ইরান যুদ্ধের আসল খেলোয়াড় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একেক সময় একেক কথার কারণে যুদ্ধ বিরতি ও শান্তি আলোচনার বিষয়টি গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছে, টাইম লাইন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে মানুষ আর ভাবছে না। একঘেয়ে ছকে ইরান যুদ্ধ চলছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। ট্রাম্প নানা রকম কথা বলায় এ নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা নিয়েও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
৪ আগস্টের খবর, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তি আসন্ন এবং সোমবার আলোচনা হবে। তবে গত সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসছে না তারা। আবার একই দিন খবর এসেছে, ইরানকে অভিনব উপায়ে শাস্তি দেওয়ার জন্য সামরিক বিশ্লেষকদের পরামর্শ চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড। ফলে বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, ঘটনা আসলে কোন দিকে গড়াচ্ছে? যুদ্ধ আবার শুরু হবে, নাকি আলোচনায় বসবে দুই পক্ষ? আর ট্রাম্পই বা কী বলতে চাইছেন? আর এ কারণেই বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ একঘেয়ে ছকে আটকে গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব হারাতে বসেছে।
আল জাজিরা জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও ইরানকে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায় “পূর্ণ আত্মসমর্পণের” হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি সমঝোতা শিগগিরই হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে তেহরানের অবস্থান ভিন্ন। ইরান জানিয়েছে, ওমানসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক আলোচনা চললেও দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং তা কোনোভাবেই বন্ধ করা হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের সামরিক সক্ষমতা জোরদারের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি তেহরান সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতিও ধরে রাখতে চায়।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যাওয়া ও কাতারের পক্ষ থেকে দূত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পত্রিকাটি বিস্তারিত জানায়নি। কিছু একটা হতে পারে এমন আভাস মিলছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমায়েল বাঘায়ি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ‘আমরা এই সময়ে কোনো দেশ থেকে প্রতিনিধি দল বা অতিথিকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছি না। হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে ওমানের সঙ্গে।’
ইরানি কর্মকর্তাদের বারবার অস্বীকার সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ওয়াশিংটন ও ইরানের মধ্যে ‘খুব ভালো আলোচনা’ চলছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের খুব ভালো আলোচনা হচ্ছে। তারা এটা স্বীকার করতে চায় না। কিন্তু হ্যাঁ, এটা কিছুটা উদ্বেগজনক।’ তিনি আরো বলেন, ‘একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পদক্ষেপ নেয়া। তারা একটি চুক্তি করতে চায়। দেখা যাক কী হয়। যদি তারা চুক্তি না করে, তবে পরিস্থিতি খুব খারাপ হবে।’ দেখা যাচ্ছে নানা সূত্র থেকেই আলোচনার বিষয়টি আসছে। আর ইরানও তা অস্বীকার করে যাচ্ছে।
কাতার কি বলছে? : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মধ্যে এক কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটছে কাতার। আল জাজিরা মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জানায়, এই সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের সাথে জোরালোভাবে সমন্বয় বজায় রেখে চলেছে পাকিস্তান ও ওমান। উভয় পক্ষের মধ্যে খসড়া প্রস্তাব লেনদেন ও আলোচনার সুযোগ তৈরির জন্য এই তিন দেশ এখন একযোগে কাজ করছে। দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো ধরনের বড় সংঘাত এড়ানোই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘কাতার রাষ্ট্রের অবস্থান পরিষ্কার। আমরা হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে চাই। একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না থাকলেও যত দ্রুত সম্ভব একটি ইতিবাচক চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করছে কাতার।
উত্তেজনা কমিয়ে কূটনীতির দুয়ার আবার খুলে দিতে আঞ্চলিক অংশীদারদের নিয়ে কাজ চলছে বলে উল্লেখ করেন মাজেদ আল-আনসারি। তিনি সংঘাত এড়াতে পাকিস্তান ও ওমানের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়ানো, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের দিকেই পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছেন মধ্যস্থতাকারীরা।
জটিলতার জন্য দায়ী ট্রাম্প : বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের বর্তমান জটিলতার জন্য ট্রাম্প দায়ী। কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্র্যাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি বলেন, একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বাড়ানো ও হামলা বন্ধ করার ঘটনার কারণে এই সংঘাত আলোচনার মাধ্যমে নিরসন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি মনে করি, এ অনেকটা একঘেয়ে ছকে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এক পর্যায়ে আলোচনার সব নির্ভরযোগ্যতা হারিয়ে যাবে। কোনো চুক্তি শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা হবে কি না, সেটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।’
এখন প্রশ্ন উঠছে, আলোচনা যেহেতু হবে না বলে জানিয়েছে ইরান, তাহলে ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধ করলেন কেন? এ প্রসঙ্গে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই তিন দেশের পক্ষ থেকে তাঁকে হামলা বন্ধ করে চুক্তি করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে তেলের দাম বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইরানের অবকাঠামোতে ট্রাম্প হামলা চালানো বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি চার ডলারের বেশি কমেছে।
