মাহবুবুল হক
দেশে ফিরে এসে জনাব তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান।’ আমার একটি পরিকল্পনা আছে। কী সে পরিকল্পনা, তা তিনি বলেননি বা খোলাসা করেননি। তবে বিষয়টি রাজনৈতিক মহলসহ দেশবাসীর মনে তাৎক্ষণিকভাবে একটা বিরাট চমক সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে তাদের প্রশ্ন, জিজ্ঞাসা বা কৌতূহলের কোনো অভাব এখনো কমে যায়নি। এ বিষয়ে লেখালেখি বা বলাবলি চলছেই। যেকোন টকশো, আড্ডা, আলাপ -আলোচনা, বৈঠকে বিষয়টি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই উদ্ভাসিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান জীবন যাপন, কথাবার্তা, চালচলন, এক ধরনের পোশাক-আশাক, সহজ-সরল মেলামেশা, রাষ্ট্রীয় খরচ কমানো, কৃচ্ছতা সাধন, ইত্যাদির মধ্যেও উপর মহল থেকে সাধারণ মহল পর্যন্ত সবাই মনে করছেন, এর মধ্যেও হয়তো তার ঘোষিত পরিকল্পনা বিরাজিত রয়েছে।
ইতিমধ্যে প্রায় প্রতিদিনই তিনি নতুন নতুন কিছু বিষয় উদ্ভাসিত করছেন। যে কাজগুলো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন হলেও উন্নত দেশসহ অন্যান্য দেশে একেবারে নতুন কিছু নয়। একেবারে সাদামাটা সাধারণ বিষয়। দেশবাসী মনে করছেন, ইতিমধ্যে দ্রুততার সাথে যা কিছু তিনি দেশবাসীর সামনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিয়ে আসলেন, তার অধিকাংশই ছিল তাঁর শহীদ পিতার দৃষ্টান্ত বা উদাহরণ।
বিলাতে প্রায় ১৭ বছর অবস্থান করে কিছু জ্ঞান গরিমা তাঁর মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রবিষ্ট হয়েছে। তাঁর একুয়ারিং নলেজ নিশ্চয়ই অনেক বেড়েছে। তিনি তো শুধু সেখানে অবসর জীবনযাপন করেননি। সম্পূর্ণ জীবন্ত সময় অতিবাহিত করেছেন। রাষ্ট্রসমূহ দেখেছেন, সরকারসমূহ দেখেছেন, বিরোধী দলের কাজকর্ম দেখেছেন।
সেসব অভিজ্ঞতা তিনি সেখানে অবস্থান করার সময় কালেও বাংলাদেশে তার দলের মানুষসহ গোটা দেশবাসীর সামনে নিত্য সঞ্চারিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর অনলাইনের নিত্য কথা মালা শিক্ষিত সমাজ উপভোগও করেছে। বিরোধীদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর লিখিত অনলাইন ভাষণকে মিডিয়ার খবর পাঠকের সাথে তুলনাও করেছেন। ভালো মন্দ মিলিয়ে সেসব একেবারে গ্রহণযোগ্য ছিল না, সে কথা তাঁর শত্রুরাও বলেনি বা আগামীতেও বলবে না।
তিনি দেশে ফিরে আসার পরপরই তাঁর সেলিব্রেটি মাতা ইন্তিকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি ছিলেন বিএনপি’র চেয়ারপার্সন। তাঁর পুত্র জনাব তারেক ছিলেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। মাতার ইন্তিকালের পর তিনি পার্টির চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হন। এরই পরপর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো হস্তক্ষেপ করেছেন, তা প্রত্যক্ষভাবে দৃষ্টিগোচর না হলেও তাঁর দল বিএনপি যে নানা প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং করে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, তা বলাই বাহুল্য।
নির্বাচনকালে যাঁরা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সরকার বা নির্বাচন কমিশন থেকে সুবিচার পাননি, তাদের মধ্যে অনেকেই তো এরই মধ্যে মামলা মোকদ্দমা ঠুকে দিয়েছেন। সুতরাং ২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন আশানুরূপ হয়েছে কিনা, সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে নানা ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং যে হয়েছে সে বিষয়ে দেশ-বিদেশের পত্রপত্রিকা, মিডিয়া ইত্যাদিতে বহুলভাবে প্রকাশিত হয়েছে। তবে নিরঙ্কুশভাবে নির্বাচিত হবার পরপরই বিএনপির দলীয় প্রধান জনাব তারেক বিজয় উৎসব করতে দেননি। বিএনপি দেশে-বিদেশে বিপুলভাবে উৎসব করতে চেয়েছিল, তারেক জিয়া