কবির আহমদ ও আব্দুর রউফ সেলিম, হবিগঞ্জ থেকে : গত মঙ্গলবার জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র নেতাকর্র্মীদের জুলাই পদযাত্রায় বিএনপি ও ছাত্রদলের দফায় দফায় হামলার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সংগঠনটি। এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠে হবিগঞ্জ শহর ও আশপাশ এলাকা। এনসিপি ও বিএনপি পাশাপাশি কর্মসূচির ডাক দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হবিগঞ্জ শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু যেকোন কিছুর বিনিময়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে মরিয়া এনসিপি’র নেতাকর্মীরা। সাধারণ মানুষও মঙ্গলাবারের হামলার জন্য বিএনপির প্রতি যেমন ক্ষোভ ঝাড়ছে, তেমনি সহানুভূতিশীল আচরন করছে এনসিপি’র নেতাকর্মীদের সাথে। কর্মসূচিতে অংশ নিতে ঢাকা থেকে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতা ও কুমিল্লার এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ, সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতুসহ দলটির কর্মীরা হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও পথে পথে তাদের বাধা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গতকাল বুধবার রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এনসিপির এই গাড়িবহর হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলায় অবস্থিত রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র সংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে। তারা হবিগঞ্জ শহরে এখনো ঢুকতে পারেনি।

এদিকে গতকাল বুধবার এনসিপি নেতারা মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে রওনা দিয়ে বিকেল ৫টার দিকে শ্রীমঙ্গলের চা কন্যা ভাস্কর্যের সামনে পৌঁছালে পুলিশ রাস্তায় ব্যারিকেড দেয় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ। এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাহিদ ইসলাম, ডা. মাহমুদা জাহান মিতু, সারজিস আলম, নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহসহ এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দীর্ঘসময় বাগবিত-া চলে। একপর্যায়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনের দিকে অগ্রসর হন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র পর্যন্ত পৌঁছার পর তারা আর এগোতে পারেনি। বিএনপি, এনসিপি হবিগঞ্জ শহরে শক্ত অবস্থানে থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারনে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এই শহরে। পুলিশ যেকোন সময় যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সমাগম বাড়ানো হয়েছে। তবে হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল করতে তাদের শক্ত অবস্থানে রয়েছেন এনসিপি’র নেতারা। তারা গ্যাসক্ষেত্র এলাকায় অবস্থান করে গত মঙ্গলবারের হামলার প্রতিবাদে মিছিল ও বক্তব্য অব্যাহত রেখেছেন। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে বাহুবল উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার সাধারণ মানুষ।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জ জেলা শহরে পদযাত্রা ও সমাবেশ শেষে স্থানীয় বিএনপির অংঙ্গ-সংঘঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এনসিপির নেতৃবৃন্দের সংঘর্ষে বাধে। এতে সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন এনসিপি নেতারা আহত হন এবং বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার একইদিন রাতে এনসিপির পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার হবিগঞ্জে প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়। একই দিনে হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে সমাবেশের ডাক দেয়া হলে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

আমাদের মৌলভীবাজার সংবাদদাতা জানান, সমাবেশ স্থগিত করে মৌলভীবাজার ছাড়লেন জাতীয় নাগরিক পার্টি’র (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে শ্রীমঙ্গল শহর অতিক্রম করার পরই পুলিশি ব্যারিকেটে এবং রাস্তায় চা বাগানের গাড়ি এলোপাতাড়ি রেখে তাদের গতিরোধ করে পুলিশ। বুধবার বিকালে শ্রীমঙ্গল-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের চা কন্যা সাইন বোর্ড নামক জায়গায় এই ঘটনা ঘটে। এনসিপি কেন্দ্রীয় নেতারা বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাস্তায় বসে পড়েন। পুলিশের সাথে বাগবিতন্ডার এক পর্যায়ে সন্ধ্যা ৬টায় তারা ব্যারিকেট ভেঁঙে হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। বুধবার মৌলভীবাজারের রাজনগর ও কুলাউড়ায় পূর্ব নির্ধারিত সামাবেশ ছিল এনসিপি নেতাদের। হবিগঞ্জে হামলার পরেই তারা এ দুটি সমাবেশ স্থগিত করেন। জানা যায়, মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ ছিল। সমাবেশ শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা করেন। হামলায় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সহ তাদের ৭/৮ জন আহত হন। এ সময় সাংবাদিকদের বহনকারী তাদের একটি গাড়িও ভাঙচুরের অভিযোগ করেন এনসিপি নেতারা। হবিগঞ্জে হামলার পরপরই মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এনসিপি নেতারা। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এদিকে বুধবার দুপুরে ঢাকা থেকে মৌলভীবাজার আসেন এনসিপি’র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জাতীয় সংসদ সদস্য হাসানাত আব্দুল্লাহ, সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু, নাসির উদ্দীন পাটওয়ারী ও সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ। দুপুর থেকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে তারা রুদ্ধদার একাধিক বৈঠক করেন। বিকাল সাড়ে ৩টায় তারা মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজ থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। এ সময় এনসিপি’র কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রদল ও বিএনপি’র সন্ত্রাসীরা আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। আমাদের মিডিয়ার গাড়িতে হামলা করা হয়। চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে গেলে সেখানেও আমাদের উপর হামলা চালানো হয়।