বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতীতে যারা সরকার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তাদের ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশ জাতি হিসেবে যে পর্যায়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে যেতে পারেনি। বরং সমাজে বঞ্চনা, হাহাকার, বিশৃঙ্খলা, বৈষম্য ও অবিচারের পাশাপাশি মানুষের সম্মান, সম্পদ ও জীবনের ওপর আঘাতের ঘটনা অহরহ ঘটেছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর মিরপুরে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজ যাদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হচ্ছে, তারা বয়সে অনেক ছোট। একদিন তারা বড় হবে। তাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ শিক্ষার্থীদের নিয়েই তিনি সুন্দর আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন থেকেই মেধা, মনন, দক্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। মানুষ ও আল্লাহকে ভালোবাসতে পারলে তাদের মাধ্যমে সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে রাষ্ট্র এবং রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, স্কুলে মানসম্মত লেখাপড়া না হওয়ায় অনেক অভিভাবককে সন্তানদের পড়াশোনার জন্য আলাদা শিক্ষকের কাছে পাঠাতে হয়। কিন্তু সব পরিবারের পক্ষে সন্তানের জন্য আলাদা শিক্ষক রাখা সম্ভব নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত না হওয়ায় মেধাবী অনেক শিক্ষার্থীও পিছিয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশের পূর্ণ দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষক, কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কাছে পিতামাতার বিকল্প হয়ে উঠবেন—এটাই প্রত্যাশা। শিক্ষার্থীদের মানুষ করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের কারিগরের ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য কারিকুলাম, শিক্ষক, শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার পরিবেশে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক কিছু হারিয়ে জাতি এখন সংকটের মধ্যে রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধাবী, যোগ্য ও চরিত্রবান হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। তাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সৎ, দক্ষ ও বুদ্ধিমান নাগরিকদের হাতেই আগামীর বাংলাদেশ তুলে দিতে হবে।
বর্তমান সমাজের বিভিন্ন অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও অসততার যে প্রতিযোগিতা চলছে, এর অবসান ঘটাতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, তোমরা পারবে, তোমাদের পারতেই হবে। জাতিকে হারানো যাবে না, জাতিকে জিততে হবে।’ এজন্য এখন থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।