রাজনৈতিক পরিবর্তন বা বিপ্লবের আগে মানুষের মনোজগতের ঝড় তুলতে হয়। তবেই আবু স্ঈাদের মতো সাহসী তরুণরা বুকের রক্তে লিখতে পারে ‘বুকের ভিতর দারুণ ঝড় বুক পেতেছি গুলী কর’Ñ বিন্দুতে সিন্ধুভরা এমন মহাকাব্য। যে কবিতার ছন্দে মৃত্যুভয় ভুলে শাহাদাতের অন্তত জীবনসন্ধানী ছাত্র-জনতা গুলীর সামনে বুক পেতে দিতে হয় তেজদীপ্ত। দলে দলে রাজপথে নেমে আসে লাখ লাখ মুক্তিকামী সাহসী মানুষ। মুক্তির আনন্দে হাসি মুখে শাহাদাতের তামান্না নিয়ে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারের নিষ্ঠরতাকে হার মানিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো মানুষের মনোজগতে ঝড় কি স্বৈরাচারের অত্যাচার নির্যাতনের ফলেই সৃৃষ্টি হয়? হয় তো হয়, কিন্তু সেই ঝড় বৃষ্টি হয়ে ঝরে এক সময় শান্ত হয়ে যায়। স্বৈরাচার ফ্যাসিস্টের পায়ে আছড়ে পড়ে। অন্যদিকে কালবৈশাখীর বজ্র-ঝঞ্ঝা, সাইমুমের উত্তাপ ছড়িয়ে গণবিস্ফোরণ ঘটানোর শক্তি আর সাহস জাগে যখন মনের ঝড়ের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় কবি সাহিত্যিক দার্শনিকদের গদ্য,পদ্য ,গান, কবিতা, কথাসাহিত্য, নাটক, গ্রাফিতি, কার্টুনের মতো সাহিত্য-সংস্কৃতির অনুষঙ্গগুলো।
২০২৪ এ-জুলাই-আগস্টের সংগ্রামমুখর উত্তাল সময় এ সত্যের সাক্ষী হয়ে ইতিহাসের পাতায় জ্বল জ্বল করছে। সেই সংগ্রামে যেমন প্রেরণা জুগিয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, ঠিক তেমনি করে মহাকাব্য হয়ে ধরা দিয়েছে, ছোট্ট আনাসের আবেগভরা চিঠি। আর রক্তের অক্ষরে লেখা মহাকাব্য। শহীদ আনাসের হাসি মুখের অব্যক্ত কথাগুলো এখন নতুন স্বাধীনতার মহাকাব্য এবং সে দেশের প্রতিটি কিশোরের জন্য প্রেরণার বাতিঘর। আনাসের মতো এমন প্রায় দুই হাজার শহীদ তাদের বুকের তাজা রক্তে যে মহাকাব্য রচনা করে গেছেন, তাকে ধারণ করে রাখতে হবে ইতিহাসের পাতায় এবং সাহিত্য সংষ্কৃতির অনুষঙ্গ, কথাসাহিত্য,কবিতা,গান, আর্ট, নাটক, সিনেমায়। তবেই তা পারবে আমাদের ভবিষ্যতের অনাগত সংগ্রামীদের পথ দেখাতে। যেমনি করে ২০২৪ এর আন্দোলন বেগবান করছে অতীতের আগুনঝরা সাহিত্য এবং চলমান আন্দোলনের সময়ের লেখা-লেখি এবং পরিবেশনা। সময়ের সাহসী সন্তানদের সবার লেখা একটি ছোট নিবন্ধে তুলে ধরা সম্ভব নয়। উল্লেখ্যযোগ্য কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করা হলো মাত্র। ব্যাপক ভাবে সোস্যাল মিডিয়া ভাইরাল স্লোগান, দেয়াল লিখন ও গ্রাফিতিতে স্থান পাওয়া যতটুকু এই মুহূর্তে মনে পড়ছে তাই নিয়ে এ প্রযাস। এতে যারা বাদ পড়বেন তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া বিকল্প এ লেখকের উপায় নেই। এখানে বাদ পড়া মানে ইতিহাস থেকে বাদ পড়া নয়, স্মৃতিভ্রম মাত্র । তাদের কোন দিন এ জাতি ভুলবে না। ভুলতে পারবে না। যারা আন্দোলনে অংশ নিেেয় ফ্যাসিস্ট হাসিনার দুঃশাসনে শাসনে নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের মনে বিপ্লবের প্রেরণার আগুন জ্বালিয়েছেন তারা নায়ক হয়ে থাকবেন চিরদিন। বার বার ফিরে আসবেন কারো কারো লেখায়। কারণ শাসকের গুলী, বোমার সামনে বুক পেতে দেওয়ার সাহস জুগিয়েছেন। সেই সাহসের কাছে পরাজিত হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে এ শতাব্দীর কুখ্যাত ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা।
একথা অস্বীকার করার উপায় নেই, তথ্য প্রযুক্তিতে এই যুগে সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই মূলত বিপ্লবের আগুন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিলো। দেশের বাইরে প্রবাসী বাংলাদেশী এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাও সেই উত্তাপ অনুভব করে উদ্দীপ্ত হয়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলো।
মলাটবন্দী উত্তাপ
পৃথিবীর প্রতিটি পরিবর্তন বা বিপ্লবের নেপথ্যে শক্তি জোগায় দর্শন চিন্তা। এই দর্শন প্রথমে মলাটবন্দী হয় পুস্তক নামে, তারপর মানুষের মুখে , কবিতা, গান, নাটক, ছবি, কার্টুন, গ্রাফিতি হয়ে পায় জীবন্ত রূপ। তারপর মানুষের মনে জাগায় চিন্তার বিস্ফোরণ। অনেকটা দিয়াশলাইয়ের কাঠির বারুদের মতো - প্রথম একটি শলাকা, তারপর একে একে জ্বালাতে পারে হাজার বাতি। জ্বালিয়ে ভস্মীভূত করতে পারে গ্রাম জনপথ, দেশ, মহাদেশ।
তাই তো ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় অতি প্রাচীন কাল থেকেই ক্ষমতাবান ব্যক্তি অর্থাৎ- রাজা, বাদশা, সম্রাটরা কবি সাহিত্যিক দার্শনিকদের সম্মানের সাথে তাদের দরবারে তাদের খুব কাছাকাছি রাখতেন। ইতিহাসের ছাত্রদের কারো অজানা নয়- হালাকু খাঁ মতো দুর্ধর্ষ ও নিষ্ঠুর যোদ্ধা বাগদাদ আক্রমণ করে লাখ, লাখ মানুষ হত্যা করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। কিন্তু নাসির উদ্দিন তুসিকে সসম্মানে তার সাথে নিয়ে দরবারে তার পাশে বসিয়েছিলেন। তার জ্ঞানের দীপ্তি কাজে লাগিয়ে বিশ্ব জয়ের নেশায়। মোগল সম্রাট আকবরের নবরত্নের কথাও কারো অজানা নয়।
আমাদের এ বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্র নায়ক হিসেবে যার নাম ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল হয় আছে তিনি হলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি তার পাশে বসিয়েছিলেন- সেই সময়ের সেরা দার্শনিক কবি সৈয়দ আলী আহসান, আল মাহমুদ ও আবুল ফজলের মতো ব্যক্তিদের। আমজাদ হোসেনের মতো নাট্যকার ও পরিচালককে বঙ্গভবনে নিয়ে বসিয়ে নাটক লিখিয়েছেন। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে আছে এমন অনেক ঘটনা। ২০২৪ এর ইতিহাস বদলে দেয়া ঘটনার দিকে দৃষ্টিপাত করলেও পড়ে পর্দায় ভেসে ওঠে এমন অসংখ্য উপমা।
