মুহাম্মদ নূরে আলম
হাজরে আসওয়াদ পবিত্র কাবার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে প্রোথিত একটি বিশেষ কালো পাথর। এটি বিশ্বের শতকোটি মুসলিমের হৃদয়ের আবেগ, হজ ও উমরার তাওয়াফের সূচনা ও সমাপ্তির স্মারক। তবে ইসলামী ইতিহাস ও সীরাতের পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, হাজরে আসওয়াদ কেবল একটি প্রাথরিক অস্তিত্ব নয়; বরং এটি তাওহিদ (একত্ববাদ), সুন্নাহর অনুগত্য, প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্ব এবং সামাজিক সংঘাত নিরসনের এক ঐতিহাসিক শিক্ষাকেন্দ্র। মুসলিমদের ইবাদত ও ভালোবাসায় হাজরে আসওয়াদের গুরুত্ব অপরিসীম হলেও একে কেন্দ্র করে অনেক সময় মূর্খতা, চরমপন্থা ও অতিরঞ্জিত লোককাহিনির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এই গবেষণামূলক প্রবন্ধে কুরআন, সহিহ হাদিস এবং প্রামাণ্য সীরাতগ্রন্থের আলোকে হাজরে আসওয়াদের ঐতিহাসিক সত্যতা, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভূমিকা এবং এর মূল আধ্যাত্মিক ও সামাজিক শিক্ষা বিশ্লেষণ করা হলো।
এক. হাজরে আসওয়াদ কী? ‘হাজর’ (حجر) শব্দের অর্থ পাথর এবং ‘আসওয়াদ’ (أسود) শব্দের অর্থ কালো। ফলে ‘হাজরে আসওয়াদ’ শব্দের শাব্দিক অর্থ ‘কালো পাথর’। এটি পবিত্র কাবার পূর্ব-দক্ষিণ কোণে (যাকে রুকনে আসওয়াদ বা হাজরে আসওয়াদ কোণ বলা হয়) মাটি থেকে প্রায় ১.১ মিটার (সাড়ে তিন ফুট) উঁচুতে রূপার ফ্রেমে বাঁধানো অবস্থায় সংরক্ষিত রয়েছে। তাওয়াফ শুরুর স্থান নির্দেশক হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি তাওয়াফের চক্কর এই পাথরের সোজা অবস্থান থেকে শুরু এবং সেখানেই শেষ করতে হয়। সুযোগ থাকলে এটিকে স্পর্শ করা বা চুম্বন করা সুন্নাহ, আর ভিড়ের কারণে সম্ভব না হলে দূর থেকে ইশারা করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলা বিধান।
হাজরে আসওয়াদ কি উপাসনার বস্তু, এই প্রশ্ন সবার? ইসলামের মৌলিক দর্শন হলো তাওহিদ বা একত্ববাদ। ইসলামী আকিদায় পাথর, গাছ, সূর্য, মানব বা অন্য কোনো সৃষ্টবস্তুর উপাসনা (ইবাদত) সম্পূর্ণ শিরক ও হারাম। মুসলমানরা হাজরে আসওয়াদকে সম্মান করে, কিন্তু এর ইবাদত বা উপাসনা করে না। এই স্থানটিকে তাওহিদি দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন আমিরুল মুমিনীন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি হাজরে আসওয়াদের সামনে দাঁড়িয়ে তাকে চুম্বন করে বলেছিলেন, “আমি নিশ্চিতভাবেই জানি যে তুমি কেবলই একটি পাথর! তুমি কারও কোনো উপকারও করতে পারো না, ক্ষতিও করতে পারো না। আমি যদি রাসুলুল্লাহ (সা.) -কে তোমাকে চুম্বন করতে না দেখতাম, তবে আমি কখনোই তোমাকে চুম্বন করতাম না।” (সহিহ বুখারি: ১৫৯৭)। হযরত উমর (রা.)-এর এই ঐতিহাসিক উক্তি প্রমাণ করে যে, হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা নিছক সুন্নাহর প্রতি আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ, পাথরের প্রতি অলৌকিক বা ঈশ্বরসুলভ ভক্তির কারণে নয়।
দুই. হাজরে আসওয়াদের প্রাচীন ইতিহাস অনেক প্রাচীন। হাজরে আসওয়াদের ইতিহাস হযরত ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-এর মাধ্যমে কাবার নির্মাণের সাথে সম্পর্কিত। বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে অবতীর্ণ হওয়ার বর্ণনা পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে অবতীর্ণ হয়েছিল। এটি দুধের চেয়েও ধবধবে সাদা ছিল, কিন্তু বনি আদমের (মানুষের) পাপ এটিকে কালো করে দিয়েছে।” (সুনানে তিরমিজি: ৮৭৭)। মুহাদ্দিসগণের মতে, এই