রাসূলের পথ

মোশাররফ হোসেন খান

রাসূলের পথ ছিল সংগ্রামের

রাসূলের পথ ছিল বিপ্লবের

রাসূলের পথ ছিল মহান ত্যাগের ।

রাসূলের পথ ছিল না তো মসৃণ

কুসুম ছড়ানো

রাসূলের পথ ছিল না তো কোমল

জোছনা জড়ানো

সে পথ ছিল কঠিন, ছিল পিচ্ছিল

রক্তে মোড়ানো ।

তবুও রাসূল নির্ভয়ে হেঁটেছেন সে পথে

যে পথ সত্য-ন্যায়ের ।

আজও সে পথ রক্ত-রঞ্জিত

কাঁটায় কাঁটায় সে পথ সজ্জিত

তবুও সে পথে আজও হাঁটে তাঁর কাফেলা---

যারা স্বপ্ন দেখে সত্য জয়ের ।

রাসূলের পথ ছিল তাওহীদের

রাসূলের পথ ছিল শত শহীদের

সংগ্রাম ছিল তাঁর মানবতার মুক্তির

বিপ্লব ছিল তাঁর শান্তি ও সুস্থির,

দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হবে আজও

কী আছে আর ভয়ের ।

রাসূল আমার সিপাহসালার

যিনি পথ দেখালেন জীবন জয়ের।

ইয়া রাসুলুল্লাহ সা.

আবুল খায়ের নাঈমুদ্দীন

এই বিশ্ব এক মহাগ্রন্থ;

হযরত মুহম্মদ সঃ তার মুখবন্ধ।

মুহম্মদ সঃ গোটা জগতের শ্রেষ্ঠ মানব

জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলের অভিমত।

আমাদের গর্ব আমরা তাঁর উম্মত

অন্তরে তাঁর আনুগত্য ঈমানী সুন্নত।

সকালের সূর্য রাতের চন্দ্র তাঁর নামে দরুদ পড়ে

আকাশের ফেরেস্তাকুল তাঁর শানে কাতার গড়ে

তাঁর নামে দরুদ পড়েন স্বয়ং আল্লাহ

সকল সৃষ্টি পড়েন ইয়া রাসূল্লাহ।

ইয়া রাসুলুল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ।

তোমার দু’কাঁধে ছিলো স্বর্গীয় নবুয়তী মোহর

তোমার দুচোখে ছিলো ত্যাগ ও সততার নজর

তুমি ছিলে দূঃখী জনতার দূত

আমরা গর্বিত; হয়েছি তোমার উম্মত।

যখন মাথার উপরে সূর্য তাপে হবে কেয়ামত

তখন কঠিন সময় আরজু করিও সাফায়াত।

ইয়া নাবী সালামু আলাইকা

ইয়া রাসূল সালামু আলাইকা

ইয়া হাবীব সালামু আলাইকা

সালাওয়া তুললা আলাইকা।

হৃদয়ে রসূল

হাসান আলীম

মদীনার ঘরে ঘরে পৌঁছে গেল যুদ্ধের বারতা

ওহুদের ভয়াবহ দুঃসহ সংবাদ চারদিকে,

প্রিয়জন হারানোর চাপাকান্না জমা হয় বুকে

জিজ্ঞাসিছে জনে জনে নারী এক রাসূলের কথা,

কেমন আছেন তাঁর প্রিয়তম হৃদয় রাসূল!