সেই উপমার একটু খানি
৩৬ জুলাই বিপ্লবের শুরু থেকে নিয়ে যাদের সাহিত্য বিপ্লবের আগুন ছড়িয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্যরা হলেন: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমেদ, আল মাহমুদ, শামসুর রাহমান, আল মুজাহিদী, সুকান্ত, ভট্টাচার্য, কবি মতিউর রহমান মল্লিক, সাজজাদ হোসাইন খান, ড. আ জ ম ওবায়দুল্লাহ, আবদুল হাই শিকদার, সোলায়মান আহাসান, মোশাররফ হোসেন খান, হাসান আলীম, আব্দুল হালীম খাঁ, শরীফ আবদুল গোফরান, জাকির আবু জাফর, ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ, শহীদ সিরাজী, ড. ফজলুল হক তুহিন, নাজিব ওয়াদুদ, এনামুল হক, রফিক মুহাম্মদ, মুর্শিদ-উল আলম, আতিক হেলাল, ফরিদ সাইয়েদ, মুহাম্মদ ইসমাইল, আলতাফ হোসেন রানা, ইবরাহীম বাহারী, আফসার নিজাম, ওয়াহিদ আল হাসান, ইয়াসিন মাহমুদ, আমিন আল আসাদ, তৌহিদুর রহমান, হাসান আকতার, আবিদ আজম, সীমান্ত আকরাম এ নিবন্ধের লেখকসহ নবীন-প্রবীণ অনেক কবির কবিতা এবং সাইমুম, সসাস, বিসিএ, সাহিত্য-সংস্কৃতি কেন্দ্র, কাকতালসহ সারা দেশের বিভিন্ন গোষ্ঠী ও ব্যান্ড এবং র্যাপার হান্নান হোসাইন শিমুল (হান্নান), শিহান, সেজানের গান তরুণদের রক্তে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো।
সাইমুম, সসাস, বিসিএ, সাহিত্য-সংস্কৃতি কেন্দ্র ভ্রামমাণ টিম খোলা ট্রাক ফ্যাসিস্ট বিরোধীগণ, কবিতা প্রচারের সময় ফ্যাসিস্ট হাসিনার পুলিশ ট্রাকসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিলো। আক্রান্ত হয়েছিলÑ জাতীয় দৈনিক সংগ্রাম, নয়া দিগন্ত। অনেক আগেই ফ্যাসিস্ট হাসিনা বন্ধ করে দিয়েছিলÑ দিগন্ত টেলিভিশন, চ্যানেল ওয়ান, ইসলামী টিভি, আমার দেশের মতো জনপ্রিয় মিডিয়াগুলো। দেশের বর্ষিয়ান সম্পাদক, গবেষক ও লেখক আবুল আসাদ, দৈনিক সংগ্রাম-এর তৎকালীন বার্তা সম্পাদক সা’দত হোসাইন, প্রধান প্রতিবেদক রুহুল আমিন গাজীসহ জেল-জুলুম, রিমান্ড ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমানসহ অনেক সাংবাদিক জেল-জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।
রাজধানীর বাংলা মটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সামনে রাজপথে দাঁড়িয়েছিলেন প্রবীণ গীতিকবি শহীদুল্লাহ ফরায়েজী, বাংলা একাডেমির বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের বর্তমান মহাপরিচালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে আবিদ আজম, কবি কাজল শাহনেওয়াজ, টোকন ঠাকুর, আহমেদ স্বপন মাহমুদ, বকুল আশরাফ, কথাসাহিত্যিক আশরাফ জুয়েল, সাদাত হোসাইন, মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সরোজ মেহেদী, লেখক ফরিদুল ইসলাম নির্জন, কবি আল হাফিজ, সীমান্ত আকরাম, পথিক রানা, ফারুক আহমেদ খান, সাম্য শাহ্, নাহিদ যাযাবর, রাকিব লিখন, মোস্তফা মাহাথির, আবদুর রহমান মল্লিকসহ আরো অনেকে।
