মরুভূমির তপ্ত বালুকারাশি, খাঁ খাঁ রোদ আর জনমানবহীন এক প্রান্তর। হাজার বছর আগে মক্কার এই জনপদ ছিল ঠিক এমনই রুক্ষ। কিন্তু আজ সেখানে কোটি কোটি মানুষের ভিড়, আর তাঁদের প্রত্যেকের হৃদয়ে একটিই তৃষ্ণা ‘জমজম’। এটি কেবল একটি কূপের পানি নয়, বরং এটি আল্লাহ তাআলার এক জীবন্ত মোজেজা বা অলৌকিক নিদর্শন। কল্পনা করুন একটু চারদিকে শুধু বালি আর পাথর। রোদের তাপে মাটি ফেটে চৌচির। দূর-দূরান্তে কোথাও একটু পানির চিহ্ন নেই। এই ভয়াবহ নিঃসঙ্গ মরুভূমিতে একটি শিশু কাঁদছে তৃষ্ণায়, আর তার মা ছুটে চলেছেন পাহাড় থেকে পাহাড়ে , একটুখানি পানির আশায়। এই দৃশ্য কোনো কল্পকাহিনীর নয়। এটি প্রায় চার হাজার বছর আগের সত্যিকারের ঘটনা। আর সেই মুহূর্তে আল্লাহর হুকুমে মরুভূমির বুক চিরে যে ঝরনা উথলে উঠেছিল, সেটিই আজকের জমজম কূপ। মক্কার মসজিদুল হারামের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এই কূপ আজও পানি দিয়ে চলেছে, একটানা, বিরামহীনভাবে। পৃথিবীর ইতিহাসে সম্ভবত এমন কোনো কূপ নেই, যার সঙ্গে এত মানুষের এত গভীর আবেগ জড়িয়ে আছে। প্রতি বছর লাখ লাখ হাজী এই কূপের পানি পান করে চোখের পানি ফেলেন। দূরদেশ থেকে আসা মুসাফির এই পানির বোতল বুকে চেপে ধরেন, যেন প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরছেন। পবিত্র কুরআনে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই দোয়ার কথা এভাবে এসেছে, “হে আমাদের পালনকর্তা, আমি আমার বংশধরদের কতককে তোমার পবিত্র গৃহের নিকট এক অনাবাদী উপত্যকায় বসবাস করালাম...” (সূরা ইব্রাহিম: ৩৭)। আজ আমরা এই পবিত্র জমজম কূপের ইতিহাস, এর ধর্মীয় গুরুত্ব এবং আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর মাহাত্ম্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
প্রথম. আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগের কথা। আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইবরাহিম (আ.) তাঁর স্ত্রী হাজেরা (আ.) এবং দুধের শিশু ইসমাইল (আ.)-কে নিয়ে রওনা হলেন। গন্তব্য, আজকের মক্কার কাছাকাছি এক বিরান উপত্যকা, যার নাম ছিল “বাক্কা”। চারদিকে পাহাড়, কিন্তু কোনো মানুষ নেই, কোনো গাছ নেই, পানির কোনো উৎস নেই। হযরত ইবরাহিম (আ.) স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে সেখানে রেখে চলে যেতে লাগলেন। হাজেরা (আ.) ডাকলেন, “হে ইবরাহিম! আপনি আমাদের এই জনমানবহীন জায়গায় রেখে কোথায় যাচ্ছেন?” ইবরাহিম (আ.) থামলেন না। হাজেরা (আ.) আবার জিজ্ঞেস করলেন, “আল্লাহ কি আপনাকে এই আদেশ দিয়েছেন?” ইবরাহিম (আ.) বললেন, “হ্যাঁ।” তখন হাজেরা (আ.) বললেন, “তাহলে আল্লাহ আমাদের নষ্ট করবেন না।” এই মহান নারীর তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর উপর ভরসার কথা বুখারি শরিফে বিস্তারিত বর্ণিত আছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৩৩৬৪, কিতাবুল আম্বিয়া)
কিছুদিন পর খাবার ও পানি শেষ হয়ে গেল। শিশু ইসমাইল তৃষ্ণায় কাঁদতে লাগলেন। মা হাজেরা সহ্য করতে পারছিলেন না। তিনি ছুটলেন সাফা পাহাড়ে, দূরে কোথাও পানি দেখা যায় কিনা। দেখলেন না। তারপর ছুটলেন মারওয়া পাহাড়ে। আবার ফিরলেন সাফায়। এভাবে সাতবার দৌড়ালেন দুই পাহাড়ের মাঝে। এই সাত চক্করই আজকের সাঈ, হজে¦র একটি অপরিহার্য বিধান। একজন মায়ের মমতা ও সংগ্রাম আজও কোটি মানুষ স্মরণ করে এই সাঈ পালনের মধ্য দিয়ে।
