আধুনিক সভ্যতার নানা অগ্রগতির মধ্যেও মানুষের হাতে চতুষ্পদ প্রাণীদের ওপর নিষ্ঠুরতা ও নির্যাতনের ঘটনা থেমে নেই। রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, পরিবহন ও বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গৃহপালিত ও পথপ্রাণীদের ওপর অমানবিক আচরণের অভিযোগ প্রায়ই দেখা যায়।

বিশেষ করে কুকুর, বিড়াল, গরু, ছাগল ও ঘোড়াসহ বিভিন্ন প্রাণী নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।এমনি একটি ঘটনা প্রতিবেদকের চোখে ধরা পড়ে মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখান উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের পড়ারবাগ গ্রামের তাজুল ঢালীর একটি ঘোড়ার গাড়ি একটি ঘোড়া দিয়েই এই গাড়িটি চালান দেখা যায় বিশাল ঘাসের বোঝা এবং তিনজন মানুষ এই গাড়ির উপরে বহন করতেছে যা বহন করা ঘোড়াটির পক্ষে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য আপনি পথচারীদের সাথে আলাপ করে জানা যায় যে ঘোড়াটি লালট পালনের ক্ষেত্রেও এই তাজুল ডালি চরম অবহেলা করেন যদিও আইনে প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতার মধ্যে রয়েছে অযথা মারধর, খাবার ও পানির অভাব, অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার ব্যবস্থা না করা, অতিরিক্ত ভার বহনে বাধ্য করা এবং রাস্তায় আহত প্রাণীকে অবহেলায় ফেলে রাখা। অনেক সময় পথপ্রাণীরা যানবাহনের ধাক্কায় আহত হলেও তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন না কেউ। ফলে তারা দীর্ঘ সময় ধরে কষ্ট ভোগ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাণীরাও ব্যথা, ভয় ও কষ্ট অনুভব করতে পারে। তাই তাদের প্রতি অমানবিক আচরণ শুধু নৈতিকতার প্রশ্ন নয়, এটি একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্বের বিষয়। শিশু-কিশোরদের মধ্যেও প্রাণীর প্রতি সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীল আচরণের শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধে বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। আহত ও অসুস্থ প্রাণীদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়া, পথপ্রাণীদের খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা এবং প্রাণী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।