বিশেষ সাক্ষাৎকারে কর্নেল অলি
একাত্তরের বীর সেনানী এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এলডিপির সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম জুলাই বিপ্লবের দুইবছর পূর্তিতে বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন দৈনিক সংগ্রামকে। তিনি কথা বলেছেন, ১৯৭১ সাল থেকে ২০২৪ ইং সালের বিপ্লবের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং আত্মত্যাগ, বিপ্লবের প্রত্যাশা, প্রাপ্তি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলন ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে। দিয়েছেন তরুণ প্রজন্ম এবং দেশবাসীকে নতুন বার্তা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইবরাহীম খলিল।
দৈনিক সংগ্রাম: আপনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। ১৯৭১-এর স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানÑএকজন প্রবীণ রাষ্ট্রনায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এই দুই বিপ্লবের রাজনৈতিক চাওয়া ও চেতনার মধ্যে কী মিল দেখতে পান?
ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ: ১৯৭১ সাল ছিল একটা দেশকে স্বাধীন করার জন্য। এটা একটা ভিন্ন প্রেক্ষাপট ছিল। আমরা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের নাগরিক ছিলাম। আমি অবশ্য ব্রিটিশ নাগরিকও ছিলাম। আমার সৌভাগ্য হলো আমি প্রথম ব্রিটিশ নাগরিক, পরে পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের নাগরিক। ১৯৬৯ সালে আমি পাকিস্তান চলে যাই। যাওয়ার পর আমি দেখলাম, দুই এলাকার মধ্যে যে বৈষম্য, এটা কখনো ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা নাই। কারণ রাজধানী ছিল রাওয়ালপিন্ডি। বাংলাদেশের জনগণ তখন যেখানে মুন্সিগঞ্জ থেকে ঢাকা আসতে পারেনি অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপের কারণে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসতে পারেনি; তাদের জন্য রাওয়ালপিন্ডি গিয়ে কোনকিছু করাটা সম্ভব ছিল না। সুতরাং এটা একটা অবস্থা ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের জন্য। তখন থেকে আমার মনে দাগ কাটে যে, আমাদের যে প্রাপ্য ছিল তা আমরা পাচ্ছি না। সশস্ত্রবাহিনীতে আমাদের যত প্রতিনিধি থাকার কথা ছিল, সেটা হচ্ছে না। সিভিল সার্ভিসে আমাদের যে সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা, জনসংখ্যার অনুপাতে সেটাও হচ্ছে না। জনসংখ্যার অনুপাতে যে বরাদ্দ পাওয়ার কথা সেটাও পেতাম না। বরাদ্দটা দেওয়া হলেও যেহেতু তাদের কর্মকর্তারা এটা নিয়ন্ত্রণ করতো, সেটা খরচ না করে বছর শেষে ব্যয় হয়নি বলে ফেরত দিয়ে দিতো। তাদের মধ্যে একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং ছিল তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বরাদ্দটা ঠিকই খরচ করে ফেলতো। আমার দেখা মতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে বৈষম্যটা ছিল, তা বলা যায় বিস্তর একটা ফারাক। সুতরাং এখান থেকে স্বাধীনতা নেওয়া ছাড়া বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল না। যার পরিপ্রেক্ষিতে কর্নেল মজিবুর রহমান চৌধুরী; যিনি আমার অধিনায়ক ছিলেন এবং পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান আমরা তিনজন মিলে-ই বিদ্রোহের পরিকল্পনা করি। এবং ২৫ মার্চ আমরা বিদ্রোহ করি। কর্নেল এম আর চৌধুরীকে জিপের পেছনে টেনে হেঁচড়ে মর্মান্তিকভাবে শহীদ করা হয়। এরপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আর আমি দু’জন মিলে পাকিস্তানীদের বন্দী করি, বিদ্রোহ ঘোষণা করি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ২৭ তারিখ সন্ধ্যার দিকে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এটা ছিল একটা ভিন্ন প্রেক্ষাপট। ওখানে কোন সরকারের পরিবর্তন ছিল না। একটা দেশ থেকে পৃথক হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করা।
অপরদিকে ২০২৪ সালে জুলাই যেটা ছিল, স্বৈরাচারের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করা। যারা বিদেশীদের দালাল হিসেবে বাংলাদেশে রাজত্ব করছিল, আমি রাজত্বি বলবো; তাদের হাত থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করা। আমাদের ছেলে মেয়েরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে খুব সফলতার সাথে সমাপ্ত করেছিল। শুরুটাও করেছিল ভাল শেষও করেছিল ভাল। সবশেষ আমি বলবো তিন তারিখ রাত্রে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে সরকারী বাহিনী আক্রমণ করলো, তাদেরকে হল থেকে বের করে দিলো,অনেকে মনে করেছিল আন্দোলনটা বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু ৪ তারিখে সব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ছেলে-মেয়েরা রাস্তায় নেমে গেলো; যার কারণে জুলাইয়ের আন্দোলনটা সরকারের পক্ষে বন্ধ করা সম্ভব ছিল না। আমি আবারো বলবো ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধ, আর ২০২৪ সালের টা কোন যুদ্ধ ছিল না। এটা ছিল স্বৈরাচারের কাছ থেকে দেশকে মুক্ত করার একটা সংগ্রাম। তবে কোনটাকেই খাটো করে দেখা যাবে না। দুটো-ই নিজ নিজ জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আজকে যে সরকার গঠিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে, এ সরকার কখনো গঠন সম্ভব ছিল না, আমাদের ছেলেরা যদি আত্মাহুতি না দিতো। প্রায় ১৫ শত ছেলে শহীদ হয়েছে। কয়েক হাজার পঙ্গুত্ববারণ করেছে। অনেকে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা আশা করবো বর্তমান সরকার এটা অনুধাবন করবে। কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকে আছে, এটাকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না। আমি বলবো এর পরিণাম ভালো হবে না।
দৈনিক সংগ্রাম: শেখ হাসিনার দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসন ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপনার দল এলডিপি দীর্ঘদিন রাজপথে ও যুগপৎ আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সেই চূড়ান্ত মুহূর্তগুলোকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন ?
ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ : শুধু আমরা রাস্তায় ছিলাম ব্যাপারটা এরকম না। বেগম জিয়াকে মুক্ত করার জন্য, সর্বপ্রথম মুক্তিমঞ্চ আমি শুরু করেছি। এটা বিএনপি করেনি। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সসিটিউটে আমি যখন শুরু করি সেখানে ৭/৮টা রাজনৈতিক দল ছিল। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিও ছিল। বেগম জিয়াকে মুক্ত করার জন্য। সেখানে প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দল এগিয়ে এসেছিল। তবে কারো অবদান ছিল ৫ শতাংশ। কারো অবদান ছিল ১ শতাংশ। অনেকের অবদান ছিল শতভাগ। আমি কোন রাজনৈতিকদলকে খাটো করতে চাই না। তবে বিএনপির মহাসচিবতো বলেই দিলো- জুলাই আন্দোলনে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। তিনি জাতির সামনে টেলিভিশনে একথা জানিয়েছিলেন। এখানে সক্রিয়ভাবে ছিল জামায়াত এবং আমরা যারা ছোট ছোট রাজনৈতিক দল ছিলাম, আমাদের পরিবারের সদস্যরা ছিল।
দৈনিক সংগ্রাম: জুলাই বিপ্লবের দুই বছর অতিক্রম হলো। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, দুর্নীতি রোধ ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার যে আকাক্ষা ছিল, গত দুই বছরে তার কতটুকু প্রাপ্তি ঘটেছে বলে আপনি মনে করেন?
ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ : আমি বলবো আমরা এর ধারে কাছেও যাইনি। যারা ক্ষমতায় এসেছে, তাদের কোন আত্মত্যাগ জুলাই আন্দোলনে ছিল না। এর কারণে জুলাই আন্দোলনের গুরুত্ব তারা অনুধাবন করতে পারছে না। তারা কথায় বলে সংস্কারের পক্ষে মতামত দেন, হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দেন। কিন্তু নির্বাচনে কলাকৌশল করে জিতে আসার পর সংস্কারের ধারে-কাছেও যাচ্ছে না। আমি তাদের পরামর্শ দেবো, বর্তমানে যারা রাজনীতিকে সক্রিয় আছে, আমরা চেয়ে প্রবীণ কেউ নেই। সুতরাং একজন প্রবীণলোক হিসেবে আমার দায়িত্ব হলো- ভাল মন্দ যা-ই হউক জাতিকে বার্তা দেওয়া। আমার বার্তা হলো বিদেশীদের দালালি না করে, বাংলাদেশের দালালি করাটা-ই উত্তম।
দৈনিক সংগ্রাম: ফ্যাসিবাদের বিলোপ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনে ঘোষিত ‘জুলাই সনদ’ শতভাগ বাস্তবায়নে রাজপথ ও সংসদে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বিত আন্দোলন সফল হওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলো কী? জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পর সরকার তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে কেন ?
ড. কর্নেল (অব:) অলি আহমেদ: কেন গড়িমসি করছে তা আমি জানি না। আমি মনে করি তাদের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অনেক অভাব রয়েছে। কারণ হলো কেউ কখনো চিরদিনের জন্য ক্ষমতায় আসে না। আজকে আপনি ক্ষমতায় আছেন কাল আরেকজন ক্ষমতায় আসবে। সুতরাং আমাদের এমন কোন কাজ করা উচিত না; যে রশি আমার গলাতেও লাগতে পারে। যদি এমনটা মনে করা হয়, এখন আমি ক্ষমতায় বিরোধী দলের নেতাদের গলায় আমি রশিটা লাগিয়ে দিয়েছি। কিন্তু আমি যখন ক্ষমতা থেকে চলে যাবো; তখন এই রশি আমার গলায় লাগবে। সুতরাং এই রশিটা না থাকাটাই ভালো। আমি বলবো যে সমস্ত সংস্কারগুলো জাতির জন্য প্রয়োজন, দেশের উন্নতির জন্য, ন্যায়বিচার নিশ্চিতের জন্য, সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য, দুর্নীতি-চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য এবং দালালদের হাত থেকে বাংলাদেশ মুক্ত করার জন্য, অশিক্ষিত লোকজন যেন সংসদে না আসে এবং কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত না হয়, কোন ইউনিয়ন বা পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত না হয় এগুলো আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। জেনে-শুনে ভুল করলে আমাকে আপনাকে আল্লাহ ক্ষমা করবে না। আল্লাহর গজব অবধারিত।
দৈনিক সংগ্রাম: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং হাজার হাজার আহত যোদ্ধার সঠিক সুচিকিৎসা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার যে তাগিদ ছিল, সে বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী ?
ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ: আমি মনে করি সরকারের উচিত হবে, তালিকাটা নবায়ন করা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তালিকা প্রস্তুত করেছে। সবার কাছ থেকে তালিকা নিয়ে সমন্বয় করা। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের তালিকা করা হয়েছে, এর মধ্যে কেউ লন্ডনে ছিল, তাকেও মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে ফেলা হয়েছে। কেউ ফ্রান্সি ছিল সেও মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেছে। কেউ পার্বত্য চট্টগ্রামে লুকিয়ে ছিল, সেও মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেছে। কেউ রিফিউজি ক্যাম্পে ছিল সেও হয়ে গেছে মুক্তিযোদ্ধা। সুতরাং এই ভুলটা জুলাই আন্দোলনের ক্ষেত্রে যেন না হয়। প্রকৃতপক্ষে যারা হতাহত হয়েছে, তাদের তালিকা প্রস্তুত করে পুনর্বাসন করা আমাদের ধর্মীয় দায়িত্ব, নৈতিক এবং মানবিক দায়িত্ব। না হলে আমাদের খেসারত দিতে হবে। আল্লাহ কাউকে ক্ষমা করবে না।
দৈনিক সংগ্রাম: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা ও গত ১৫ বছরের গুম-খুন এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ পাচারের দায়ে অপরাধীদের বিচারে যে বিশেষ আইনি প্রক্রিয়া চলছে, বিরোধী দলের একজন সিনিয়র নেতা হিসেবে এই বিচার ব্যবস্থার গতি নিয়ে আপনি কি সন্তুষ্ট ?
ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ: আমি মনে করি এটা কচ্ছব গতিতে চলছে। এটাকে আরও বেগবান করতে হবে। এবং যারা অর্ন্তবর্তীকালীন সময়ে ক্ষমতায় থেকে অবৈধভাবে সুযোগ সুবিধা নিয়েছে, তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনা উচিত। তাদের বিচার যদি আমরা না করি, তাহলে এখন যারা দুর্নীতি করছে তাদের বিচারও ভবিষৎতে করা যাবে না। মুখে জিরো টলারেন্স বললে হবে না। কর্মকাণ্ডে প্রমাণ করতে হবে।
দৈনিক সংগ্রাম: নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তনের যে প্রক্রিয়া চলছে, সেক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর জাতীয় সংসদ গঠনে প্রধান শর্তগুলো কী হওয়া উচিত ?
ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ: প্রথমত প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দল এবং যারা সংসদের আছে তাদের প্রতিনিধি নিয়ে একটা কমিটি গঠন করা উচিত। এই কমিটির মাধ্যমে ইন্টারভিও হবে। দেখতে হবে লোকটা নিরপেক্ষ কি-না। এই ধরণের ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে পদায়ন করতে হবে। অন্যথায় সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করা যাবে না। যেমন আমরা গত নির্বাচনটা ১২ই ফেব্রুয়ারি করেছি। কোন অবস্থাতেই বলা যাবে না যে,এটা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। চার ঘন্টা নির্বাচনের ফলাফল বন্ধ ছিল। তখন-ই কিন্তু মেকানিজমটা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে যে সচিব ছিল, সে হলো এক নম্বর---। তার মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। গণতন্ত্র হত্যার জন্য এদের মৃত্যুদণ্ড না দেওয়া হলে আগামিতে কোন দিন সুন্দর গণতন্ত্র হবে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারেও একটা তদন্ত হওয়া উচিত। এদের জবাব দিহিতা না থাকলে কোন প্রতিষ্ঠান-ই সুষ্ঠুভাবে কাজ করবে না। সংসদ সদস্য হউক বা কেরাণি হউক কিংবা টিচার হউক; যারা সরকারের বেতন নেয়, তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় কখনো বাংলাদেশ সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে না। এবং গণতন্ত্রও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে না।
দৈনিক সংগ্রাম: জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পূর্তির এই ঐতিহাসিক ক্ষণে দেশবাসী ও শহীদ পরিবারের উদ্দেশ্যে আপনার বিশেষ বার্তা কী?
ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ: যে সমস্ত শহীদ পরিবার আছে, তাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সহানুভূতি থাকবে। যখনই আমরা একটা অবস্থানে থাকবো তখন তাদের চাহিদা এবং প্রাপ্য নিশ্চিত করবো। এখন আমরা যেখানে যাচ্ছি মিছিল মিটিংয়ে সরকারকে বলছি, শহীদদের পরিবারকে পুনর্বাসন করতে হবে। যারা শহীদ হয়েছে সম্মানিত করতে হবে। অন্যথায় আল্লাহর বিচারের সম্মুখীন আমাদের হতে হবে। আমরা মানুষকে ফাঁকি দিতে পারবো। আল্লাহকে ফাঁকি দেওয়া যাবে না। আজরাইলকেও ফাঁকি দেওয়া যাবে না। অতীতে যারা ভুল করেছে তাদের প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়েছে। আগামীতেও প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।