সরাসরি উৎসব করতে নিষেধ করেছেন। এ বিষয়টিকেও দেশ-বিদেশে বিপুলভাবে অভিনন্দন জানানো হয়। সবকিছু মিলে সাধারণভাবে যে যোগ বিয়োগ করা হয়, তাতে অধিকাংশ মানুষ, তিনি বিএনপির হোন বা না হোন প্রকাশ্যে মত প্রকাশ করেছেন যে, তারেক জিয়া বিদেশে অবস্থানকালে বিএনপি ছিল এক রকম, তারেক জিয়া ফিরে আসার পর বিশেষ করে তাঁর জনপ্রিয় মাতার ইন্তিকালের পর বিএনপির আকৃতি ও প্রকৃতি হয়েছে ভিন্ন রকম। ফলে বিএনপি অনেকটা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে সক্ষম হয়েছে। না হলে তারা সুন্দরভাবে, সুষ্ঠুভাবে, নির্বাচন করতে পারত না। অন্যদিকে, তারেক জিয়া যখন ব্রিটেনে ছিলেন, তখন তিনি এত জনপ্রিয় ছিলেন না। বাংলাদেশের ফিরে আসার পর একদিকে যেমন তাঁর কপাল খুলেছে, অন্যদিকে বিএনপিরও কপাল খুলেছে। ফলশ্রুতিতে অত্যন্ত সহজ সরলভাবে তারেক জিয়া হন নবতর সরকারের প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে তিনি দলেরও প্রধান থাকেন। ফলে তাঁর জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা খুব সহজ হয়ে যায়। মায়ের ইন্তিকালের পরপর ক্ষমতা গ্রহণ থেকে শুরু করে তাঁর যাপিত জীবনে জোয়ার ছাড়া ভাটার কোনো লক্ষণ এখনো পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।
বিএনপির দেশীয় ও বিদেশী বন্ধুরা চেয়েছিল, জামায়াতে ইসলামী যেন প্রধান বিরোধী দল না হয়। কিন্তু যতটুকু জানা যায়, তারেক জিয়া এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিতেও কোনো ধরনের কোনো হস্তক্ষেপ করেননি। স্বাভাবিক রাজনৈতিক অবস্থাকে অস্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে যেতে চাননি।
বিরোধীদল গঠিত হওয়ার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রমাদান মাসে এক বিরাট ও বিশাল ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। সেখানে জামায়াতে ইসলামী সরকার প্রধানকে প্রধান মেহমান হিসেবে দাওয়াত প্রদান করে। অনেকেই ভেবেছিলন সরকার প্রধান হয়তো এ দাওয়াত কবুল করবেন না। কিন্তু না , দেখা গেল, প্রধানমন্ত্রী দাওয়াত কবুল করে সুন্দরভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। দাওয়াত স্থলে তিনি বেশ সহজ সরল সুন্দর কথা বলেছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এসবই হলো তাঁর প্ল্যান। সহজ সরল স্বাভাবিক থাকা। এসব কারণে জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি পূর্বের তুলনায় অনেকটা এখন শান্ত।
সরকার গঠনের পর মাত্র ২১ দিনের মধ্যেই তিনি বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছেন।যেমন ফ্যামিলি কার্ড। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম একটি প্রতিশ্রুতি ছিল ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তন করা। নির্বাচনের আগে ও পরে এ ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে নানা অপপ্রচার করা হয়েছিল। বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয়েছিল, দেশবাসী বিষয়টি সহজভাবে অনুধাবন করতেও পারেনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ১০ই মার্চ ফ্যামিলি গ্রাহক কর্মসূচির উদ্বোধন করার ঘোষণা দেন এবং সে অনুযায়ী ঘোষণাটি বাস্তবায়িতও করেন।যার মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। রমাদানের মধ্যে প্রতিটি পরিবারে স্ত্রী বা সন্তান-সন্ততির মাতাকে ফ্যামিলির প্রধান করা হয়। ১০ই মার্চ অর্থাৎ যেদিন ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করা হয় সেদিন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় রেডিও টেলিভিশনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলকালাম কান্ড দেখা যায়। যেসব মহিলা বা গিন্নি কার্ড পেয়েছেন, তারা আনন্দে বারবার চোখ মুছেছেন। সরকারের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছেন এবং একথাও বলেছেন এই আড়াই হাজার টাকার বিনিময়ে আমরা যেন আড়াই লক্ষ টাকা পেলাম। অভাব অনটনের সময় এই কার্ড আমাদেরকে অনেক কিছু দিয়েছে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে আরেকটি প্রতিশ্রুতি ছিল কৃষক কার্ড। