ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ

জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রেমময় ঠিকানা হযরত মুহাম্মদ স.। তিনি সকল মানুষের জন্য রহমত এবং সেরা আদর্শ। এই আদর্শ মহামানব শুধু মুসলিমদের জন্য নন, জাতি ধর্ম বর্ণ বির্েিশষে সকল মানুষের জন্য আদর্শ। মানবতার পরতে পরতে সৃষ্ট অসংগতির সুচিকিৎসায় তাঁর কোন বিকল্প নেই। তাঁর প্রেয়ময় ক্ষমা ও সৌন্দর্যবোধ পৃথিবীর সমস্ত খারাপিকে মুছে দেয়। অন্ধকারের আলো হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। মাতৃগর্ভ থেকে শুরু করে শৈশব-কৈশর-যৌবন ও পৌঢ়কাল পেরিয়ে জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার মতো সুন্দর আদর্শ রয়েছে তাঁর জীবনাদর্শে। আইয়্যামে জাহেলিয়াত থেকে বর্তমান বিজ্ঞানময় বিশ্বের আধুনিকতা পর্যন্ত মানুষের বানানো আদর্শের ভেতরে অনেক গালগল্প আছে, কিন্তু মহানবী (স) এর আদর্শের ভেতরে আছে সত্যিকার অর্থে মানবিক আদর্শ। তাইতো শুধু মুসলিমগণই নয়- অমুসলিম বুদ্ধিজীবী ও বিজ্ঞানীরাও তাঁর আদর্শের প্রশংসা করেন। তাঁর আদর্শের বিজয় চায় এ পৃথিবী।

যখন তিনি পৃথিবীতে এলেন

সময়টা ছিলো আইয়্যামে জাহিলিয়াহ। অজ্ঞতা, বর্বরতা ও স্বেচ্ছাচারীতার দাপট। ভাইয়ে ভাইয়ে, বোনে-বোনে, পিতা-পুত্রে, ঘরে-বাইরে, সমাজে-অর্থনীতিতে এমনকি ধর্ম বিশ্বাসেও শুধু দ্বন্দ্ব আর সংঘাতের খবর। মানবতা ভুলুণ্ঠিত হয়েছিলো শক্তির কাছে। ‘জোর যার মুল্ক তার’ এ নীতি যেমন সর্বত্র বিরাজমান ছিলো। ‘নারী, মদ ও যুদ্ধ’ ছিলো নেতৃত্বের শীর্ষতম গুণাবলী। সমাজের অর্ধেক নারী হলেও তারা ছিলেন ভোগের সামগ্রী মাত্র। যখন যাকে যেভাবে ইচ্ছে ভোগ করত ক্ষমতাবান পুরুষেরা। নিজেরা ইচ্ছে মতো নারী ভোগ করলেও নিজের বংশের মান বাাঁচাতে নিজ কন্যাকে স্বহস্তে জীবন্ত কবর দিতেও দ্বিধাবোধ করত না। শত্রুর সাথে গলাগলি তো দুরের কথা, দাস-দাসী থেকে শুরু করে পরিবারের প্রিয়জন পর্যন্ত নিষ্ঠুরতার স্বীকার হতো। মূলত তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাতের জ্ঞান না থাকার কারণে মানবতাবোধের এতো অবক্ষয়। মানবিক মূল্যবোধ কিংবা মানবিক আদর্শ যেন পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে। এ কারণে ঐতিহাসিকগণ এ সময়কে আইয়্যামে জাহেলিয়া নামে অভিহিত করেছেন। মনুষত্বের ধ্বংসস্তুপের উপর মুক্তির নতুন পতাকা হাতে মানবতার কাণ্ডারী হিসেবে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেছেন চাঁদের চেয়ের সুন্দর চেহারার শিশু হযরত মুহাম্মদ (স.)।

বেড়ে ওঠেন যেভাবে

অনেক বৈরী পরিবেশে বেড়ে ওঠেন হযরত মুহাম্মদ (স)। জন্মের আগেই পিতা আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব ইন্তিকাল করেন। দূর তায়েফে মা হালিমার দুধ পান করে বড় হন। নিজ বাড়িতে ফিরে এসে মায়ের সাথে বাবার কবর জিয়ারত করার জন্য মদীনায় যান। ফেরার পথেই মারা যান তাঁর প্রিয়তম মা আমিনা বিনতে আবদুল ওয়াহহাব। দাদা আবদুল মুত্তালিবের ভালোবাসায় বেড়ে উঠতে থাকলেন। কিন্তু সে সুখও বেশি দিন কপালে সইলো না। মাত্র ৮ বছর বয়সে তিনিও ইন্তিকাল করেন। চাচা আবু তালিবের স্নেহ মমতায় বেড়ে উঠেন হযরত মুহাম্মদ (স)। ব্যবসার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন তাঁর কাছেই। হযরত খাদিজা (রা.) এর সাথে বিয়ের ব্যবস্থাও তিনিই করেছেন। নবুয়ত লাভের পরেও তিনি পাশে থেকেছেন সবসময়। ইসলাম কবুল না করেও তিনি আমৃত্যু ভাতিজা মুহাম্মদ (স) এর পাশে ছিলেন অভিভাবক হিসেবে।