মাটির নিচ থেকে পানি: সপ্তমবার মারওয়া পাহাড়ে উঠে হাজেরা (আ.) দেখলেন, শিশু ইসমাইলের কাছ থেকে একটি শব্দ আসছে। কেউ কেউ বর্ণনা করেন, জিবরাইল (আ.) এসেছিলেন। তিনি তাঁর পাখা বা পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করলেন, আর সেই মুহূর্তে মাটির বুক চিরে পানি উথলে উঠল। হাজেরা (আ.) ছুটে গেলেন। পানি দেখে বলতে লাগলেন, ‘‘জমজম’’, অর্থাৎ “থামো, থামো।” মতান্তরে তিনি পানি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে হাত দিয়ে বাঁধ দিলেন। নবী করিম (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ ইসমাইলের মাকে রহম করুন। যদি তিনি জমজমকে ছেড়ে দিতেন, তাহলে এটি একটি প্রবাহমান নদী হয়ে যেত।” (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৩৩৬৪)। এই একটি বাক্য থেকেই বোঝা যায়, জমজমের পানির ভেতর কী অসীম শক্তি লুকিয়ে ছিল।
দ্বিতীয়. জমজম নামের পেছনের কাহিনী; “জমজম” শব্দটি নিয়ে আলেমদের মধ্যে কয়েকটি মত আছে,
প্রথম মত: হাজেরা (আ.) পানি দেখে বলেছিলেন “জমজম”, মানে “থামো, থামো।” এই বলতে বলতেই নামটি প্রচলিত হয়ে যায়।
দ্বিতীয় মত: “জমজম” শব্দটি আরবিতে এসেছে “যামম” ধাতু থেকে, যার মানে “একত্র করা।” পানি একত্র হয়ে জমা হয়েছিল বলে এই নাম।
তৃতীয় মত: কেউ বলেন, এটি প্রাচীন সেমেটিক ভাষা থেকে আসা শব্দ, যার মানে “প্রচুর পানি।”
ইসলামের বিখ্যাত ঐতিহাসিক আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ যাদুল মা’আদ-এ লিখেছেন, জমজমের বিভিন্ন নাম ছিল, যেমন “শাব্বাআ” (তৃপ্তিদায়ক), “মুবারাকা” (বরকতময়), “মায়মুনা” (শুভ) ইত্যাদি। (যাদুল মা’আদ, ইবনুল কাইয়্যিম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৮৫)। জমজম কূপটির অবস্থান মসজিদুল হারামের ভেতরে, কাবাঘরের পূর্বদিকে মাত্র ২১ মিটার দূরে অবস্থিত। কূপের মুখের ব্যাস প্রায় ১.৪৬ মিটার। কূপটি মাটির নিচে ৩০ মিটার (প্রায় ১০০ ফুট) গভীর।
তৃতীয়. কুরআনে সরাসরি “জমজম” নামটি উল্লেখ নেই। তবে হজে¦র সাঈ-এর বিধান প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্গত।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫৮)। এই আয়াতে সেই মহান ঘটনার স্মৃতি চিরকালের জন্য কুরআনে ধরে রাখা হয়েছে। আর সেই সাফা-মারওয়ার মাঝেই জন্ম হয়েছে জমজম কূপের। এছাড়া, হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া প্রসঙ্গে কুরআনে আছে, “হে আমাদের প্রভু! আমি আমার বংশধরদের একটি অংশকে তোমার সম্মানিত ঘরের কাছে এক অনুর্বর উপত্যকায় বসবাস করিয়েছি... যেন তারা কৃতজ্ঞ হয়।” (সূরা ইবরাহিম, আয়াত: ৩৭)।
এই আয়াতেই সেই বিরান উপত্যকার কথা আছে, যেখানে পরে জমজম কূপের সৃষ্টি হয়েছিল। হাদিসে জমজম নিয়ে নবী করিম (সা.)-এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বাণী আছে। সেগুলো থেকে কয়েকটি:
প্রথম হাদিস: “জমজমের পানি যে নিয়তে পান করা হয়, তাতে সেই কাজ হাসিল হয়। যদি কেউ আরোগ্যের জন্য পান করে, আল্লাহ তাকে আরোগ্য দেন। যদি কেউ তৃষ্ণা নিবারণের জন্য পান করে, আল্লাহ তার তৃষ্ণা দূর করেন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩০৬২; আল্লামা আলবানি এটিকে হাসান বলেছেন)।
দ্বিতীয় হাদিস: “জমজমের পানি সর্বোত্তম পানি। এটি তৃপ্তিদায়ক খাবার এবং রোগ থেকে আরোগ্যদানকারী।” (মুসনাদে আহমাদ; তাবারানি)।