শহীদ হয়েছে তার পিতা, যুদ্ধ ফেরা সাহাবীরা

বলে তাকে, সে কথায় নারী তবু হল না ব্যাকুল

রাসূলের জন্য শুধু পেরেশানি, প্রাণান্ত অধীরা।

পুনর্বার বলা হল, শহীদ হয়েছে ভ্রাতা তার

রমণীর কণ্ঠ থেকে ঝরে শুধু রাসূল দরদ,

অবশেষে বলা হল, শহীদ হয়েছে পুত্র স্বামী,

শিহরিত হল না সে নারী, প্রশ্ন তার বারবার

কি খবর রাসূলের? হৃদরন্ধ্রে প্রেমের শহদ

পিতা পুত্র ভ্রাতা স্বামী নবী থেকে নয় প্রিয়, দামি।

তুমি এসে

আবুল খায়ের বুলবুল

পৃথিবী ছিলো তখন আঁধারে ভরা

তুমি এসে আলোকিত করলে ধরা।

নিষ্ঠুর অমানুষের হৃদয়ে মমতা এনে

সুমানুষ হলো যে তোমাকে নেতা মেনে

তুমি রহমতাল্লিল আলামিন তুমি রাসূলে আলা

তোমার নামে হয় দুরুদ পড়া।।

পৃথিবীতে ছিলো না যে কোনো সুবিচার

তুমি এসে দেখালে শুধু ন্যায়বিচার

কত অত্যাচার নির্যাতন সহেছ তুমি

তবুও অভিশাপ দাওনি কাউকে তুমি

ওহুদের যুদ্ধে দন্ত হয়েছে হারা

তুমি এসে আলোকিত করলে ধরা।

তুমি রহমতাল্লিল আলামিন,তুমি রাসূলে আলা

তোমার নামে হয় দুরুদ পড়া।।

কত হত্যাকারীকে তুমি দিয়েছ ছেড়ে

তরবারী নিয়ে যারা এসেছে তেড়ে

ক্ষমা আর ভালোবাসায় মন ভরালে

কৌশলে কাবাঘর থেকে মূর্তি সরালে

তুমি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল,পৃথিবীর সেরা

তুমি এসে আলোকিত করলে ধরা।

তুমি রহমতাল্লিল আলামিন,তুমি রাসূলে আলা

তোমার নামে হয় দরুদ পড়া।।

আমার নবীর নাম

সায়ীদ আবুবকর

সতত দরূদ পড়ি নবীর উপর

ছাড়েন সত্যের জন্যে যিনি বাড়িঘর;

গড়েন মদিনা গিয়ে ন্যায়রাষ্ট্র পুণ্য;

জালিম শাসককুল হয় মনঃক্ষুণ্ন

ফুলিয়ে বাঘের ছাতি করে যে বড়াই,

লাফিয়ে লাফিয়ে করে সাপের লড়াই,

কিন্তু তাঁর সাম্যবাদী বিপ্লবের ঝড়ে

মূর্খদের মসনদ মুখ থুবড়ে পড়ে;

মেরুদণ্ড খাড়া করে, উঁচু করে শির

মানুষ দাঁড়ায় এসে, সারা পৃথিবীর,

একত্ববাদের পুণ্য শান্তিছায়াতলে।

আমার নবীর নাম জবানে যে বলে,

মুখে তার মধু ঝরে, চিত্ত হয় চিনি।

জাহান্নামে জ্বলবে না তারা কোনোদিনই।

যারা তাঁর সত্যদ্বীন মানে পুরোপুরি।

আমার নবীর নাম যেন বা কস্তুরি,

ছুটে চলে, যেন অশ্ব, বাতাসের আগে।

তোমার শরীরে যদি সে-বাতাস লাগে,

তাহলে তোমার জানি ভেঙে যাবে ভুল,

তুমিও উঠবে গেয়ে রসুল রসুল।

মোহাম্মদনামা

আবির হাসান

মৃত্যুর পাশ দিয়ে সে হাঁটে। হাঁটতে হাঁটতে

কারো দুয়ারে যায়, আর বলে বেড়ায়-

খোদা এক, শুধু একবার ডাক দিয়ে দেখো!

তার নিবেদনে যেন বেহেশতি শবনম, নিমিষেই

এক মাসুম হৃদয় এই বলে সাক্ষ্য দেয়; হে মুহাম্মদ,

আপনিই খোদার প্রেরিত নবী।

আপনিই খোদার একত্ববাদের প্রমাণ। মুহাম্মদ মৃদু হাসে,

যেন কোনো তৃষিত ব্যক্তি সাহারা প্রান্তরে খুঁজে পেয়েছে

প্রিয় তাসনিম। গন্তব্য বহুদূর; তিনি এক হৃদয় থেকে

বহু বহু হৃদয়ে হাঁটছেন আর বলছেন;

খোদা এক, শুধু একবার ডাক দিয়ে দেখো-

এবার কারো কারো শব্দে আক্রোশ, যেন কাঁচা লবণাক্রান্ত

জোঁকের মতো তাদের হৃদয় ছটফট করে করে

মৃত্যু কামনা করছে কারো। তবুও তিনি এক পবিত্র মমতায়

কাছে ডেকে বলেন; খোদা তোমাদের ভালোবাসেন,

শুধু একবার ডাক দিয়ে দেখো। তারা বন্দি করে তাকে

সীমাহীন কষ্ট দেয়, পাথর ছুঁড়ে ছুঁড়ে রক্তাক্ত করে তোলে দেহ;

যেন খোদার আরশ এক বিষণ্ন জড়তায় থরথর কাঁপছে

আর কান্নাজড়িত কণ্ঠে ডাকছে; ইয়া হাবিবাল্লাহ!

