মোঃ রাশেদুল হাসান আমিন
“কিসের বিচার করবে? কিসের ওপর? সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ পড়ে দেখুক।” পদত্যাগের পর সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের এমন মন্তব্য ছিল আগুনে ঘি ঢালার মত। ইতিহাসে বলে রাষ্ট্রক্ষমতা ছাড়ার পর এভাবেই সংবিধানের আড়ালে আশ্রয় খুঁজেছেন অনেকে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। বাংলাদেশেই এর নজির আছে। ১৯৯০ সালে পদত্যাগের পর সেনা শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে কারাগারে যেতে হয়েছিল। একাধিক দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলেছিলেন। কিন্তু তাঁর ২৪ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। পেরুর আলবার্তো ফুজিমোরি মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির দায়ে ২৫ বছরের সাজা পান।
এসব দৃষ্টান্ত আমাদের উপলব্দি করায়Ñ রাষ্ট্রপ্রধানের পদত্যাগে একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেনা, বরং প্রকৃত জবাবদিহির সূচনা হয়। মোঃ সাহাবুদ্দিন যে অনুচ্ছেদের কথা বলেছেন তা সত্যিই তাকে রক্ষাকবচ দেয়, নাকি এটি এমন এক সুরক্ষা, যা পদ গেলেই কার্যকারিতা হারায়? মোঃ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগে এ প্রশ্নটিই নতুন করে সামনে এসেছে। এর উত্তর রাজনৈতিকভাবে নয়Ñ সংবিধান, আইন ও প্রতিষ্ঠানের আলোকে খুঁজতে হবে। চব্বিশের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের একজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার পদত্যাগ কেবল ব্যক্তিগত বা প্রশাসনিক সম্পর্কিত বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না।
পদত্যাগের ঘটনাপ্রবাহ : দীর্ঘ গুঞ্জনের পর গত ২৪ জুলাই স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মোঃ সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সে পত্রে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে দেখানো হয়। সংবিধান অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন তিন বছর তিন মাস। পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন, যাতে রাষ্ট্রক্ষমতায় কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে নতুন বাস্তবতা তৈরী হলেও রাষ্ট্রপতি পদে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আসেনি। বরং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহাবুদ্দিনের দায়িত্ব পালন অব্যাহত থাকে। তবে পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধছিল। বিশেষত ২০২৪ সালের অক্টোবরে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে দেয়া বক্তব্য তাঁর নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। প্রায় দুই বছর নানা বিতর্ক এবং সবশেষ লন্ডনে হাসিনার সাথে কথিত ফোনালাপের গুঞ্জন অবশেষে পদত্যাগে গিয়ে ঠেকে।
৫ আগস্টের পর কেন পদত্যাগ নয়? ২০২৪ সালের অক্টোবরেই সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে সংকট তৈরী হয়েছিল, তখনই কেন তাকে পদত্যাগ বা অপসারণ করা হয়নি- এ প্রশ্নের উত্তর অতটা সরল নয়। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং নির্বাহী ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তরই ছিল প্রধান চ্যালেঞ্জ। অন্তর্বর্তী সরকার তখন বলেছে, রাষ্ট্রপতির পদচ্যুতি সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি করতে পারে, কারণ সংসদ বিলুপ্ত থাকায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কোনো কার্যকর প্রক্রিয়া সচল ছিল না। বিএনপি এ প্রশ্নে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল। তাঁরা ব্যক্তি রাষ্ট্রপতিকে নয়, রাষ্ট্রপতি পদকে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছে এবং সংকটময় সময়ে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার্থেই নতুন করে অস্থিরতা এড়িয়ে চলার কৌশল নেয়। দলটির এ অবস্থানে নীতিগত যুক্তি যেমন ছিল, তেমনি দলীয় ঝুঁকি এড়ানোর কৌশলগত হিসাবও কাজ করেছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থী আন্দোলন-ঘনিষ্ঠ অংশগুলো শুরু থেকেই মনে করেছে, রাষ্ট্রপতির পদে সাহাবুদ্দিনের থাকা রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে তারা তাঁর অপসারণের দাবিতে সরব ছিল। সে সময় কিছু সংবিধান বিশেষজ্ঞ যুক্তি দেন, রাষ্ট্রপতিকে তাৎক্ষণিকভাবে সরানোর চেষ্টা নতুন সাংবিধানিক অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারত। অর্থাৎ সাহাবুদ্দিনের পদে বহাল থাকা রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতায় নির্বাহী ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাকেই তখন জরুরি বিবেচনা করা হয়েছিল।