নবুয়ত পেলেন যুবক মুহাম্মদ (স)

হযরত মুহাম্মদ (স) নবুয়ত পেলেন ৬১০ খ্রিস্টাব্দে। রাতের পরে দিনের আলো যেমন প্রত্যাশিত বাস্তবতা, সেই বাস্তবতার নিরিখে মহানবী (স.) এলেন অশান্ত পৃথিবীতে শান্তির আবাদ করতে। এলেন তিনি ওহীর বারতা এবং প্রেমের অথৈই সাগর বুকে ধারণ করে মানবতাবাদী মানুষ হিসেবে। স্বস্তি ফিরে আসে আকাশে-বাতাসে, সৃষ্টির পরতে পরতে নেমে আসে প্রশান্তির ছোঁয়া। প্রাণোচ্ছল হয়ে ওঠে আশাহত শিশু কিশোর, সুখের স্বপ্ন দেখে ঘর পোড়া দম্পতি, আলোয় বেরিয়ে আসে অন্ধকারে থাকা নারী সমাজ; বাঁচার স্বপ্ন দেখে দাস-দাসী এবং সমাজের অস্পৃশ্য মানবমণ্ডলী।

শিশুদের জন্য মহানবী (স)

মহানবী (স) মহান আদর্শ হয়ে এলেন শিশুদের জন্য। শিশুদের অধিকার আদায় করে দিয়ে তিনি শিশুদের কাছে অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে আছেন। ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে’। এ বাস্তবসত্যকে সামাজিকভাবে ফলপ্রসু করার জন্য বর্তমানে শিশুঅধিকার নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা শ্লোগান। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। তাই জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে শিশুঅধিকার দিবস ঘোষণা করা হলেও দিন যত গড়াচ্ছে শিশু অধিকার ততই ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। অথচ অনেক আগেই শিশুঅধিকার নিশ্চিতকল্পে মহানবী (স.) নানাবিধ কর্মসুূচি গ্রহণ করেছেন। মহানবী (স.) যখন কোন সওয়ারীতে আরোহণ করতেন তখন আগে-পিছে শিশুদেরকে তুলে নিতেন এবং পথিমধ্যে খেলাধুলারত শিশুদের আদর সোহাগ করাকে তাদের অধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। পুত্র-কন্যা উভয় শিশুকেই সমভাবে স্নেহ মমতা করার আদেশ দিয়েছেন। শিশুদের বিভিন্ন ক্রটি বিচ্যুতি অপরাধ হিসেবে না দেখে মমতা মাখা আদরে তা শুধরে দিতেন। তিনি শিশুদের শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়াকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। শিশুদের পরিচর্যা এবং মূল্যবোধ শিক্ষা দেয়াকে উত্তম সদকা বলে উল্লেখ করেছেন। কেননা সঠিক শিক্ষা না পেলেই শিশু-কিশোরেরা বিভ্রান্ত হবার সুযোগ পায়। বিশেষত কিশোর বয়সন্ধিক্ষণে অপরাধ জগত তাদেরকে রঙিন স্বপ্নে হাতছানি দেয়। প্রকৃতপক্ষে তিনিই ছিলেন শিশু-কিশোর অধিকারের মূর্তপ্রতীক।