তৃতীয় হাদিস: মেরাজের ঘটনায় জমজম কূপের পানি। মেরাজের রাতে নবী করিম (সা.)-এর বুক বিদীর্ণ করে হৃদয় পরিষ্কার করা হয়েছিল জমজমের পানি দিয়ে। আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, জিবরাইল (আ.) সোনার একটি থালায় জমজমের পানি এনে নবীজির হৃদয় ধুয়ে দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৩৪৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৬২)। এই ঘটনা প্রমাণ করে; জমজমের পানি শুধু সাধারণ পানি নয়, এটি আল্লাহর কাছে কতটা বিশেষ ও পবিত্র।
চতুর্থ. ইসলামের ইতিহাসে জমজমের আবেগময় স্মৃতি যা আবদুল মুত্তালিবের স্বপ্ন ও পুনরাবিষ্কার মাধ্যমে আমাদের সামনে আসে। দীর্ঘ সময় পরে, একসময় জমজম কূপ বালিচাপা পড়ে হারিয়ে গিয়েছিল। নবী করিম (সা.)-এর দাদা আবদুল মুত্তালিব স্বপ্নে আদিষ্ট হলেন কূপটি খুঁজে বের করতে। তিনি একাই কাজ শুরু করলেন, কুরাইশ গোত্রের ঠাট্টা-বিদ্রুপ উপেক্ষা করে। অবশেষে সেই স্থান খুঁড়তে গিয়ে পাওয়া গেল পুরনো তরবারি, বর্ম ও সোনা এবং সেই সঙ্গে পাওয়া গেল জমজমের পানির ধারা। আবদুল মুত্তালিব কৃতজ্ঞতায় সিজদায় পড়ে গেলেন। এই ঘটনা ছিল নবী করিম (সা.)-এর জন্মের কিছুকাল আগের। (সিরাতুন নবী, আল্লামা শিবলি নোমানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৯৪-৯৬)।
নবীজির শৈশবে জমজম কূপের পানি পান করেছেন। নবীজি শিশুকালে ধাত্রীমাতা হালিমা সাদিয়া (রা.)-এর কাছে ছিলেন। পরে মক্কায় ফিরে আসার পর মা আমিনার ইন্তিকাল হলে দাদা আবদুল মুত্তালিব তাঁকে লালন-পালন করতেন। সেই ছোট্ট মুহাম্মদ (সা.) জমজমের পানি পান করেছেন, এই কথা ভাবলেই মুমিনের মনে এক অদ্ভুত আবেগ জেগে ওঠে। ইবনে হিশামের আস-সিরাতুন নববিয়্যা-তে বর্ণিত আছে, হযরত ইবরাহিম (আ.) কাবাঘর নির্মাণের সময় যে পানি পান করেছিলেন, তা-ও ছিল জমজমের। (আস-সিরাতুন নববিয়্যা, ইবনে হিশাম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৪৬)
বিখ্যাত সাহাবি হযরত আবু যর গিফারি (রা.) মক্কায় প্রথম আসার সময় ৩০ রাত কোনো খাবার ছাড়া শুধু জমজমের পানি পান করে বেঁচে ছিলেন। নবীজি এ কথা শুনে বললেন, “এটি তৃপ্তিদানকারী খাবার।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৪৭৩)। এই ঘটনা বলে দেয়, জমজম শুধু পানীয় নয়, এটি আল্লাহর দেওয়া রিজিকের এক অলৌকিক উৎস।
পঞ্চম. চৌদ্দ শতকের মহান আলেম ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাঁর যাদুল মা’আদ গ্রন্থে লিখেছেন, “জমজমের পানি পৃথিবীর সেরা পানি, সবচেয়ে মূল্যবান এবং সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন। এটি কাবাঘরের প্রতিবেশী। আল্লাহ তাআলা এটিকে তাঁর বান্দাদের জন্য সুপেয় করেছেন।” (যাদুল মা’আদ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৮৩-৩৮৬)। তিনি আরও লিখেছেন, জমজমের পানি পান করার সময় নিয়ত করা উত্তম। রোগ নিরাময়ের জন্য পান করলে কিবলামুখী হয়ে বিসমিল্লাহ বলে পান করা উচিত। বিখ্যাত ফকিহ ইমাম নববি (রহ.) আল-মাজমু’ গ্রন্থে লিখেছেন, “জমজমের পানি পান করা মুস্তাহাব। এটি দাঁড়িয়ে পান করা সুন্নত। তিন নিঃশ্বাসে পান করা উত্তম এবং কিবলামুখী হয়ে পান করা প্রিয়।” (আল-মাজমু’, ইমাম নববি, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ১০৮)। হাদিসের সর্বোচ্চ বিশেষজ্ঞ ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেছেন, জমজমের পানি পান করার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট দোয়া নেই। তবে যে কোনো ভালো বিষয়ের নিয়ত করে পান করা যায়। (ফাতহুল বারি, ইবনে হাজার, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৯৩)