সংবিধান কী বলে : এবার রাষ্ট্রপতির সংবিধান পাঠের ইস্যুতে আসা যাক। তাঁর সে মন্তব্যই আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়। সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি নিয়ে দুটি ভিন্ন স্তরের সুরক্ষার কথা বলে। ৫১(১) অনুচ্ছেদ বলছে, রাষ্ট্রপতি তাঁর দায়িত্ব পালনের জন্য করা কোনো কাজের বিষয়ে আদালতে জবাবদিহি করতে বাধ্য ননÑ তবে এ সুরক্ষা সরকারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে না। ৫১(২) অনুচ্ছেদ আরও নির্দিষ্ট: মেয়াদকালে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের বা চালু রাখা যাবে না, এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী বা কারাদণ্ডের কোনো পরোয়ানাও জারি না করার কথা বলা হয়েছে।
লক্ষ্যণীয়, এ দুটি ধারাতেই “দায়িত্ব পালনকালে” এবং “মেয়াদকালে” শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ, সংবিধানের ভাষায় এই সুরক্ষা মূলত পদকেন্দ্রিক, ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়; এবং তা সময়সীমাবদ্ধও বটে। অনুচ্ছেদটিতে এমন কোনো ভাষার ব্যবহার নেই, যা পদত্যাগ বা মেয়াদ শেষে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সব ধরনের আইনি জবাবদিহি স্থায়ীভাবে স্তব্দ করে দেয়। বোঝা গেল, দায়মুক্তি আর স্থায়ী অব্যাহতি এক বিষয় নয়।
এছাড়া সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দুটি উপায়ের কথা বলা আছে। ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণ ঘটলে সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বাক্ষরে অভিশংসনের প্রস্তাব আনা যায়, যা দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হলে রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়তে বাধ্য হবেন। আর ৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের ভিত্তিতে একটি মেডিকেল বোর্ডের মূল্যায়নসাপেক্ষে অপসারণ সম্ভব। সাহাবুদ্দিনের ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়ার কোনোটিরই দরকার হয়নি- তিনি সেচ্ছায়ই পদত্যাগ করেছেন।
রাষ্ট্রপতির বিচার কি সম্ভব? এখানেই মূল আইনি বিতর্ক। এখানে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচ্য নয়, আইনি প্রশ্নই মুখ্য। সংবিধানে রাষ্ট্রপতির অপসারণ, পদত্যাগ ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে স্পষ্ট বিধান থাকলেও, পদত্যাগের পর ফৌজদারি অপরাধ থাকলে তার বিচার কীভাবে হবে, এর জন্য আলাদা কোনো পদ্ধতি সংবিধানে উল্লেখ নেই। ফলে কোনো অপরাধের অভিযোগ উঠলে তা প্রচলিত আইন, তদন্ত, আদালতের এখতিয়ার এবং স্বাভাবিক বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নিষ্পত্তি হতে হবে। কেউ রাষ্ট্রপতি ছিলেন- এ পরিচয় তাঁকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেয় না; আবার কেবল রাজনৈতিক অভিযোগও বিচারিক প্রমাণের বিকল্প হতে পারে না।
তাই বলে তদন্ত করা যাবে না, এমন নয়। বাংলাদেশে রাষ্ট্রক্ষমতা ছাড়ার পর জবাবদিহির আলোচিত উদাহরণ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর নয় বছরের দীর্ঘ আন্দোলনে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদ। এর কিছুদিন পরই তিনি গ্রেপ্তার হন। পরবর্তী সরকার তাঁর বিরুদ্ধে দুই ডজনেরও বেশি মামলা দায়ের করে। কয়েকটিতে দুর্নীতির দায়ে তাঁর দণ্ড হয়। কিছু মামলায় আপিলে অব্যাহতিও পান তিনি। আদালতের দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া পেরিয়ে তিনি পুনরায় রাজনীতিতে ফিরেছিলেন। এই নজির বলছে, রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে বিদায় মানেই বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা নয়, আবার অভিযোগ ওঠা মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেউ দোষী সাব্যস্ত হয় না। চূড়ান্ত ফয়সালা আদালতেই হয়।