যশোরের ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) উদযাপন, আলোচনা সভা, প্রতিযোগিতা এবং বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জি. এম. আবু ফয়সালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝিকরগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওয়ালিয়ার রহমান। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী সচিব গাউসুল আজম। সমাপনী বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ সারাফাত হোসেন।
প্রধান অতিথি ওয়ালিয়ার রহমান বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ অনুসরণীয় আদর্শ। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, রাসূল (সা.)-এর সততা, ন্যায়পরায়ণতা, ধৈর্য, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ নিজেদের জীবনে ধারণ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নবুওয়াত লাভের আগেই মহানবী (সা.) তাঁর সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার কারণে ‘আল-আমীন’ উপাধিতে ভূষিত হন।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রেও মহানবী (সা.) ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও মহানুভবতার যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। তাঁর ক্ষমাশীল আচরণে অনুপ্রাণিত হয়ে বহু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সন্তানদের নৈতিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে পরিবারে ধৈর্য, ভালোবাসা ও ইসলামী মূল্যবোধের চর্চা নিশ্চিত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জি. এম. আবু ফয়সাল বলেন, আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ প্রজন্ম গড়ে তোলাই ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ যশোরের অন্যতম লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের মেধা ও চরিত্র বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আলোচনা সভা শেষে সিরাত, কুরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাতসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪২ জন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে বিশেষ অবদান রাখায় ৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবক সাইদুর রহমান বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষাই যথেষ্ট নয়। সন্তানদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ নিয়মিত এমন কর্মসূচি গ্রহণ করায় আমরা অভিভাবকরা সন্তুষ্ট।
অপর অভিভাবক শারমিন আক্তার বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে সন্তানদের উৎসাহ ও অংশগ্রহণ দেখে আমরা আনন্দিত। মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শভিত্তিক শিক্ষা তাদের সুন্দর মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।