টানা বৃষ্টির অজুহাত ছাড়েনি সবজির বাজারকে। বৃষ্টির কারণ দেখিয়ে এখনও চড়া দাম সব ধরনের সবজির। যার মধ্যে বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি। বাজারে লম্বা বেগুন ১২০ টাকা বিক্রি হলেও গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা, বাকি সবজিগুলো ৮০ থেকে ১২০ টাকার ঘরে। এ ছাড়া, কাঁচা মরিচের কেজি প্রায় ৪০০ ছুঁই ছুঁই। মান ও জাত ভেদে বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায়।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে ফসলের খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই সবজির দাম বাড়তি। আরও কিছুদিন সবজির এমন বাড়তি দামই থাকবে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ঢ্যাঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, কাঁকরোল প্রতি কেজি ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৮০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১৩০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ১২০ টাকা ও জালি প্রতি পিস ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া, লম্বা বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, গোল বেগুন প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ধন্দুল প্রতিকেজি ১০০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ১২০ টাকা, লতি প্রতি কেজি ১০০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ জাত ও মান ভেদে প্রতি কেজি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর মালিবাগ বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সাদিকুল ইসলাম বলেন, গত তিন দিন যাবৎ সবজির দাম অতিরিক্ত বেশি যাচ্ছে। কিছুদিন আগে বৃষ্টি ছিলো, এখন সেভাবে বৃষ্টি নেই, তবুও দাম অতিরিক্ত বেশি। আজকে বাজারে বেগুন দেড়শো টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর কাঁচা মরিচ ৪০০ টাকা ছুঁই ছুঁই। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে মালের সরবরাহ কম, কারণ বৃষ্টিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাজারে এখন বলতে গেলে দুই একটা সবজি ১০০ টাকার নিচে, বাকি সব ১০০ টাকার ওপর। এত বেশি দামে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য সবজি কিনে খাওয়া কঠিন। সবজি দাম বৃদ্ধির বিষয়ে রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা মোজাম্মেল হক বলেন, গেল কিছুদিন যাবৎই সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। মূলত বৃষ্টির কারণে ফসলের খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কাঁচা মরিচের গাছ নষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে বাজারে সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম। টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকরা ফসলের খেত থেকে সবজি তুলতে পারছেন না, সব মিলিয়ে বাজারে সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। আরও কিছুদিন সবজির দাম এমন বাড়তি থাকবে। তিনি বলেন, আজকের বাজারে বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি। গোল বেগুন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া, কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৩৮০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির মধ্যে মিষ্টি কুমড়া আর পেঁপের দাম কিছুটা কম। বাকি সব সবজি ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ বা ১২০ টাকার মতো বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, ডিম-মুরগির বাজারে গিয়ে দেখা গেছে গত সপ্তাহের তুলনায় আরও কিছুটা বেড়েছে ফার্মের ডিমের দাম। গত সপ্তাহে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা ডজন দরে ডিম বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা। আর একমাস আগে এ ডিমের দাম ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। অন্যদিকে, প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা ও সোনালি জাতের মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুলনায় কাঁচা মরিচে ট্রিপল সেঞ্চুরি, বেড়েছে পেঁয়াজের দামও
আমাদের খুলনা ব্যুরো জানায়
খুলনায় ট্রিপল সেঞ্চুরি পার করেছে কাঁচা মরিচের দাম। এখন এই নিত্যপণ্যটি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩২০ টাকা দরে। থেমে নেই পেঁয়াজের দামও। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। পাড়া মহল্লায় আরও বেশি দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। অতিবৃষ্টিতে কাঁচা মরিচের ফলন কম হওয়ায় দাম বেড়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। আর নিত্যপণ্য দুইটির দাম বৃদ্ধিকে ব্যবসায়ীদের কারসাজি বলেছেন ক্রেতারা।
নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৩২০ আর পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৫৫-৬০ টাকায়। যা গত ১৫ দিন আগেও কাঁচা মরিচ ১৬০-২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩৩-৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
রূপসা বাজারের ব্যবসায়ী মো. আলামিন বলেন, ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা দরে বিক্রি করছি। দামের পত্তা থাকায় গত বুধবারও ২৫০ গ্রাম ৭০ টকায় বিক্রি করেছি। কিন্তু দামের পত্তা না থাকায় কেজি ৩২০ টাকায় বিক্রি করছি।
বড় বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে এক নাগাড়ে ভারী বর্ষণ চলছে। বৃষ্টিতে মরিচ গাছ পচে যায়। ফলন পাওয়া যায় না। তাই চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি না থাকায় পণ্যটির দাম বেড়ে গেছে।
মিস্ত্রিপাড়ার ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে অনেক গাছ মরে গেছে। ডুমুরিয়া ও শরাফপুর গিয়ে সেখানে কাঁচামরিচ পাওয়া যায়নি। তাছাড়া খুলনার পাইকারি বাজার ট্রাক টার্মিনালে গিয়েও পণ্যটি পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনের তুলনায় কম পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে খুলনার বড় বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ বাণিজ্য ভাণ্ডারের মালিক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের আমদানি খুবই কম। বড় বাজার ও সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনাল কাঁচা বাজারে ফরিদপুর, শৈলকূপা, কুষ্টিয়া ও মাগুরার মোকাম থেকে এ পণ্যটি আমদানি করা হয়। এসব মোকামগুলোতে পেঁয়াজের সংকট থাকায় ব্যাপারীদের সেখান থেকে বেশি দামে কিনে এখানে তা বিক্রি করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের এ সময়ে আমরা একই দামে পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। চৈত্র মাসে থেকে এ পণ্যটি বাজারজাত করছেন উল্লিখিত এলাকার কৃষকরা। আমদানি কম থাকায় দাম বেড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনালের ব্যবসায়ী ও মোরেলগঞ্জ বাণিজ্য ভাণ্ডারের কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পেঁয়াজ চাষিরা ঘর থেকে পণ্যটি বের করতে পারেনি। তাছাড়া বৃষ্টির মওসুমে কৃষকরা পাট চাষের দিকে মুখাপেক্ষী হচ্ছেন। যে কারণে মোকামগুলোতে আমদানি কম হওয়া পণ্যটির দাম বেড়েছে। পাঁচ কেজির এক দাড়ি তিনি ২৪০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।
বড় বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী গোবিন্দা সাহা বলেন, গত ১০ দিন ধরে এ পণ্যটি ৫০টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া আড়তগুলোতে দাম বেশি হওয়ায় তাকে বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান। একই বাজারে কথা হয় সখিনা বেগমের সাথে। তিনি বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের দাম বেড়েছে। এখন থেকে পেঁয়াজের জন্য আরও অতিরিক্ত ২০ টাকা করে গুণতে হবে। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বলেন, আমাদের যেতেও একবার কাটে, আসতেও কাটে। আমাদের ব্যবসায়ী থেকে সরকার পর্যন্ত সকলেই কাটে। আমাদের অবস্থা দেখার মতো কেউ নেই।