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপ্রধানের পদত্যাগ-পরবর্তী জবাবদিহি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সাংবিধানিক কাঠামোয় ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেখা গেছে। এখানে মনে রাখা জরুরি, প্রতিটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতা ও দায়মুক্তির পরিধি ভিন্ন, তাই সরাসরি একই মানদণ্ডে তুলনা করা ঠিক নয়। তবু সাধারণ প্রবণতা বোঝার জন্য কিছু দৃষ্টান্ত আমাদেও চোখের সামনে রয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হে ২০১৬ সালে দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে অভিশংসিত হন। সাংবিধানিক আদালতে তা বহাল থাকায় তিনি পদ ও দায়মুক্তি দুটোই হারান। পরে ফৌজদারি বিচারে তাঁর ২৪ বছরের কারাদণ্ড হয়। পেরুর প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরি ২০০০ সালে জাপানে অবস্থানকালে ফ্যাক্সে পদত্যাগপত্র পাঠান। পাঁচ বছর পর চিলিতে গ্রেপ্তার হয়ে পেরুতে প্রত্যর্পিত হন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির দায়ে ২৫ বছরের সাজা পান। ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাক দায়িত্বে থাকাকালে সাংবিধানিক দায়মুক্তি পেলেও মেয়াদ শেষে প্যারিসের মেয়র থাকাকালীন দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০১১ সালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়ে স্থগিত কারাদণ্ড পান। এছাড়াও পাকিস্তানে প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ অভিশংসনের হুমকির মুখে ২০০৮ সালে পদত্যাগের পর সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাঁর বিচার হয়। ২০১৯ সালে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলেও পরে আদালতের প্রক্রিয়াগত জটিলতায় সেই রায় বাতিল হয়। আর ইসরাইলে প্রেসিডেন্ট মোশে কাতসাভ ২০০৭ সালে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে পদত্যাগর পর বিচারে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। উল্লেখিত রাষ্ট্রপ্রধানদের পদে থাকাকালীন দায়মুক্তি পদ ছাড়ার পরই বিলুপ্ত হয়েছে। নির্দিষ্ট অভিযোগ, তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তেই তাদের বিচার হয়েছে, রাজনৈতিক ঘোষণার ভিত্তিতে নয়। প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় পদ নয়, আইনের শাসনই নির্ধারণ করে কে জবাবদিহির মুখোমুখি হবে।
দায়মুক্তি বনাম জবাবদিহি : এ পুরো বিতর্কের কেন্দ্রে একটি গভীর সাংবিধানিক টানাপোড়েন কাজ করছে; দায়মুক্তি বনাম জবাবদিহি, স্থিতিশীলতা বনাম রাজনৈতিক চাপ, বিচার বনাম প্রতিশোধ। দায়মুক্তির যুক্তি হলো, রাষ্ট্রপ্রধান যেন ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে এ সুরক্ষা সীমাহীন হয়ে গেলে তা জবাবদিহিহীনতার সংস্কৃতিতে রূপ নিতে পারে। বিপরীতে, জবাবদিহির যুক্তি হলো- কেউই আইনের শাসনে ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু জবাবদিহি যদি প্রমাণ ও প্রক্রিয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক ক্ষোভ থেকে চালিত হয়, তাহলে তা প্রতিশোধে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। তাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো মাঝামাঝি অবস্থানে চলা।
সংবিধানের ভাষা স্পষ্ট করে, ৫১ অনুচ্ছেদের সুরক্ষা পদকেন্দ্রিক ও মেয়াদভিত্তিক। এটি স্থায়ী কোনো ব্যক্তিগত অভয়ারণ্য নয়। ফলে “কিসের বিচার করবে” বলে প্রশ্ন তোলাটা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, আইনি অবস্থান নয়। একই সঙ্গে এটাও সত্য যে, নির্দিষ্ট অভিযোগ, তদন্ত ও প্রমাণ ছাড়া কাউকে জনরোষের চাপে বা জনতুষ্টি আদায়ে বিচারের কাঠগড়ায় তোলা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তার নিষ্পত্তি হতে হবে আইনের পথে। অভিযোগ প্রমাণিত না হলে আইনি পথেই তিনি মুক্ত থাকবেন। আর সংবিধানে যদি কোনো অস্পষ্টতাও থাকে, তা স্পষ্ট করার দায়িত্ব সংসদীয় বিতর্ক, আইন প্রণয়ন ও বিচারিক ব্যাখ্যারÑ রাজনৈতিক স্লোগানের নয়।
এরশাদ থেকে শুরু করে পার্ক গিউন-হে, ফুজিমোরি, শিরাক কিংবা মোশাররফ, প্রতিটি দৃষ্টান্তই একটি অভিন্ন সত্য সামনে এনেছে। তা হল, রাষ্ট্রক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনও চিরস্থায়ী দায়মুক্তি দিতে পারে না। একই সঙ্গে এটাও মনে রাখা জরুরি, বিচার হতে হবে প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে, প্রতিহিংসার মধ্য দিয়ে নয়। মোঃ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগে যে বিতর্ক উঠেছে, তার উত্তর খুঁজতে হবে সংবিধানের পাঠে, আদালতের ব্যাখ্যায় এবং আইনের শাসনের নীতিতে।
লেখক : সাংবাদিক