কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) সংবাদদাতা : মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় সারা দেশের ন্যায় রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলাতেও পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

পরীক্ষা শুরুর আগেই সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভিড় করতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। নিয়ম অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্র প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি থাকলেও, সোয়া ৯টা থেকে পরীক্ষার্থীরা আসন গ্রহণ করে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করেন। নির্ধারিত সময়েই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা শুরু হয়।

এ বছর বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়েই শুরু হলো লিখিত পরীক্ষা। পরীক্ষা চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী।

পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কাপ্তাইয়ে ৪টি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কেন্দ্রগুলোতে নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করনে কঠোর নজরদারি রেখেছে প্রশাসন।

জানা যায়, এ বছর উপজেলায় সর্বমোট ১ হাজার ২৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে মোট ৯ শত ৩ জন পরীক্ষার্থী তিনটি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন। কেন্দ্রগুলো হলো— বড়ইছড়ি নুরুল হুদা কাদেরী উচ্চ বিদ্যালয়, নারানগিরি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং কাপ্তাই বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয়। উপজেলার একমাত্র কেন্দ্র কাপ্তাই আল আমিন নুরিয়া মাদ্রাসায় ১ শত ২৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন।পরীক্ষার প্রথম দিন কেন্দ্রগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ মাহমুদ হাসান।এছাড়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক মনোনীত বিশেষ ভিজিল্যান্স টিমের সদস্য প্রভাষক পংকজ দাশ ও প্রভাষক জনি দে বড়ইছড়ি নুরুল হুদা কাদেরী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

নান্দাইল (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে শুরু হয়েছে। পরীক্ষার প্রথম দিনে উপজেলার ৯টি কেন্দ্রে মোট ৫৯ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। তবে প্রথম দিনের পরীক্ষায় কোনো পরীক্ষার্থী বা শিক্ষক বহিষ্কৃত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর প্রত্যেকটি হল রুমে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় মোট ৩ হাজার ২২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ হাজার ১৬৬ জন উপস্থিত ছিল। অনুপস্থিত ৫৯ জনের মধ্যে সাধারণ স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থী রয়েছে।

নান্দাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মফিজুল ইসলাম জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। সকল কেন্দ্রে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা জান্নাত জানান, সরকারি নির্দেশনায় নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রতিটি কেন্দ্রে ও হল রুমে সিসি ক্যামরা স্থাপন করা হয়েছে। যাতে করে কোন ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা না ঘটে। শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ বদ্ধপরিকর।

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর)

কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়। সারা দেশের ন্যায় এখানেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

পরীক্ষা শুরুর পূর্বেই উপজেলার কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়। কেন্দ্রসমূহে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।

উপজেলার ৯টি কেন্দ্রে সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৩ হাজার ৫০৬ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১ হাজার ৬২৯ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে ৭১২ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ২৭৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রথম দিনে ৮২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।

প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা (প্রথম পত্র), মাদ্রাসা বোর্ডে কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ১১ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এবার প্রথমবারের মতো প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ভিডিও সংরক্ষণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া কেন্দ্রসচিব ব্যতীত অন্য কোনো শিক্ষক বা পরীক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের তল্লাশির মাধ্যমে কেন্দ্রে প্রবেশ করানো হচ্ছে এবং প্রতিটি কক্ষে সময় নির্দেশনার জন্য ঘড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মিন্টু দে জানান, পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রসমূহের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিল্লুর রহমান ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বনিক বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে আশা প্রকাশ করেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সম্পন্ন হবে।