নারী সমাজের জন্য উন্নত আসন

এ কথা নির্মম সত্য যে, একবিংশ শতাব্দিতে বিজ্ঞানের যুগে এসেও আমরা ঘুরে ফিরে আবার সেই জাহেলিয়া যুগেই ফিরে যাচ্ছি। আধুনিকতার মোড়কে নারীদের পণ্য বানানো হচ্ছে। মিডিয়া ও বিনোদনে নারীকে সাজানো হচ্ছে ভোগের সামগ্রী হিসেবে। নারী অধিকারের ভোকাল শ্লোগানিষ্টরাই কন্যা সন্তান রোধে কন্যা ভ্রুণ হত্যায় মেতে উঠেছে। ভারতের মতো মানবতাবাদী ও নারী অধিকারের প্রবক্তা বলে পরিচয়দানকারী রাষ্ট্রে দৈনিক প্রায় ৩ হাজারের অধিক কন্যা ভ্রুণ হত্যা করা হচ্ছে। এমনকি তামিলনারু ও রাজস্থানের মতো বিভিন্ন রাষ্ট্রে বড় বড় পোষ্টার ও প্রচারপত্রে শ্লোগান তোলা হয়েছে ৫০০ রুপি খরচ করুন, ৫ লাখ রুপি বাঁচান। অর্থাৎ ৫০০ রুপি খরচ করে আলট্রাস্নোগ্রাফী করে নিশ্চিত হোন পেটের সন্তান ছেলে না মেয়ে। মেয়ে হলে তাকে হত্যা করে তার ভরণ-পোষণ ও যৌতুকের ৫ লাখ টাকা বাঁচান। জাহেলিয়াযুগের কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবরদানের আধুনিকরূপ নয়কি এটা? অথচ মহানবী (স.) নারীদের জন্য উন্মুক্ত করেছেন বাঁচার রাস্তা। নারীদেরকে মর্যাদার আসনে আসীন করেছেন। তিনি এরশাদ করেছেন, যে পিতা একটি অথবা দুটি অথবা তিনটি কন্যা সন্তান সন্তোষ্ট চিত্তে লালন-পালন করে সুশিক্ষা দিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করবে সে পিতা-মাতা এবং আমি জান্নাতে পাশাপাশি অবস্থান করবো। তিনি আরো বলেছেন, কন্যাসন্তান তোমার জান্নাতের উছিলা এবং জাহান্নামের বাধা। পবিত্র কুরআনেও বলা হয়েছে, স্ত্রীরা তোমাদের পোষাক পুরুষরাও তাদের পোশাক।

শুধুমাত্র সমাজের সাধারণ নারীই নয় বরং বিধবা নারীরা ছিল সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। তাদেরকে সমাজের এতটাই বোঝা মনে করা হয়েছিল যে, তারা বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুকেই বেশি সহজ ও কল্যাণকর মনে করত। মহানবী (স.) বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে তাদেরকে সামাজিক মর্যাদার দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। হযরত আয়েশা (রা.) ছাড়া তাঁর সমস্ত স্ত্রীগণই বিধবা ছিলেন। তিনি বিধবা ও ইয়াতিমদের সম্পর্কে ঘোষণা করেন, যে কেউ কোন বিধবা ও ইয়াতিম-মিসকিনের কল্যাণ সাধনে সচেষ্ট থাকে সে আল্লাহর পথে জিহাদেরত কিংবা ঐ ব্যক্তির সমতুল্য যে দিনে রোজা রাখে এবং সারারাত ইবাদতে কাটায়, (তিরমিজী)। অথচ আধুনিকবিশ্বেও বিধবা নারীগণ সামাজিকভাবে বঞ্চনার শিকার।

দাস-দাসী থেকে মানুষ ঘোষণা

জাহিলি সমাজে দাস-দাসীগণ ছিলেন সমাজের সবচেয়ে অস্পৃশ্য জনগোষ্ঠি। মনে করা হতো যে, দাস-দাসীদেরকে মনিবের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। তারাও যে মানুষ এ ধারণাই করা হতো না। মহানবী (স.) প্রথম শ্রেণী-বিভেদ দূর করলেন এবং দাস-দাসীগণকে মানব সমাজের সমমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি দাস-দাসীকেদরকে আযাদ করে তার পরিবারের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি ঘোষণা করেন, “দাস-দাসীগণও তোমাদের মতই মানুষ এবং তোমাদেরই ভ্রাতা, ভগ্নি বা তাহাদিগকে আল্লাহতায়ালা তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। তোমরা নিজেরা যা খাও তাদিগকে তাই খাওয়াও, নিজেরা যা পরিধান কর তাদিগকে তাই পরিধান করাও এবং তাদিগকে সাধ্যের অধিক কাজ দিবেনা, যদি দিতেই হয় তবে নিজেরাও সহায়তা করবে”। অথচ বর্তমান বিজ্ঞানময় আধুনিক সমাজে দাস-দাসী না থাকলেও বাড়ির কাজের বুয়া, গেন্দু কিংবা ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে বাসাবাড়ির কাজে নিয়োগ করে তাদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়। যারা বেশি প্রগতিশীলতার ধারক-বাহক, শিশু অধিকার সম্পর্কে সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে ব্যস্ত থাকেন তাদের ঘরের কাজের শিশুটিই বেশি অধিকার বঞ্চিত। এমনকি তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের প্রতিনিধিদের ঘরেই কাজের বুয়া কিংবা কাজের শিশুরা বেশি নিগৃহীত হয়-নির্যাতিত হয়, এমনকি জীবননাশের মত ঘটনাও ঘটে।

