দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধীদলীর নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় কমিটি ঘোষণা করেছেন। সেই সাথে সরকারের পক্ষ থেকে জ¦ালানি মন্ত্রীকে সভাপতি করে সরকারি দলের ৫ জন সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ৫ জনের নাম দেয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। পরে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান ৫ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনির্ধারিত আলোচনায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতা এ কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটির সদস্য সরকারি দলের ৫ জন। কমিটির সভাপতি জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল মোহাম্মদ টুকু। সদস্যরা হলেন, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এবি মাশরাফউদ্দিন নিজান, সংসদ সদস্য (লক্ষ্মীপুর-৪), মইনুল ইসলাম শান্ত, সংসদ সদস্য (মানিকগঞ্জ-২) এবং মিয়া নুরুদ্দিন অপু, সংসদ সদস্য (শরীয়তপুর-৩)। বিরোধী দলের সদস্যরা হলেন সাইফুল আলম খান, ঢাকা-১২; নুরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩; আবদুল বাতেন, ঢাকা-১৬; মোহাম্মদ আবুল হাসনাত, কুমিল্লা-৪; মুফতি মাওলানা আবুল হাসান, সিলেট-৫।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সংসদ অধিবেশনে সরকারি দলের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব উত্থাপন করছি। কমিটির লক্ষ্য হবে, দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বর্তমান সমস্যা সমাধানে কার্যকর পরামর্শ তৈরি করা এবং তা বাস্ত¥বায়নে সরকারকে সহায়তা করা হবে বলে জানান তিনি।
গত বুধবার অধিবেশনে দেশের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার দেওয়া বক্তব্যের সূত্র ধরে গতকাল এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বুধবার সংসদে জ¦ালানি সংকটের বিষয়ে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আসেন আমরা ঠেলাঠেলির রাজনীতি বন্ধ করি। একে অপরকে গালি দেওয়া বা দোষারোপ করা নয়, বরং কনস্ট্রাক্টিভ বা গঠনমূলক সমালোচনা করি। দেশের মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা না পারার কালচার থেকে বেরিয়ে আসার কালচারে যেতে চাই।
জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আমাদের শর্ট টার্ম, মিড টার্ম এবং লং টার্ম স্ট্র্যাটেজি থাকতে হবে। যদি সরকারি দল মনে করে একটি কমন বা যৌথ কমিটি করা দরকার, তবে আমরা তাতে সাড়া দেব। আমাদের কাছে কিছু প্রপোজাল (প্রস্তাবনা) আছে, যা আমরা সরকারের হাতে তুলে দিতে চাই।’
বিরোধী দলীয় নেতার এ বক্তব্য সাদরে গ্রহণ করে গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মাননীয় স্পিকার, আমরা সবাই একমত যে এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এর প্রভাব সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা গতকাল উনার বক্তব্যে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা যৌক্তিক। তারা প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে সরকারি ও বিরোধী দল মিলে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের স্বার্থে এই আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে পাঁচজন সদস্যের নাম ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি দলের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন বিরোধীদলীয় নেতা যদি তাদের পক্ষ থেকে আরও পাঁচজনের নাম প্রদান করেন, তবে মোট ১০ সদস্যের এই কমিটি অতিসত্বর কাজ শুর¤œ করতে পারবে। এই ১০ জন আলোচনার মাধ্যমে যে পরামর্শ দেবেন, তার মধ্যে বাস্তবতা থাকলে সরকার অবশ্যই তা কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। দেশের মানুষের স্বার্থে যে কারো সঙ্গে আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। মাননীয় স্পিকারের মাধ্যমে বিরোধী দলকে দ্র¤œত নাম জমা দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
বিরোধ দলীয় নেতা ডা, শফিকুর রহমান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও ধন্যবাদ বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেওয়ার জন্য। আমরা আশা করি সংসদ জাতীয় সকল সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে ইনশাআল্লাহ। এবং আমরা মনে করি এই সংসদের জন্য এটি একটি নবযাত্রা। এটাকে আমি সাধুবাদ জানাই এবং আমরা শীঘ্রই ইনশাআল্লাহ নামগুলো পেশ করব। সন্ধ্যার পরে তিনি নামগুলো ঘোষণা করেন।