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ১৪ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ দেশের চার জেলার নয়টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। বিএনপি সরকারের এই কর্মসূচির আওতায় দেশে প্রায় ২৫ হাজার কৃষক উপকৃত হবে।
ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত যে সমস্ত কৃষকের ব্যাংক ঋণ রয়েছে, তাদের সেই খেলাপি ঋণ মওকুফ করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে যথাযোগ্য কার্যক্রম এগিয়ে চলছে বলে তথ্যসূত্রে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই জনগণের চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য ও আধুনিক করতে হেলথকার্ড চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। এর কার্যক্রম হবে বহুমুখী। বিশেষ করে দরিদ্র জনগণ এই সেবার সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে যে নির্দেশ দিয়েছেন তাতে এ গার্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবাকে ডিজিটাল প্লাটফর্মে নিয়ে আসা যাবে।
জনগণ এবার একটি বিষয়ে দারুনভাবে খুশি হয়েছে, তা হল দেশের মসজিদসমূহের খতিব, ইমাম ও মোয়াজ্জিন, হিন্দু মন্দিরের পুরোহিত, সহকারী পুরোহিত, বৌদ্ধ মন্দিরের পুরোহিত ও সহকারী পুরোহিত, খ্রিস্টানদের যাজক ও পুরোহিত চিরটাকাল নিয়মিতভাবে কোনো বেতন ভাতা সরকার থেকে পেতেন না। চার্চের অভিভাবকগণ উপর্যুক্ত সম্মানিয় ব্যক্তিদের কিছুটা সম্মানি ভাতা প্রদান করে আসছেন। এতে করে তারা নিজেদের প্রয়োজন কখনো মেটাতে পারতেন না। তারা অভাব অনটনের মধ্যেই দিন কাটাতেন। বিষয়টি নিয়ে কোন সরকার বিশেষভাবে ভাবনা চিন্তা করেছেন বলে তেমনভাবে কখনো জানা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এছাড়া খাল খনন ও পুনঃখননের কাজও শুরু করা হয়েছে। এটা ছিল শহীদ জিয়াউর রহমানের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ। এ উদ্যোগের ফিডব্যাক করার জন্য তিনি সে সময়ের তথ্য মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের একটি বিভাগ গবেষণা ও তথ্য সংরক্ষণ বিভাগ বিষয়টির পুঙ্খানুপুঙ্খ ফিডব্যাক সরকারকে বিশেষ করে শহীদ জিয়াউর রহমান কে সেসময় পেশ করেছিলেন। ফিডব্যাক এর প্রধান ব্যক্তি ছিলেন ঝানু সাংবাদিক ও সম্পাদক নুরুল ইসলাম পাটোয়ারী। শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশাল আমলে মাত্র চারটি সংবাদপত্র জিন্দা রেখে দেশের সমস্ত পত্রপত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই চারটি পত্রিকার অন্যতম সম্পাদক ছিলেন নুরুল ইসলাম পাটোয়ারী। তিনি মূলত ছিলেন আওয়ামী লীগ ঘেসা প্রবীণ সাংবাদিক ও সম্পাদক। শেষ দিকে ছিলেন দৈনিক বাংলার সম্পাদক।
দেশের সংবাদপত্র বন্ধ করায় প্রবীণ ও মধ্য বয়সের বহু সাংবাদিক বেকার হয়ে পড়েন। সে হাজার হাজার বেকার সাংবাদিককে সরকার সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ,অধিদপ্তর ও দপ্তরে এবজর্ব করার চেষ্টা করেন। সম্পাদক ও সাংবাদিক, এদেরকে বানানো হয় সরকারি, আধা সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তর ও দপ্তরের কর্মকর্তা, অধিকর্তা, অফিসার ও কর্মচারী। তবে এখানে বলে রাখা ভালো যে সরকার সবাইকে সে সময় চাকরি প্রদান করতে পারেনি। অনেকে সরকারের দেওয়া চাকরিতে এবজর্বও হননি।
