স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ অব্যাহত রেখে কখনো ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা যাবে না। সমাজের প্রতিটি মানুষের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করার নামই হচ্ছে জাস্টিস। জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিয়েছিল। এর অর্থ সমাজের সর্বস্তরের বৈষম্য দূর করে সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।
গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত সীরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কোটা প্রথার মতো বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসাই ছিল জুলাই আন্দোলনের অন্যতম আকাক্সক্ষা। কিন্তু বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে, পুরোনো সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের সর্বস্তরে যে নির্লজ্জ দলীয়করণ চলছে, তা অব্যাহত রেখে কখনো ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শে সমাজ গড়ে তুলতে পারলে সর্বস্তরে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। রাসূল (সা.)-এর আদর্শ শুধু ব্যক্তিজীবনে নয়, সমাজজীবনেও শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়। সমাজ থেকে অন্যায়, অনাচার, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দূর করতে হলে সীরাতুন্নবী (সা.)-এর আদর্শের ভিত্তিতে সমাজ বিনির্মাণ করতে হবে।
তিনি উপস্থিত চিকিৎসকদের মহানবী (সা.)-এর আদর্শে মানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, জুলাই আন্দোলনে আহতদের সুচিকিৎসা দিতে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের চিকিৎসকেরা যে ভূমিকা রেখেছেন, তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকারের নানা চাপ ও প্রতিকূলতার মধ্যেও ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের চিকিৎসকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জুলাই আন্দোলনে আহতদের সুচিকিৎসা দিয়েছেন। এ কারণে অনেক চিকিৎসককে হয়রানি ও বদলির শিকার হতে হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এক বিভাগের চিকিৎসককে অন্য বিভাগে বদলি করা হলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত ও জটিল হয়ে পড়ে। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও এনডিএফের চিকিৎসকেরা মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের এই আদর্শ মহানবী (সা.)-এর মানবতার আদর্শেরই প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, রাসূল (সা.)-এর আদর্শ থেকে বিচ্যুতি ঘটলে সমাজে অশান্তি নেমে আসে। বাংলাদেশে রাসূল (সা.)-এর আদর্শে সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত মানুষ শান্তির সন্ধান করতে থাকবে। মানুষের তৈরি আইনে সমাজে শান্তি আসেনি, আসবেও না। ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং এ লক্ষ্যে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি ডা. মোহাম্মদ মারুফ শাহরিয়ারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ডা. মো. নুর উদ্দিন তালুকদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন, মতিঝিল মিসবাহুল উলুম কামিল মাদ্রাসার প্রধান মুহাদ্দিস ড. মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইসলামী ভাবধারার বিভিন্ন পরিবেশনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর আদর্শ অনুসরণের প্রত্যয় এবং নৈতিক মূল্যবোধের বার্তা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিপুলসংখ্যক আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন।