নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার সদরদপ্তর নয়াবাড়ি মৌজায় স্থাপনে দুই মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পাগলা থানা থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে সরিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বাড়ির পাশে নয়াবাড়ি মৌজায় উপজেলা সদরদপ্তর স্থাপন কেন বে-আইনী ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল এবং অবকাঠামো নির্মাণে স্থিতিবস্থা জারি করেছে আদালত। গত ২৬ জুলাই এ সংক্রান্ত বিষয়ে দায়ের করা একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি হাবিবুল গণি ও বিচারপতি তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল হক চৌধুরী, হাসান মোহাম্মদ রিয়াদ ও মোঃ হাবিবুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষের ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ জিশান হায়দার, মোঃ আসিফ ইমরান (জিসান) এবং রুহুল আমিন সিকদার। আজ বুধবার আদালতের আদেশের কপি প্রকাশ করা হয় বলে জানিয়েছেন আইনজীবী এডভোকেট মিজানুল হক চৌধুরী।
আদালতের আদেশে বলা হয়, নতুন গঠিত "দক্ষিণ গফরগাঁও" উপজেলার সদর দপ্তর উস্থি ইউনিয়নের নয়াবাড়ি মৌজায় নির্ধারণে সরকারি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এই রিট মামলাটি দায়ের করেন দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের পাঁচুলি গ্রামের বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান ফুরকান। আদালত সরকারের দুটি প্রজ্ঞাপনকে অর্থাৎ ৮ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি হওয়া এবং ১৪ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন কেন আইনগত কর্তৃত্ববিহীন এবং কার্যকারিতাশূন্য ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন।
রুল জারির প্রধান কারণসমূহে আদালত বলছেন- কোনো প্রকার ন্যায়সঙ্গত, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ মাঠপর্যায়ের তদন্ত ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সদরদপ্তরের স্থান নির্ধারণে স্থানীয় জনসাধারণের মতামত গ্রহণ করা হয়নি। দত্তের বাজার ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যমান পাগলা থানা সদর দপ্তরের নিকটবর্তী অবস্থানকে একটি প্রাসঙ্গিক প্রশাসনিক বিষয় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ভৌগোলিক কেন্দ্রিকতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনস্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনা না করে সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছে। আদেশ জারির তারিখ হতে ০৪ (চার) সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীগণকে এই রুলের জবাব দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত, উল্লিখিত প্রজ্ঞাপন দুটির ভিত্তিতে গৃহীত বা সংশ্লিষ্ট সকল পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করা হয়েছে। বিবাদীগন হলেন- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, জাতীয় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) চেয়ারম্যান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের (অর্থ বিভাগ) সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক।
উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই নিকার বৈঠকে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের অনুমোদন দেয়া হয়। ৮ জুলাই সরকারি গেজেট প্রকাশ হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিকার-১ শাখা থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২৩তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গফরগাঁও উপজেলার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন এ উপজেলা গঠন করা হয়েছে। নতুন ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নগুলো হলো- মশাখালী, পাঁচবাগ, উস্থি, পাইথল, মশাখালী, লংগাইর, নিগুয়ারী ও দত্তেরবাজার। গেজেটে আরো বলা হয়, নতুন উপজেলার সদর দফতর স্থাপিত হবে উস্থি ইউনিয়নের আওতাধীন ১৪৩ নম্বর জে.এল.ভুক্ত নয়াবাড়ী মৌজায়। উপজেলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, উপজেলা ভূমি অফিস, থানা, উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস, কৃষি অফিস, শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের অফিস সেট-আপ অনুমোদন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন উপজেলায় মোট ২৪টি সরকারি অফিসের জন্য ২৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে কর্মকর্তা পদ ৪০টি এবং কর্মচারী পদ ১৯৮টি।
তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান বাচ্চুর ইচ্ছেয় থানা ভবন থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে এমপির বাড়ির পাশে উপজেলার সদরদপ্তর স্থানান্তরের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ফুসে উঠে দক্ষিণ গফরগাঁয়ের জনগন। সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এবং পাগলা থানার পাশে উপজেলা সদরদপ্তর স্থাপনে প্রতিদিন বিক্ষোভ-মানবন্ধন এবং নানা আন্দোলন হচ্ছে।