বিশেষ সাক্ষাৎকারে আখতার হোসেন
২৪ সালের জুলাই- আগস্টের আন্দোলনের বীর সেনানী ও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি । জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পূর্তিতে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন দৈনিক সংগ্রামকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইবরাহীম খলিল।
দৈনিক সংগ্রাম : আজ থেকে দুই বছর আগে জুলাই আন্দোলনের কারণে দেশ ফ্যাসিস্ট মুক্ত হয়েছিল আপনাদের আন্দোলনের কারণে। এই জুলাই আমাদের কি দিয়েছে, কি দেওয়ার কথা ছিল আর কি দেওয়ার আছে ?
আখতার হোসেন : জুলাই আমাদের ১৬ বছরের স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদ এবং দু:শাসন থেকে মুক্তি দিয়েছে। আয়না ঘরের বন্দিজীবনের অবসান ঘটিয়েছে। আমাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছে। জুলাই আমাদের নতুন করে মুক্তির স্বাদ দিয়েছে। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তির পাশাপাশি জুলাই আমাদের রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার, গণতন্ত্রের পথে নতুন করে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের সিস্টেমগুলো গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হওয়া সর্বোপরি জনগণ যেসব ভোগান্তিতে পড়ে সেসব থেকেও মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল।
দৈনিক সংগ্রাম : জুলাই থেকে কি শিক্ষা নেওয়ার ছিল ? আর কি শিক্ষা নেওয়ার আছে ?
আখতার হোসেন : জুলাই সামনের বাংলাদেশে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সাহস যুগিয়ে যাবে। জুলাই সামনের দিনে কেউ যদি ফ্যাসিবাদ হতে চায়; তার সামনে একটা উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে। জুলাইতে মানুষের জাতীয়তা এক এবং মানুষের যে সাহসিকতা সেটা আমাদেরকে যুগের পর যুগ ধরে অনুপ্রেরণা দিয়ে যাবে। জুলাই আমাদের এই শিক্ষা দেয়, যেকোন দু:শাসন,অপশাসন, জুলুম যত কঠিন-ই হউক না কেন, জাতিগতভাবে আমরা সমস্ত ধরণের অপশাসন সহ্য করার পরও সব ধরণের ঝুঁকি নেওয়ার পরও সেই জুলুম অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে পারি।
দৈনিক সংগ্রাম : জুলাই আমাদের কি পরিবর্তন দিয়েছে ?
আখতার হোসেন : জুলাইয়ের শিক্ষা সুদূর প্রসারি। জুলাই আমাদের মধ্যে এক মনোস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন এনেছে। আমরা তরুণদের মধ্যে দেশ নিয়ে সচেতনতা দেখেছি। জুলাই এই শিক্ষা আমাদের দিয়েছে যে, সামনের দিনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পথ যাত্রায় আমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারবো।
দৈনিক সংগ্রাম : আগামি ২০২৭ ইং সালে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান ?
আখতার হোসেন : ২০২৭ইং সালের জুলাইতে চাই, জুলাইয়ের ইতিহাস সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। জুলাই নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী কিছু কাজ হয়েছে। শহীদ পরিবার এবং আহতরা সত্যিকার অর্থে পুর্নবাসন হয়েছে। জুলাই বিরোধী অর্থাৎ জুলাইতে যারা গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। এবং বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে আরও কয়েক ধাপ এগিয়েছে।