শহীদ জিয়াউর রহমানের উদ্দেশ্য ছিল, নদী, খাল ও বিলে সারা বছর পানি বজায় রাখা। সংরক্ষণ করা। যাতে সারা বছর চাষবাস করা যায়। পানির অভাবে যেন চাষবাস বন্ধ হয়ে না যায়। ভারত তো পাকিস্তান আমল থেকেই পূর্ব বাংলায় বা পূর্ব পাকিস্তানে পানির প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। পাকিস্তান আমলেই ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের যখন পানির প্রয়োজন, তখন তারা বাঁধ বন্ধ করে রেখে পানির প্রবাহ বন্ধ করে রাখে। আবার বর্ষাকালে যখন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের পানির কোনো প্রয়োজন থাকে না, তখন তারা উজানের পানি ছেড়ে দিয়ে অর্থাৎ বাঁধগুলো ছেড়ে দিয়ে ফি বছর বন্যার সৃষ্টি করে। এভাবে আমাদের নদীগুলো সব সময় ভাঙ্গা গড়ার মধ্যে থাকে। লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিবছর গৃহ হারা হয়। মধ্যবিত্ত হতদরিদ্র হয়ে পড়ে। ব্রহ্মপুত্র, যমুনা পদ্মা ও মেঘনার কুলে কুলে ভারত সৃষ্ট বন্যার কারণে প্রতিবছরেই হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়তেই থাকে। শহীদ জিয়াউর রহমান নদী খনন করতে চেয়েছিলেন। যাতে বন্যার পানি নদীর ভাঙন সৃষ্টি করতে না পারে। সেটা ছিল তাঁর পরবর্তী প্রোগ্রাম।
এ কাজটি যদি লোক দেখানো হয়, তাহলে এর তীব্র বিরোধিতা করা উচিত। সরকার যদি আন্তরিকভাবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চায়, তাহলে সরকারি দল, বিরোধীদল, সব ধরনের রাজনীতি, ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, মতবাদ নির্বিশেষে দেশবাসীর উচিত হবে সরকারকে সহযোগিতা করা।
প্রধান বিরোধীদল তো বারবার বলছে, তারা বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করবে না। কল্যাণকর মঙ্গলময় সব কাজে বিরোধীদল সমর্থন করবে, সহযোগিতা করবে। সরকার যদি স্বাধীনতা বিরোধী ,সার্বভৌমত্ব বিরোধী, দেশবাসীর আশা-আকাক্সক্ষা বিরোধী, সমৃদ্ধির বিরোধী কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে বিরোধীদল সরকারকে বারবার প্রেসার দিবে জনগণের অকল্যাণময় ও অমঙ্গলময় কাজ কর্ম থেকে বিরত থাকতে। যদি দেশি-বিদেশি দালালদের পরামর্শে সরকার কানে তুলা দিয়ে বসে থাকে, তাহলে বিরোধীদল চুপচাপ বসে থাকবেনা। স্থান কাল পাত্র ভেদে যখন যা প্রয়োজন তখন তাই করবে।
প্রধানমন্ত্রীর নানা উদ্যোগকে বিরোধীদলসহ জনগণ ইতিমধ্যে অভিনন্দন জানিয়েছে। কিন্তু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি একসাথে চলছে না, একভাবে আগাচ্ছে না। যে ব্যবধানটা আছে অথবা যে ফারাকটা আছে তা অবশ্যই দূর করতে হবে।
বিশেষ করে ইন্ডিয়ার জাতীয় নির্বাচনের পর সরকারি দল বিজেপি সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া পশ্চিমবাংলাসহ সারা ভারতে গো রক্ষা, মসজিদ, মাদ্রাসাও এতিমখানা ধ্বংস করা, অযথা মুসলিমদের উপর অযাচিতভাবে জেল, জুলুম, নির্যাতন বহু গুণে বাড়িয়ে দেওয়ার যে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন চালিয়ে যাচ্ছে তাকে যদি রোধ না করা যায়, বন্ধ করা না যায়, তাহলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামা কোন কিনারায় নিয়ে যাবে, বলা যায় না। মুসলিমদের নির্মূল করার জন্য ইন্ডিয়া যে নির্মম নিষ্ঠুর কাজ করছে, তাকে ঠেকাতে হলে, সরকারি দলের মধ্যে প্রথমে শীষা ঢালা পর্বতের মতো ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। পরবর্তীতে বিরোধী জোটকেও কাছে টেনে নিতে হবে। আমরা আমাদের দেশে মুসলিম ছাড়া অন্য সকলকে যেভাবে তাদের জান মাল ইজ্জত আব্রু রক্ষা করার জন্য জীবন দেব। ঠিক তার পাশাপাশি ইন্ডিয়াকেও তাদের বর্তমান শয়তানি ছেড়ে ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। ইন্ডিয়ার সংখ্যালঘুদের কে জীবনের বিনিময়ে হলেও রক্ষা করতে হবে।
তবে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে ধীরে সুস্থে আগাচ্ছেন, বিএনপিকেও একইভাবেভাবে আগাতে হবে।
লেখক : প্রবীণ কলামিস্ট।