বিশেষ করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কারার ঐ লৌহ-কপাট’, মোরা ঝঞ্ঝার মত উচ্ছল, বিধাতার মতো নির্ভয়, চির উন্নত মম শির,” ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান...”, কবি ফররুখ আহমদের “জীবনের চেয়ে দীপ্ত মৃত্যু তখনি জানি, শহীদি রক্তে হেসে ওঠে যবে জিন্দেগানী”, “রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরী? এখনো তোমার তরণী কি ঘাটে বাঁধা? অন্ধকারেতে পথ কি পাও না খুঁজে?’, আল মাহমুদের “আমাদের এ মিছিল নিকট অতীত থেকে অনন্ত কালের দিকে। আমরা বদর থেকে ওহুদ হয়ে এখানে শত সংঘাতের মধ্যে এ কাফেলায় এসে দাঁড়িয়েছি। আমরা আজন্ম মিছিলেই আছি। এর আদি বা অন্ত নেই।” “আমরা জানি, আমাদের ভয় দেখিয়ে শয়তান নিজেই অন্ধকারে পালিয়ে যায়।” ”আমাদের দেহ ক্ষতবিক্ষত। আমাদের রক্তে সবুজ হয়ে উঠেছিল মুতার প্রান্তর। পৃথিবীর যত গোলাপ ফুল ফোটে তার লাল বর্ণ আমাদের রক্ত।” “দ্যাখো দ্যাখো জালিম পালায় খিড়কি দিয়ে”, কবি মতিউর রহমান মল্লিকের “সাহসের সাথে কিছু স্বপ্ন জড়াও তারপর পথ চল নির্ভয় আঁধারের ভাঁজ কেটে আসবে বিজয়সূর্যের লগ্ন সে নিশ্চয় ॥” “এখনো মানুষ মরে পথের পরে এখনো আসেনি সুখ ঘরে ঘরেকি করে তাহলে তুমি নেবে বিশ্রামী করে তাহলে ছেড়ে দিবে সংগ্রাম”, “আন্দোলন সে তো জীবনের অন্য নাম / জীবন মানেই সংগ্রাম”। ২০২৪-এর ১৬ জুলাইয়ের পর যখন একের পর এক ছাত্র-জনতা পুলিশের বুলেটে শহীদ হতে থাকেন, তখন শহীদি রক্তের বদলা নেওয়া এবং তাদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করতে তাঁর এই বিখ্যাত বিপ্লবী গানটি মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে: “আল্লাহর পথে যারা দিয়েছে জীবন মরেনি তো তারা মরে না, হয়নি তো তারা কভু হারানো স্মরণ ঝরেনি তো তারা ঝরে না।
কবি মোশাররফ হোসেন খানের লেখা ‘নাম পত্তন’ কবিতার আবৃত্তি,র্যাপার সেজানের কথা ক ( কও), কাকতালের রক্ট (রক্ত) গরম মাথা ঠান্ডা আন্দোলনের সময় সোস্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলে ছিলো। সাহিত্যিক ও তরুণ কবি আরিফুল ইসলামের ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় লেখা স্লোগান ‘যদি রুখে দাঁড়াও, তবে তুমিই বাংলাদেশ’, সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠির- বৈছে বাতাস বৈরি। এই বৈরি বাতাসের ঝাপটায় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অনেক নবীন লেখক।
নির্যাতনের শিকার নবীন লেখকরা
