এম এ জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ): বর্ষা মৌসুমেও কাক্সিক্ষত পানি নেই শাহজাদপুরের প্রধান ৪টি নদী ও খাল-বিলে। এতে মাছ শিকার, নৌ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষার শুরুতেই প্রতিবছর নিম্নাঞ্চল হিসেবে পরিচিত শাহজাদপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়। ডুবে যায় ফসলী মাঠ, গ্রামীণ কাচা-পাকা সড়ক, হাট-বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ। নদী-নালা, খাল-বিল থৈ থৈ করে পানিতে। তবে এবার শাহজাদপুরে ভরা বর্ষাতেও পানি নেই। যমুনা,করতোয়া, বড়াল ও হুরাসাগর নদীতে কিছুটা পানি থাকলেও নদীর চারপাশের মাঠঘাট ও বিস্তীর্ণ বিলে পানি নেই বললেই চলে। ফলে এর প্রভাব পড়েছে নদী তীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগণ কয়েক বছর আগেও আষাঢ় মাসে উপজেলার নদীগুলো থাকত পানিতে টইটম্বুর। এখন গোটা উপজেলার মাঠ পানিশূন্য। জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম উদাহরণ হতে চলেছে এই উপজেলা। এক সময় ধান ও মাছের প্রাচুর্য ছিল শাহজাদপুর ও চলনবিলে। বিভিন্ন বিল ঘেঁষে থাকা শত শত দ্বীপসদৃশ গ্রাম অনেক পর্যটককে আকর্ষণ করত। বর্ষাকালে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ নৌকা যোগে বেড়াতে আসতেন। নৌভ্রমণের মাধ্যমে উপজেলার যমুনা,করতোয়া, বড়াল ও হুরাসাগর নদী আবেং তার তীরবর্তী গ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতেন তারা। সে সময় নির্মল আবহাওয়ায় স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতেন নদী পাড়ের মানুষ। অথচ বর্তমানে উপজেলায় দিন দিন তাপমাত্রা বাড়ছে। আর নদীগুলো যেন মৃত নদীতে পরিণিত হচ্ছে।
করতোয়া নদী তীরের বাসিন্দা আব্দুল গফুর সরকার বলেন, করতোয়া নদীতে একসময় সারা বছর পানি থাকত। নদী-খালে মাছ শিকার চলত। অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণেই বৃহৎ এই নদী অনেকটাই পানিশূন্য। এতে একদিকে মৎস্য সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি আবাদ।
চলতি বর্ষা মৌসুমে পানিশূন্যতায় ধুঁকছে শাহজাদপুরের বিভিন্ন গ্রামের জলাশয়গুলো। নেই তেমন বৃষ্টি। নেই মাছ। তাই অলস সময় পার করছেন এ অঞ্চলের জেলেরা। অনাহারে অর্ধাহারে কাটছে তাদের জীবন। শুকনো মৌসুমে অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চলে জেলেদের। আর বর্ষায় শুরু হয় তাদের মাছ ধরার কাজ। কিন্তু এবার বর্ষায় খাল- বিলে পানি না আসায় তারা হতাশ। কারণ মাছ বিক্রি করেই ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়াসহ সংসারের যাবতীয় খরচ যোগাতে হয় তাদের।
হুরাসাগর নদী তীরের জেলে অজয় হালদার বলেন, মাছ ধরেই চলে আমাদের জীবন জীবিকা। তাই বর্ষা শুরুর আগেই মাছ ধরার জন্য খেয়া জাল, জাকই জাল, ধুন্দি, চাঁই, পলোসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করে রেখেছি। অথচ বর্ষায় বড় মহারাজপুর, বাচড়া , নন্ধলালপুর বিলে ভরা মৌসুমেও পানি আসেনি।
রাউতারা গ্রামের জেলে খোকন হালদার বলেন, ভরা বর্ষায় বিলে পানি না থাকায় আমাদের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এবার বর্ষায় রাউতারা, পোতাজিয়ার বিলে পানি তেমনটি না আসায় তারা হতাশ। তাই জেলে সম্প্রদায়ও চরম হতাশায় দিন পার করছে কারণ মাছ বিক্রি করেই ছেলেমেয়েদের লেখাপড়াসহ সংসারের যাবতীয় খরচ জোগাতে হয় তাদের।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শাহজাদপুর নিম্নাঞ্চল হওয়ায় বর্ষার শুরুতে বিস্তীর্ণ ফসলী মাঠ প্লাবিত হয়। এতে মাটি উর্বর হওয়ার সুবাদে চাষাবাদ ভালো হয়। কিন্তু এখন বর্ষা মৌসুমেও ফসলী মাঠগুলো পানিশূন্য। আশানরুপ পানি না থাকায় উর্বরতা হৃাস পাবে চাষাবাদে চরম বিঘ্ন ঘটবে।