আদর্শ সমাজ বিনির্মাণ

একবিংশ শতাব্দিতে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা চলছে। এ সময় মানবতাবোধ, মানবাধিকার, প্রগতিশীলতা প্রভৃতি শব্দগুলো ব্যাপক আকর্ষণীয় রঙে উপস্থাপিত হচ্ছে। আধুনিকতার প্যাকেজ দিয়ে সামনে এগিয়ে যাবার স্বপ্ন তৈরীতে ব্যস্ত অনেকেই। এ স্বপ্নে আমরাও জীবনের বাস্তবতা হারিয়ে সর্বক্ষণ স্বপ্নের মতো দৌড়াচ্ছি। নতুন নতুন যন্ত্রের সাথে আমরাও হয়ে যাচ্ছি জীবন্ত রোবট। যখন মৃত্যু ঘনিয়ে আসে তখন আর কিছুই করার থাকে না। পরপারের বাস্তবতায় নয় পৃথিবীবাসির বিশ্লেষণেই আমার প্রেম প্রমাণিত হলো স্বার্থবাদী হিসেবে, মানবতাবোধ চিহ্নিত হলো নিজের সুখ-শান্তি ধরার ফাঁদ হিসেবে। মানবাধিকার উপস্থাপিত হলো অন্যের অধিকারের নাম করে নিজের আয়েশী জীবন পাবার মুখোশ হিসেবে এবং দুর্গতি ও দুর্দশাগ্রস্ত-দুর্গতিময় সামাজিক অবকাঠামো গড়ার বাহন হিসেবে। প্রমাণিত হলো প্রগতিশীলতা। তাহলে কি পেলাম এ রঙিন শ্লোগানে নিজেকে উচ্চকিত করে? ‘ভালোবাসার শেষ ফল, বুকে ব্যথা চোখে জল’ সে জলটুকুও মিলবে কি? তাই মানবতাবাদী মহাপুরুষ হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর আদর্শের কাছে ফিরে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ নয় কি?

শেষ কথা

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স) -এর জীবনে রয়েছে মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। পুত্র দেখতে পাবে মাতৃ-পিতৃভক্ত পুত্রের সর্বোত্তম চরিত্র। পিতা দেখতে পাবে তাঁর মধ্যে ক্ষমতাশীল কর্তব্যপরায়ণ আদর্শ পিতার চরিত্র। স্বামী দেখতে পাবে তাঁর মধ্যে স্ত্রী-অনুরাগী আদর্শ স্বামীর চরিত্র। ব্যবসায়ী দেখতে পাবে তাঁর মধ্যে সত্যবাদী আদর্শ ব্যবসায়ীর চরিত্র। যোদ্ধারা দেখতে পাবে তাঁর মধ্যে আদর্শ যোদ্ধার চরিত্র। সেনাপতিরা দেখতে পাবে তাঁর মধ্যে রণকৌশল, স্থির মস্তিষ্ক ও বীর সেনাপতির চরিত্র। জনসেবকেরা দেখতে পাবে তাঁর মধ্যে আদর্শ জনসেবকের চরিত্র। বিচারকেরা দেখতে পাবে তাঁর মধ্যে ন্যায়-নিরপেক্ষ বিচারকের চরিত্র। মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহামানব বিশ্বনবী মুহাম্মদ (স) এর অনুপম আদর্শ বিদ্যমান। এ প্রেক্ষাপটে উচ্চস্বরে ঘোষণা করা যায়, কোন ব্যক্তিকেন্দ্রিক মতাদর্শ নয়, কেবল মহানবীর (স.) আদর্শই পারে মানুষকে মানবতাবোধে উজ্জীবিত করতে। তিনি নন আরবে কিংবা অনারবের, শুধু আমিরের নন, নন শুধু ফকিরের। তিনি একক কারো নন, তিনি সকলের; সকল মানুষের। মানতাবাদের যে আদর্শ আমাদের সামনে দেখানো হচ্ছে এগুলো আলেয়া কিংবা রঙিন ফানুস বৈ কিছু নয়। তাই দ্বিধাহীন চিত্তে বলতেই পারি, হযরত মুহাম্মদই (স.) মানবতাবাদী আদর্শ মহামানব। তাঁর পরশেই এ অশান্ত পৃথিবীতে শান্তির মশাল জ্বলে উঠতে পারে। তাঁর আর্দশের ছোঁয়ায় এ সবুজ জমিনে বয়ে যাবে সুখ-শান্তির বহতা নদী। মানবিক মূল্যবোধের স্রোতে প্লাবিত হবে পৃথিবীময় মানবজমিন।

লেখক:

কবি ও গবেষক; প্রফেসর, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।