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অনেক নবীন লেখক। কারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন র্যাপার হান্নান হোসাইন শিমুল (হান্নান) এর আওয়াজ উডা ( উঠা), নির্যাতন ও হুমকি ও গুলীতে আহত হয়েছেন এমন কবি ও লেখকার হলেন, কার্টুনিস্ট ও সাংবাদিক ইব্রাহীম মণ্ডল, লেখক ও গবেষক ড. মনোয়ারুল ইসলাম, সাংবাদিক নূর আলম, ইয়াকুব বিশ্বাস, কবি ও ছড়াকার মনসুর আজিজ, রকিব লিখন.হাসান আফিফ, গবেষক সাঈদ আবুবকর, লেখক হাসনাত আব্দুল্লাহ.শাহ হুজাইফা ফেরদৌস,হাসান ইনাম লেখক (জন্ম ২০০৩, সাতক্ষীরা), মাসুক নুর কবি (জন্ম ২০০৩, সুনামগঞ্জ),সাবরিনা শশী কবি (জন্ম ২০০১, বরিশাল),শেরিফ ফারুকী লেখক, (জন্ম ২০০১, চট্টগ্রাম) ,কাদের মাজহার লেখক, (জন্ম ২০০১, লক্ষ্মীপুর), ইব্রাহিম নিরব কবি (জন্ম ২০০১, মুন্সিগঞ্জ), তুহিন খান অনুবাদক, (জন্ম ১৯৯৫, বরিশাল), আল নাহিয়ান লেখক (জন্ম ১৯৯১, বরিশাল), মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ কথাসাহিত্যিক (জন্ম ১৯৯১, পাবনা), মোরশেদ আলম হৃদয় লেখক (জন্ম ১৯৯০, কুমিল্লা), চঞ্চল বাশার কবি (১৯৮৭, কিশোরগঞ্জ), আকতার জামান কবি (১৯৮০, নরসিংদী), হানিফ মোল্লা, লেখক (জন্ম ১৯৮৩, কুমিল্লা), সালেহ আহমদ খসরু কবি (জন্ম ১৯৬০, সিলেট)সহ অনেক অনেক লেখক সাংবাদিক।
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতারের পর নির্যাতনের কারাগারে মারা গেছেন লেখক মুশতাক আহমেদ। তার সাথে একই মামলায় গ্রেফতার হওয়া কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর কারাগারে তীব্র শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন, তবে তিনি জীবিত অবস্থায় জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। এই সময় রাজপথে পুলিশের গুলীতে সাংবাদিক ও তরুণ লেখক তাহির জামান প্রিয় এবং বহু নবীন শিক্ষার্থী-সংস্কৃতিকর্মী শহীদ হন।
২০২৪ এর মহাকাব্যের এ নায়কদের জাতি কোনদিন ভুলবে না। ভুল করেও যদি ভুলে যায় পথ হারাবে। ইতিহাস থেকে এই শিক্ষাই আমরা পাই। আধুনিক এ বিশ্বে অজেয় জাতি বলে খ্যাত পারস্যের সোনালি ইতিহাস নিয়ে লেখা মহাকাব্য ‘শাহনামা’ লেখার কাহিনি কারো অজানা নয়।
সুলতান মাহমুদ গজনভি প্রতি শ্লোকের (দুপদী বা কাপলেট) বিনিময়ে মহাকবি ফেরদৌসিকে একটি স্বর্ণমুদ্রা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে প্রায় ৬০,০০০ শ্লোকে বিখ্যাত ‘শাহনামা’ মহাকাব্য রচনা সম্পন্ন করার পর, প্রতিশ্রƒতি অনুযায়ী স্বর্ণের বদলে রৌপ্যমুদ্রা প্রদান করা হলে কবি চরম অপমানিত হন।
কিন্তু এ মহাকাব্যের প্রেরণায় প্রাচীন পারস্য আজকের ইরান বিশ্বপরাশক্তির আক্রমণেও মাথা উঁচু করে টিকে আছে। ২০২৪ এর জুলাই আগস্ট আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান আমাদের প্রেরণার বাতিঘর।
এই বাতিঘর শতাব্দীর পর শতাব্দী জ্বালিয়ে রাখতে এগিয়ে আসতে হবে সাংবাদিক, লেখক, কথাসাহিত্যিক, কবি, গীতিকার, শিল্পী ও কাটুনিস্টসহ সৃজনশীল প্রত্যেক নাগরিককে। তবেই আমরাও হবো অদুর্জয় ইনশাআল্লাহ।