হাদিসটি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত প্রমাণিত (হাসান-সহিহ)। এর আধ্যাত্মিক বার্তা হলো, মানুষের অপরাধ ও পাপ পবিত্র বস্তুর ওপরও বস্তুগত প্রভাব ফেলে। তবে এই রূপক বা বস্তুগত পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে কোনো অলৌকিক ক্ষমতার আরোপ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রচলিত কিছু গল্পে বলা হয়, হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করলেই সকল কবিরা গুনাহ এমনিতেই মুছে যায়, অথবা কেয়ামতের দিন এটি বিচারকের ভূমিকা পালন করবে এবং নির্দিষ্ট লোকদের জান্নাতে নিয়ে যাবে। তবে বিশুদ্ধ হাদিস বিশারদদের মতে, পাপ মোচনের পূর্বশর্ত হলো খাঁটি তওবা (তওবাতুন নাসুহা)। তাওয়াফ ও স্পর্শ সুন্নাহভিত্তিক ইবাদত মাত্র, এটি স্বয়ংসক্রিয় পাপ মোচনকারী কোনো যাদুকরী বস্তু নয়।
তিন. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বয়স যখন আনুমানিক ৩৫ বছর (নবুয়ত প্রাপ্তির ৫ বছর আগে), তখন মক্কায় এক তীব্র পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় কাবার জীর্ণ দেয়াল ধসে পড়ার উপক্রম হয়। তখন কুরাইশ গোত্র সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা পুরনো ভিত্তি ভেঙে নতুন করে কাবা পুনর্নির্মাণ করবে। পবিত্র কাবার মর্যাদা রক্ষার্থে তারা কেবল ‘হালাল উপার্জন’ দিয়ে কাবা নির্মাণের সংকল্প করে এবং কোনো সুদের টাকা, বেশ্যাবৃত্তির অর্থ বা অন্যায়ভাবে অর্জিত ধনসম্পদ এতে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করে।
কাবার দেয়াল পুননির্মাণের কাজ যখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছাল এবং হাজরে আসওয়াদকে তার নির্দিষ্ট স্থানে পুনরায় স্থাপন করার সময় হলো, তখন মক্কার বিভিন্ন প্রভাবশালী কুরাইশ গোত্রের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দিল। হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করা ছিল অত্যন্ত সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ কাজ। মক্কার প্রতিটি বিখ্যাত গোত্র; বানু আবদ অদ্-দার, বানু মখজুম, বানু আদি, বানু হাশিম; চাইতেছিল এই মহান সম্মানের একচ্ছত্র মালিক তারা নিজেরা হবে। বিরোধ এতই উগ্র আকার ধারণ করল যে, বানু আবদ অদ্-দার ও বানু মখজুম গোত্র রক্তে হাত ডুবিয়ে শপথ গ্রহণ করল (যাকে ‘লিকারুদ দাম’ বা রক্তের পিয়াসী বলা হয়) যে, প্রয়োজনে যুদ্ধ করে জীবন দেবে, তবু প্রতিপক্ষকে এই মর্যাদা নিতে দেবে না। নির্মাণের কাজ চার-পাঁচ দিন সম্পূর্ণ বন্ধ রইল এবং মক্কায় এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলো। এই সংকটময় মুহূর্তে কুরাইশদের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি আবু উমাইয়া ইবনুল মুগিরা আল-মখজুমি একটি প্রস্তাব দিলেন। তিনি বললেন, “আগামীকাল সকালে যে ব্যক্তি সবার প্রথম ‘বাবুস সাফা’ (সাফা দরজা) দিয়ে কাবার চত্বরে প্রবেশ করবে, আমরা তাকেই আমাদের শালিস বা বিচারক মেনে নেব। সে যে সিদ্ধান্ত দেবে, সবাই তা মেনে নেব।” সবাই এই প্রস্তাবে সম্মত হলো। পরদিন সকালে কুরাইশরা উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছিল। দেখা গেল, সাফা দরজা দিয়ে প্রথম প্রবেশ করছেন তরুণ মুহাম্মদ (সা.)