রাজশাহী ব্যুরো
ঐতিহ্যবাহী জাতীয় সংবাদপত্র দৈনিক সংগ্রাম-এর রাজশাহী ব্যুরো অফিস আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ পাবলিকেসন্সের (বিপিএল) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুর রব বলেছেন, সংগ্রাম একটি জাতীয় পত্রিকা হিসেবে দীর্ঘ ৫৬ বছর ধরে নানা প্রতিকূলতা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই টিকে রয়েছে এবং এগিয়ে চলছে। অতীতে পত্রিকাটির প্রকাশনা নানা ঝুঁকির মুখে পড়লেও বর্তমানে এর উপস্থাপনা ও গেটআপ আগের তুলনায় আরো সুন্দর ও মানসম্মত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
দৈনিক সংগ্রামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মোবারক হোসাইন বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার সংগ্রাম পত্রিকাটি বন্ধ করতে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছিল। পত্রিকাটির অস্তিত্ব সংকটে ফেলতে যা যা করা সম্ভব, তার সবই করা হয়েছিল। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রাজশাহী মহানগরীর আমীর ড. কেরামত আলী এমপি বলেন, দৈনিক সংগ্রাম আমাদের নিজেদের পত্রিকা। এ পত্রিকার ঐতিহ্য ও অস্তিত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর অভিজাত রেস্টুরেন্ট আমানা ফান ভিলের কনফারেন্স রুমে দৈনিক সংগ্রামের সার্বিক উন্নয়নকল্পে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তাঁরা এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন, জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর আমীর ও জাতীয় সংসদ সদস্য ড. কেরামত আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন এবং মতবিনিময় সভা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেন দৈনিক সংগ্রামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মোবারক হোসাইন। সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক দৈনিক সংগ্রামের বিশেষ প্রতিনিধি ও রাজশাহী ব্যুরো প্রধান সরদার আবদুর রহমান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন দৈনিক সংগ্রামের বার্তা সম্পাদক সামছুল আরেফিন।
মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল খালেক, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম ও ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মহানগর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন ম-ল, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাজশাহীর ইবনে সিনা ডি-ল্যাবের ইউনিট ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান আশু, ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাবি শাখা সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান, মহানগর অফিস সম্পাদক খালিদ হাসান, ছাত্র অধিকার সম্পাদক মাসুম বিল্লাহসহ মহানগরীর দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক সংগ্রামের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আবুল হোসাইন চৌধুরী, রাজশাহী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. গোলাম মুর্তজাসহ নগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, সমাজসেবী, প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি সংগ্রামের মাতৃসংগঠন বিপিএল-এর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুর রব বলেন, একটি পত্রিকার প্রকৃত মর্যাদা নির্ভর করে উন্নতমানের সংবাদ প্রকাশ ও সার্কুলেশনের ওপর। পাঠকের আস্থা অর্জন করতে হলে বস্তুনিষ্ঠ, মানসম্পন্ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশের বিকল্প নেই। জনগণের সমস্যা, প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়েই দৈনিক সংগ্রাম কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সংগঠনের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ পাঠকরাই দৈনিক সংগ্রামের পাশে ভ্যানগার্ডের মতো দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন, ত্যাগ ও কুরবানির কারণেই অসংখ্য প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে পত্রিকাটি আজো টিকে আছে। তিনি আরো বলেন, পত্রিকার সার্কুলেশন বাড়াতে হলে সংবাদের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের কথা বললে, তাদের সুখ-দুঃখ ও সমস্যার প্রতিফলন ঘটাতে পারলেই পত্রিকাটি মানুষের আরো কাছে পৌঁছাবে। তখন দৈনিক সংগ্রাম শুধু একটি সংবাদপত্র নয়, বরং আদর্শ, সংগঠন ও দীনের বার্তা বহনকারী একটি গণমাধ্যম হিসেবেও আরো শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবে। তিনি বলেন, দৈনিক সংগ্রাম-এর সার্কুলেশন যত বাড়বে, ততই এর কলেবর, সৌন্দর্য ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এখন দৈনিক সংগ্রামকে আরো আধুনিক, সমৃদ্ধ ও উন্নত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
স্বাগত বক্তব্যে সংগ্রামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কলামিস্ট মো. মোবারক হোসাইন বলেন, পত্রিকার প্রবীণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আবুল আসাদের সম্পাদনার সময়ও প্রতিষ্ঠানটি কঠিন দমন-পীড়নের শিকার হয়। সে সময় পত্রিকা কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় এবং সম্পাদক আবুল আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনার পর একপর্যায়ে মনে হয়েছিল, হয়তো আর পত্রিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। কিন্তু সংকটময় সেই রাতেও সাহসিকতার সঙ্গে দৈনিক সংগ্রাম প্রকাশ করা হয়। তিনি বলেন, সেদিন যদি পত্রিকাটি প্রকাশ না পেতো, তাহলে মানুষের মধ্যে ধারণা সৃষ্টি হতো যে দৈনিক সংগ্রাম চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। সভাপতির বক্তব্যে ড. কেরামত আলী এমপি বলেন, দৈনিক সংগ্রাম আমাদের নিজেদের পত্রিকা। এ পত্রিকার ঐতিহ্য ও অস্তিত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সংগঠনের বিভিন্ন শাখা ও পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সংগ্রামের প্রচার-প্রসার এবং গ্রাহক বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, সংগ্রামের প্রতিবেদকদের আরো আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সংবাদ ও লেখার মানোন্নয়নের পাশাপাশি পাঠক ও গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধিতেও তাদের উদ্যোগী হতে হবে। মাঠপর্যায়ে প্রতিবেদকদের গ্রাহক সংগ্রহে বিশেষ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করলে স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করে গ্রাহক সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। সভায় অন্যান্য বক্তাগণ দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার বিভিন্ন দিক নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন এবং পত্রিকাটির সার্বিক উন্নয়ন, সংবাদমান বৃদ্ধি ও সার্কুলেশন সম্প্রসারণে বিভিন্ন গঠনমূলক পরামর্শ তুলে ধরেন।
অফিস পরিদর্শন : সংগ্রামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোবারক হোসাইন, বার্তা সম্পাদক সামছুল আরেফিন ও জেনারেল ম্যানেজার আবুল হোসাইন চৌধুরী, সংগ্রামের রাজশাহী ব্যুরো অফিস পরিদর্শন করেন। এসময় ব্যুরো চিফ সরদার আবদুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার মহিব্বুল আরেফিন, রাবি সংবাদদাতা নুর আলম নেহাল ও ফটো সাংবাদিক সোহরাব হোসেন সৌরভ প্রমুখ তাঁদের স্বাগত জানান। কর্মকর্তাবৃন্দ অফিস পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন। পরে তাঁরা রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। বার্তা সম্পাদক সামছুল আরেফিন ও জেনারেল ম্যানেজার আবুল হোসাইন চৌধুরী রাজশাহীর সংবাদপত্র এজেন্টদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।