ইরানকে অভিনব শাস্তি দিতে চায় সেন্ট কম : আলোচনার কথা বলা হলেও ইরানকে অভিনব উপায়ে শাস্তি দেওয়ার পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পাঠানো ইমেইলে বলা হয়েছে, আমরা নতুন সৃজনশীল ও অভিনব পন্থা খুঁজছি ইরানের ওপর চাপ তৈরি ও তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য। সিএনএন বলছে, ওই ইমেইল একাধিক সামরিক বিশ্লেষকের কাছে পাঠানো হয়। সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এভাবে ইমেইলের মাধ্যমে পরামর্শ চাওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক। এ থেকে এটি প্রকাশ পায় যে, ট্রাম্পের হাতে ইরানকে চাপে ফেলার বিকল্প সম্ভবত সীমিত।
দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র খরচ করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র : ইরানের সাথে পাঁচ মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নিজেদের বেশিরভাগ দূরপাল্লার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যাঘাতকারী ক্ষেপণাস্ত্রই খরচ করে ফেলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ভেতরেই বেশ জল্পনা ও উদ্বেগ শুরু হয়েছে। তাদের ভয়, হঠাৎ নতুন কোনো বড় যুদ্ধ বেধে গেলে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হবে মার্কিন বাহিনীকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে ৪ আগস্ট রয়টার্স জানায়, মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষ করে অ্যাটাকমস এবং নতুন প্রজন্মের প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের এর মজুদ বলতে গেলে প্রায় শেষ করে এনেছে। প্রথম দুটি সূত্রের স্পষ্ট কথা, এসব অস্ত্রের বলতে গেলে ‘সবটুকুই’ ব্যবহার করে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি আগে একদম গোপনে রাখা হলেও এখন তা হোয়াইট হাউসের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরাইলের সাথে হাত মিলিয়ে ইরানে হামলা শুরু করেন। ধারণা করা হয়েছিল, যুদ্ধ কয়েক দিনেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধের কোনো কুলকিনারা নেই। উল্টো নিজেদের অস্ত্রের ভাঁড়ার খালি হতে বসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী পরিচালনাকারী সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র তো শেষ হয়েছেই, বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে থাকা মার্কিনঘাঁটিগুলো থেকেও অস্ত্র এনে ইরান যুদ্ধে ঢালতে হচ্ছে।
তবে এই তথ্যের মুখেও হোয়াইট হাউস থেকে এক বিবৃতিতে ট্রাম্প উল্টো দাবি করেন, ‘বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে আমাদের কাছে অনেক বেশি অস্ত্র আছে, যা চাহিদার চেয়েও অনেক বেশি।’ কিন্তু বিশ্লেষক আর নথিপত্র অন্য কথা বলছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সিএসআইএস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৬৫ শতাংশ খরচ করে ফেলেছে। পাশাপাশি থাড ব্যালাস্টিক মিসাইল প্রতিরোধ ব্যবস্থার মজুদও কমেছে অন্তত ৩৮ শতাংশ। শুধু তাই নয়, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ও সাবমেরিন থেকে ছোঁড়া দূরপাল্লার টমাহক ক্রুজ মিসাইলের বিশ্বব্যাপী মজুদেরও প্রায় অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে এই পাঁচ মাসের লড়াইয়ে।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ট্রাম্প যেভাবে এই যুদ্ধ টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে খোদ ওয়াশিংটনের রাজনীতিতেও এখন তীব্র তর্কযুদ্ধ চলছে। ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও পদক্ষেপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
ট্রাম্পের এমন ভূমিকা নিয়ে ক্যাপিটল হিলের আইনপ্রণেতাদের অনেকেই কড়া সমালোচনা করছেন। তাদের বক্তব্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখানে বারবার একই চক্রের মধ্যে আটকে পড়ছে। তারা শুধু হুমকি দিচ্ছে, আবার শেষ মুহূর্তে পিছু হটছে। আর এই উপায়ে সমস্যার সমাধান যে কোনোভাবেই সম্ভব নয়, তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন মার্কিন রাজনীতিকরা।
চুক্তি নিয়ে যা জানা যাচ্ছে : বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক পানিপথ হরমুজ প্রণালি ফের খুলে দিতে মঙ্গলবার বা বুধবারের (৪ বা ৫ আগস্ট) মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের একটি সমঝোতা চুক্তি হতে পারে। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু ৪ আগস্ট উল্লেখ করেছে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সিএনবিসি-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কথা জানিয়েছেন। স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘আমরা ইরানিদের সাথে কথা বলছি। আজ বা কালকের মধ্যেই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা হরমুজ প্রণালিকে খুলে দেবে এবং এই সংঘাতকে একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে।’
সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে ইরান : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ এক মুহূর্তের জন্যও থামায়নি ইরান। দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা বলেছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে তারা আবারও সংঘাতে জড়ানোর জন্য প্রস্তুত। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, যুদ্ধবিরতির প্রতিটি মুহূর্তকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যমান সামরিক সরঞ্জাম আরও কার্যকরভাবে বাহিনীতে যুক্ত করা, ক্ষতিগ্রস্ত অস্ত্রব্যবস্থা মেরামত, নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ সমান্তরালভাবে চলেছে। তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সংঘাতে নতুন প্রজন্মের ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বিও সম্প্রতি দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির সময় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত ছিল এবং যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা আরও বাড়ানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোন সমঝোতা হলে বিশ্ব তেলের বাজারের জন্য তা সহায়ক হবে। কিন্তু ইরানে মার্কিন হামলা বন্ধের কোন সম্ভাবনা বিশ্লেষকরা দেখতে পাচ্ছেন না।