ষষ্ঠ. বিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানীরা জমজমের পানি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। ফলাফল দেখে তারা অবাক হয়ে যান। ১. খনিজ উপাদান: জমজমের পানিতে রয়েছে সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, বাইকার্বোনেট ও সালফেট, সুনির্দিষ্ট পরিমাণে। সৌদি আরবের ভূতত্ত্ব ও খনিজসম্পদ জরিপ বিভাগ (SGS) পরীক্ষা করে দেখেছে, এই পানি WHO (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা)-এর নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ ও পানযোগ্য।
২. অক্লান্ত প্রবাহ: গত ১৪০০ বছর ধরে এই কূপ কখনো শুকিয়ে যায়নি। প্রতি সেকেন্ডে ৮,০০০ লিটার পানি তোলার পরও কূপের পানি একই স্তরে ফিরে আসে। হজে¦র মৌসুমে প্রতিদিন কোটি লিটার পানি বিতরণ করা হয়, তবুও কূপ শুকায় না। ৩. জাপানি বিজ্ঞানীর গবেষণা: জাপানি বিজ্ঞানী ড. মাসারু ইমোতো পানির অণুর উপর বিভিন্ন পরিবেশের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, জমজমের পানির অণুর কাঠামো অন্য যেকোনো পানির চেয়ে আলাদা ও সুন্দর। যদিও তাঁর এই গবেষণা বিতর্কিত, তবুও এটি মানুষের আগ্রহ বাড়িয়েছে। ৪. আধুনিক মুসলিম গবেষক: ড. ইয়াহিয়া কোশক তাঁর “জমজম: দ্য ওয়াটার অব মিরাকেলস” গ্রন্থে বলেছেন, এই পানির উৎস এখনও পুরোপুরি বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি।
সপ্তম. ইসলামে জমজমের পানি পান করার কিছু আদব বা শিষ্টাচার আছে। ১. নিয়ত করা: পান করার আগে মনে মনে নিয়ত করুন কিসের জন্য পান করছেন। রোগ নিরাময়, ইলম অর্জন, রিজিক বৃদ্ধি, যা চান তা মনে রেখে পান করুন। ২. কিবলামুখী হওয়া: কাবার দিকে মুখ করে পান করা সুন্নত। ৩. বিসমিল্লাহ বলা: পান শুরুর আগে বিসমিল্লাহ বলুন। ৪. দাঁড়িয়ে পান করা: নবীজি (সা.) জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৬৩৭)।
৫. তিন নিঃশ্বাসে পান করা: প্রতিটি নিঃশ্বাসে পাত্র মুখ থেকে সরিয়ে পান করুন। ৬. দোয়া করা: পান শেষে দোয়া করুন। ইবনে আব্বাস (রা.) জমজম পান করে বলতেন, “আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআন ওয়া রিজকান ওয়াসিআন ওয়া শিফাআন মিন কুল্লি দাআ।” (হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে উপকারী জ্ঞান, প্রশস্ত রিজিক এবং সকল রোগ থেকে আরোগ্য চাই।) (দারাকুতনি; সুনানে ইবনে মাজাহ)।
তথ্যসূত্র ও সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি:
১. সহিহ বুখারি, ইমাম বুখারি (রহ.), হাদিস নং ৩৩৬৪, ১৬৩৭, ৩৪৯
২. সহিহ মুসলিম, ইমাম মুসলিম (রহ.), হাদিস নং ১৬২, ২৪৭৩
৩. সুনানে ইবনে মাজাহ, ইমাম ইবনে মাজাহ (রহ.), হাদিস নং ৩০৬২
৪. যাদুল মা’আদ, ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.), খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৮৩-৩৮৬
৫. আস-সিরাতুন নববিয়্যা, ইবনে হিশাম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৪৬
৬. সিরাতুন নবী, আল্লামা শিবলি নোমানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৯৪-৯৬
৭. আল-মাজমু’, ইমাম নববি (রহ.), খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ১০৮
৮. ফাতহুল বারি, ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.), খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৯৩
৯. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসীর (রহ.), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯০-২০৫।
১০. আর-রাহীকুল মাখতূম, সফিউর রহমান মোবারকপুরী, পৃষ্ঠা ৪২-৪৫ (জমজমের পুনঃখনন অধ্যায়)।
১১. জমজম: দ্য মিরাকল ওয়াটার, লেখক: ড. হামদুন।
লেখক:
সাংবাদিক, লেখক