

এই পঙক্তিতে বিষ্ণু ভক্ত প্রহ্লাদ প্রসঙ্গ তুলে মুসলিমদের কোরবানি ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যের

সাথে কিছুটা তুলনা করা হয়েছে। প্রহ্লাদের বিষ্ণু পূজা তার পিতা মেনে নিতে পারে না। তার পুত্রকে পূজা থেকে বিরত রাখার শেষ চেষ্টা হিসেবে তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে।

প্রহ্লাদকে রক্ষা করার জন্য বিষ্ণু ভূমিকা পালন করেন এবং প্রহ্লাদ বেঁচে যায়।

হজরত ইব্রাহিম আঃ তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল আঃকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য কোরবানি করার সিদ্ধান্ত নেন। আল্লাহপাক হজরত ইব্রাহিম আঃ এর ত্যাগে মুগ্ধ হয়ে হজরত ইসমাইল আঃকে কোরবানি থেকে বাঁচিয়ে অলৌকিক উপায়ে পশু কোরবানি করিয়ে নেন।

এরপর থেকে মুসলিম জাতি এ স্মৃতিময় আত্মত্যাগ অনুসরণ করে পশু কোরবানি করে ঈদুল আযহা পালন করে। এ জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের বিদ্বেষ প্রকাশ করা বা পশু কোরবানি ঠেকানো ঠিক নয়। এটা একটি আত্মশক্তি অর্জনের অনুশীলন এবং এর মাধ্যমে তারা দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে জীবন দান করতে উদ্বুদ্ধ হবে। “কোরবানি” কাজী নজরুল ইসলামের একটি অসাধারণ বীররস সম্পৃক্ত আত্মশক্তি অর্জনের বিখ্যাত কবিতা।

কোরবানি কবিতাটি কেবল পশু কোরবানিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং অসীম বীরত্ব ও ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত একটি চমৎকার বীরত্বময় কবিতা। এর প্রথম স্তবকে সেই বাণী ঘোষিত হয়েছে।

-ওরে হত্যা নয় আজ ‘সত্যাগ্রহ ‘ শক্তির উদ্বোধন

দূর্বল! ভীরু! চুপ রহো, ওহো খামখা ক্ষুদ্ধ মন!

ধ্বনি ওঠে রণি দূর বাণীর

আজিকার এ খুন দূর বাণীর, -

দুম্বা- শির রুম-বাসীর

শহীদের শির -সেরা আজি।— রহমান কি রুদ্র নন?

বাস্! চুপ খামোশ রোদন!

আজ শোর ওঠে জোর ‘খুন দে, জান দে, শির দে বতস’ শোন্!

ওরে হত্যা নয় আজ সত্যাগ্রহ শক্তির উদ্বোধন!

কোরবানি কাজী নজরুল ইসলামের এক অসাধারণ শিল্প সৌন্দর্যময়, বীরত্বের কবিতা।

যুগে যুগে দেশপ্রেমিক, স্বৈরাচার বিরোধী ও স্বাধীনতাকামী জনতার জন্য উজ্জীবন মূলক এ কবিতাটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও চিরন্তন।

লেখক :

কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক