একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে সংঘাত বা সহিংসতা কখনোই কারও কাম্য হতে পারে না! কারণ এই ধরনের মারামারি কিংবা হাতাহাতি কোনো পক্ষের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনে না; বরং বিরোধকে আরও উসকে দেয়। সহজ এ সত্যটি রাজনৈতিক দলগুলো বার বার ভুলে যায়। ফলে সংঘাত, সহিংসতার আগুনে পুড়ে ছাই হয় সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক দলগুলো যেখানে ভালো কাজের প্রতিযোগিতা করা উচিত ছিল সেখানে ক্ষমতা ও লুটপাটের অসুস্থ প্রতিযোগিতা হয়। ক্ষমতার বাইরে থাকাকালীন গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন। কিন্তু যখনই দেশের শাসনভার হাতে পান তখনই চরিত্রের ভেতর ফ্যাসিবাদের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠে। একটি স্বাধীন জাতির জন্য এর চেয়ে বেদনাদায়ক ও ট্র্যাজেডি আর কী হতে পারে! স্বাধীনতার পর এদেশের মানুষ বুকভরে স্বপ্ন দেখেছিল যে, দীর্ঘ নিপীড়নের অবসান ঘটিয়ে হয়তো একটি সুন্দর, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে উঠবে। কিন্তু আদোও কী নিরাপদ দেশ গড়ে উঠেছে। উঠেনি। যারা ক্ষমতায় থাকেন তারা ভাবেন চিরদিন আমরাই রাজত্ব করব। অখচ ইতিহাস বলে যে-চিরদিন কারও সমান যায় না, আজ আমার কাল তোমার। ইতিহাসের পাতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো আজও একই ক্ষমতার অপসংস্কৃতির বৃত্তে আবর্তিত হয়ে চলেছে। দীর্ঘ দশকের ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটলেও বাংলাদেশ কি পুরোপুরি ফ্যাসিবাদমুক্ত হতে পেরেছে? অথচ এই ফ্যাসিবাদের বিদায়ঘণ্টা বাজাতে গিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে (৫ আগস্ট) অজস্র তাজা প্রাণ অকালে ঝরে গেছে। সেদিন রাজধানীর ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকায় পুলিশের গুলীতে শহীদ হয় মাত্র ১৬ বছর বয়সি কিশোর শাহরিয়ার খান আনাস। মিছিলে যাওয়ার আগে মা ও বাবার উদ্দেশ্যে রেখে যাওয়া তার সেই মর্মস্পর্শী চিঠিটি নাড়া দিয়েছে পুরো বাংলাদেশকে। আনাস লিখেছিল- মা আমি মিছিলে যাচ্ছি। আমি নিজেকে আর আটকিয়ে রাখতে পারলাম না। সরি আম্মুজান। তোমার কথা অমান্য করে বের হলাম। স্বার্থপরের মতো ঘরে বসে থাকতে পারলাম না। আমাদের ভাইরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে রাজপথে নেমে সংগ্রাম করে যাচ্ছে, অকাতরে নিজেদের জীবন বিসর্জন দিচ্ছে। একটি প্রতিবন্ধী কিশোর ৭ বছরের বাচ্চা, ল্যাংড়া মানুষ যদি সংগ্রামে নামতে পারে, তাহলে আমি কেন বসে থাক ঘরে? একদিন তো মরতে হবেই। তাই মৃত্যুর ভয় করে স্বার্থপরের মতো ঘরে বসে না থেকে সংগ্রামে নেমে গুলী খেয়ে বীরের মতো মৃত্যু অধিক শ্রেষ্ঠ। যে অন্যের জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে দেয়, সে-ই প্রকৃত মানুষ। আমি যদি বেঁচে না ফিরি, তবে কষ্ট না পেয়ে গর্বিত হয়ো। জীবনের প্রতিটি ভুলের জন্য ক্ষমা চাই। ইতি, আনাস। কিশোর আনাসের এই রক্তমাখা চিঠি এবং তার আত্মত্যাগ কেবল একটি পরিবারের জন্যই নয়; বরং সমগ্র জাতির বিবেকের কাছে এক চিরকালীন প্রশ্নচিহ্ন। দেশের নীতিনির্ধারক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের হৃদয়ে এই শহীদের আকুতি আলোড়ন জাগিয়ে তুলুক- এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে ২০৯টি (জোটগতভাবে ২১২টি) আসন লাভ করে সরকার গঠন করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি এবং জোটগতভাবে ৭৭টি আসনে জয়লাভ করে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরাসরি দেশের শাসনভার গ্রহণ করতে না পারলেও দেশের প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া ছিল একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও স্মরণীয় ঘটনা। নির্বাচনের আগে দলটির সরকার গঠন করার জোরালো গুঞ্জন থাকায় ভোটের পর সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা বিন্ময় জাগা স্বাভাবিক ছিল- এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা.শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজনৈতিক পরিপক্কতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন ‘‘কষ্ট হলেও আমরা এ নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি। এ পর্যন্ত ভোট যেভাবে হয়েছে, ফলাফলে যদি একই ধারা অব্যাহত থাকে এবং বড় ধরনের কোনো অনিয়ম বা ইন্টারফেয়ারেন্স (হস্তক্ষেপ) না হয়-তবে যে যা-ই বলুক আমরা তা মেনে নেব ইনশাআল্লাহ। এর আগে নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি ঘোষণা করেছিলেন-রাষ্ট্র হবে সবার, সরকার হবে জনগণের। তাঁর এ স্লোগানের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা। তিনি এমন এক বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে কেবল পারিবারিক পরিচয়ে কেউ দেশের চালকের আসনে বসতে পারবে না। পরবর্তীতে সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের দেয়া বক্তব্যটি ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল এক দৃষ্টান্ত। তাঁর বক্তব্যে কোনো ধরনের হিংসা বা অন্ধ বিদ্বেষের লেশমাত্র ছিল না। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে স্পষ্ট করেন যে, বিরোধী দল হিসেবে তাঁরা সরকারের অন্ধ বিরোধিতা করবেন না; বরং দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় তাঁরা সরকারকে গঠনমূলক সহযোগিতা করবেন। তবে জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ বা জনস্বার্থের সামান্য ঘাটতি দেখা দিলে তাঁরা আপসহীনভাবে তার প্রতিবাদ জানাবেন। পাশাপাশি, দেশ থেকে সব ধরনের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং অনিয়ম দূর করার ওপর তিনি জোরালো তাগিদ দেন এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার দাবি জানান। বিগত দিনের গতানুগতিক সংঘাতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি ইনসাফভিত্তিক, মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পক্ষে তাঁর এই বক্তব্য বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ থাকুক এবং জাতীয় স্বার্থে তা অটুট থাকুক-এটাই দেশের আপামর জনসাধারণের মনেপ্রাণে প্রত্যাশা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো বিএনপির কিছু নেতার বক্তব্যে প্রায়ই আওয়ামী লীগের আমলের সেই পুরো রাজনৈতিক বয়ান ও তকমার প্রতিধ্বনি শোনা যায়, যা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জামায়াতে ইসলামীকে কোণঠাসা করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক বিজয় বা ছোটখাটো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বা দলের বিরোধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা সংঘাত ও সহিংসতার মাত্রাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ও উদ্বেগজনক রূপ সম্প্রতি দেখা গেছে পাবনায়। গত ২৪ জুলাই শুক্রবার পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে গেলে স্থানীয় বিএনপির কিছু কর্মী-সমর্থক তাতে বাধা দেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, জুমার খুতবার সময় মসজিদের পবিত্র পরিবেশ ক্ষুণ্ন করে ভেতরে হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার বিষয়ে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোমেন বলেন, আমি ক্ষমতা প্রদর্শন করতে বা ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে নামাজ পড়াতে যাইনি। স্থানীয়দের দাবির মুখে গিয়েছি। খুতবার সময় বিএনপির নেতা কর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাইরে থেকে লোক এনে ঝামেলা সৃষ্টি করে এবং জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা কর্মীদের মারধর করে ও দোকানে লুটপাট চালায়। মসজিদের মতো একটি পবিত্র স্থানে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা এবং এই ধরনের ন্যাক্কারজনক সংঘাত সাধারণ মানুষকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। রাজনীতির মাঠের দ্বন্দ্ব যখন মসজিদ পর্যন্ত গড়ায় তখন তা সুস্থ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য এক অশনি সংকেত। এই ধরনের হীন ও সংঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক আচরণ থেকে বেরিয়ে এসে সব দলের নেতাকর্মীদের আরও বেশি সহনশীলতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়া জরুরি।

ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ জমানায় মসজিদ ও ওয়াজ মাহফিল পর্যন্ত কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে রাখার নজির রয়েছে। সেই সময়ে দেশের আলেম-ওলামারা স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশ ও কথা বলার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এ দেশের মানুষ অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ এবং তারা স্বভাবতই এমন একজন শাসক বা নেতা প্রত্যাশা করেন, যিনি সৎ ও আল্লাহভীরু হবেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদ তাড়ানোর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একদল তরুণ সংসদ সদস্যের আবির্ভাব ঘটেছে, যারা আলেম না হয়েও ইসলামের মৌলিক জ্ঞান ও মসজিদে খুতবা দেয়ার মতো অনন্য যোগ্যতার অধিকারী। সেদিক থেকে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের মতো তরুণ ও ধর্মমনস্ক নেতাদের ভূমিকা ইতিবাচক আলোচনার জম্ম দিয়েছে যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে আমাদের যুগশ্রেষ্ঠ আলেম-ওলামাগণ রাতের আঁধারে চোখের পানি ফেলে আরশের মালিকের দরবারে ফরিয়াদ করেছেন। বর্তমান সরকার যদি সেই পুরোনো নিপীড়নের পথেই হাঁটে, তবে তা এ জাতির জন্য অত্যন্ত ন্যক্কারজনক হবে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা রাষ্ট্রীয় কাজে পরিপূর্ণ সততার দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ সৎ নেতৃত্ব যেমন পাইনি, তেমনি মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে জাতিকে সঠিক পথ দেখানোর মতো আদর্শ ও যোগ্যতাসম্পন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্বও আমাদের ভাগ্যে পুরোপুরি জোটেনি।

সাধারণ মানুষ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার এই অপ্রয়োজনীয় বিরোধ কোনোভাবেই ভালোভাবে দেখছে না। দেশের স্বার্থে দলগুলোর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গঠনে কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবে ঘটছে তার সম্পূর্ণ উল্টোটা। পাবনার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই যশোর ৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুলের যশোর শহরের নীলগঞ্জ প্রফেসর পাড়া এলাকার বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। ১ মার্চ চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের হাসাদহ বাজারে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার ভাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গত ১৭ জুলাই ঈশ্বরদীতে জুলাই শহীদ দিবস এর এক আলোচনা সভায় পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন জনির সঙ্গে প্রকাশ্য বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। সভায় এমপি মহোদয় গণভোট ও জুলাই সনদের প্রসঙ্গ টেনে সংবিধান সংস্কারের কথা বললে-ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদ আনোয়ার হোসেন জনি দাঁড়িয়ে এর তীব্র আপত্তি জানান এবং উত্তেজিত হয়ে বলেন-আপনি সরকারের বিরুদ্ধে এভাবে কথা বলতে পারেন না। সরকারি দলের কোনা সমালোচনা করা যাবে না। সমালোচনায় বাধা দেয়ার এই মানসিকতা মূলত পুরোনো স্বৈরাচারী রাজনীতিরই পুনরাবৃত্তি যেখানে আওয়ামী স্টাইলে ভিন্নমতকে দমন ও প্রতিরোধ করার প্রবণতা শুরু হয়েছে। বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা এবং দমনমূলক আচরণ আজ এমন একপর্যায়ে পৌঁছেছে যা একটি স্বাধীন ও উদ্বেগ চিন্তামুক্ত সমাজ গঠনে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতএব দেশের স্বার্থে সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়কেই হিংসা, বিদ্বেষ, অন্ধ দলীয় প্রীতি ও আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতি পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং গণতান্ত্রিক সহনশীলতা বজায় রেখেই কেবল একটি বৈষম্যহীন ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।