আল্লাহ আপনাকে সব নবীর চেয়েও বেশি ভালোবাসেন।

মুহাম্মদ শোকার্ত বালকের মতো রক্তাক্ত দেহের যাতনা চেপে

হেসে হেসে বলে; হে প্রিয় উম্মত;

আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসেন। আমিও

জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসি তোমাদের।

একবার বলো তিনি এক! একবার শুধু তাকে ডাক দিয়ে দেখো..

ইয়া রাসুলাল্লাহ সা.

নোমান সাদিক

[রসুল (সা:) এর সেই সোনালী যুগে বঙ্গে আমার জন্ম হলে তাঁর

খেদমতে গিয়ে যেমনটি বলতাম বলে প্রায়শ ভাবি]

এসেছি সুদুর বঙ্গ হতে যেখানে তেরশ নদী সমুদ্রে ধাবমান

আমি এক গেরস্থ, সে জনপদে ঘর ছিল ক্ষেত ছিল ছড়ানো উঠান

কাঁচা মদিরার হাড়ি, খিস্তি খেউড়, বেশ্যার বাহুডোর,

প্রাচীন পাথরের পাশে

চাষকরা সৌখিন অন্ধকার। গাঙেয় সে দেশেও ভোরের বাতাসে

শুনেছি আপনার নাম। একদিন এক চাষী ধানের রশি পাকাতে পাকাতে

বললো- আরবে এক নবী এসেছেন, এসেছেন অলৌকিক বর্ণমালা হাতে

মুমুর্ষ বৃদ্ধ বলেছে- পণ্ডিতেরা জানে ‘সুমতীর গর্ভে গোত্রপ্রধানের ঘরে

জন্ম তার, আরব সে। তবু কেন জানি করে না জানার ভান

প্রশ্নের উত্তরে’

কি এমন তিনি! মানুষেরা যুগ যুগ যার প্রতীক্ষায় হলো সুর্যমুখী ফুল

লোকের মুখে সে উত্তরও জেনেছি- ‘স্রষ্টা এক অদ্বিতীয়’ তার মন্ত্রমূল

যেমন কাচির আল ধানগাছ কাটে একে একে, আমিও সকল গোলামী

কেটেছি, সেদিন কী এক সাহসে যেন বলেছি- ‘হতাম যদি

তার সহগামী!’

সেদিন; সেদিন হতে হারিয়েছি সব। যেরকম ঘাট থেকে সরে যায় নাও,

সরে গেছে পরিজন, বিঘা বিঘা জমি, ঘরবাড়ি, সবশেষে ভাতের থালাও

ফণা তুললো বর্শা, উদ্যত তলোয়ার। দাঁড়াতে পারিনি কোন

গাছের ছায়ায়

পার করেনি ঘাটের মাঝিরা; হয়নি কোথাও ঠাঁই, কোন ভীন গাঁয়ে

তবু এসেছি ইয়া রাসুলাল্লাহ! মেঘনা ভাগিরথি সিন্ধু পেড়িয়ে

অন্ধকার ঝোপ, নির্দয় নিঠুর ধারালো পিচ্ছিল বরফ পাড়ি দিয়ে

এসছি মরুপথে। সঞ্চিত উত্তাপ যেন আমারই পায়ের তলায়

ফোস্কা পড়ে আর আমি হাঁটতে পারি না।

হে রাসুল! এসেছি তবু মক্কা হয়ে তপ্ত তামার পথে এই মদিনায়

আশ্রয় দিন ইয়া রাসুলাল্লাহ! এসেছি তিরিশ হাজার মাইল হেঁটে

এখানে বসতে দিন আপনার সৌরভে; রুটি, কাপড়

কোথা হতে একপ্রস্থ কেটে

আমাকে আশ্রয় দিন রসুলাল্লাহ! আমি হবো আপনার উটের রাখাল

আশ্রয় দিন ইয়া রাসুলাল্লাহ! হতে পারি যুদ্ধের দুর্ভেদ্য ঢাল

আজকেরই চেনা নই, দূর অতীতেও আপনি যেন আত্মীয় আমার

সান্নিধ্য দিন ইয়া রাসুলাল্লাহ! জানবাজ দেহরক্ষী হবো আপনার।