। তাঁকে দেখামাত্রই মক্কার সমস্ত গোত্রপতিরা সমস্বরে চিৎকার করে উঠল, “হাজা আল-আমিন! রাজিনা বিহি!” (ইনিই তো আল-আমিন বিশ্বস্ত ব্যক্তি! আমরা তাঁর সিদ্ধান্তে পুরোপুরি সন্তুষ্ট ও সম্মত!) নবুয়ত লাভের আগেই মুহাম্মদ (সা.) তাঁর সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও নিরপেক্ষতার জন্য সমগ্র মক্কায় ‘আল-আমিন’ বা পরম বিশ্বাসী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রজ্ঞাপূর্ণ সমাধানের কৌশল: রাসুলুল্লাহ (সা.) বিষয়টি শোনার পর কোনো একটি নির্দিষ্ট গোত্রকে প্রাধান্য না দিয়ে এক কালজয়ী ও উদ্ভাবনী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। ১. তিনি তাঁর একটি গায়ের চাদর বা কাপড় মাটিতে বিছিয়ে দিলেন। ২. হাজরে আসওয়াদকে উঠিয়ে নিজ হাতে সেই চাদরের ঠিক মাঝখানে রাখলেন। ৩. এরপর প্রতিটি গোত্রের নেতা বা প্রতিনিধিকে ডেকে বললেন চাদরের চারপাশ ধরে পাথরটিকে দেয়ালের উচ্চতা পর্যন্ত একযোগে তুলে ধরতে। ৪. যখন পাথরটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাল, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে হাত দিয়ে হাজরে আসওয়াদকে কাবার কোণে স্থাপন করলেন। এই একটি মাত্র ঘটনার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কাকে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘাত থেকে রক্ষা করেন। এখানে তাঁর নেতৃত্বের বেশ কিছু অনন্য গুণ ফুটে ওঠে। যেমন: ১. নিরপেক্ষতা ও সমতা নিশ্চিত করতে কোনো গোত্রকে বঞ্চিত না করে সবাইকে সম্মানের অংশীদার করেছেন। ২. উসকানিমূলক পরিস্থিতিতে আবেগ সামলে যৌক্তিক কৌশল অবলম্বন করেছেন। ৩. বিভাজনের বিপরীতে যৌথ অংশগ্রহণের রাজনীতি শিক্ষা দিয়ে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা করেন।
নবুয়ত প্রাপ্তির পর এবং মক্কা বিজয়ের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) হাজরে আসওয়াদের প্রতি যে সুন্নাহ ও আদব প্রদর্শন করেছেন, তা সহিহ হাদিসে স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। সহিহ বুখারিতে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বিদায়ী হজের সময় উটে চড়ে তাওয়াফ করেছিলেন এবং প্রতিবার হাজরে আসওয়াদের সোজা আসলে হাতের লাঠি দিয়ে ইশারা করেছিলেন এবং তাকবির বলেছিলেন। এর দ্বারা তিনি উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, ইবাদতে অন্যান্য মানুষকে কষ্ট দেওয়া বা ভিড় তৈরি করা সুন্নাহর পরিপন্থী।
চার. ইসলাম ধর্মের ভিত্তি হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই)। হাজরে আসওয়াদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের শিরক বা অতিরঞ্জনের স্থান ইসলামে নেই।
ইসলাম শায়াইরুল্লাহ বা ‘আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে’ সম্মান করতে বলেছে (কুরআন ২২:৩২)। কিন্তু কোনো প্রতীককে উপাসনার বস্তুতে পরিণত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
হাজরে আসওয়াদকে কেন্দ্র করে হজ ও উমরার তাওয়াফে শরীয়তের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। যেমন: ১. চুম্বন ও স্পর্শ করা সুন্নাহ মুস্তাহাব্বা: এটি ওয়াজিব বা ফরজ নয়। ২. অন্যকে কষ্ট দেওয়া হারাম: ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি করা, নারী-পুরুষের অশালীন ভিড় তৈরি করা বা কাউকে আঘাত করা হারাম।
একটি সুন্নাহ আদায় করতে গিয়ে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ বর্জনীয়। ৩. দূর থেকে ইশারা (ইস্তিলাম): যদি ভিড় থাকে, তবে সোজা দাঁড়িয়ে ডান হাত উঠিয়ে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে তাওয়াফ অব্যাহত রাখাই রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নির্দেশিত সহজ সুন্নাহ।
পাঁচ. বাংলাদেশের অনেক সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে হাজরে আসওয়াদ নিয়ে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। নিচে প্রামাণ্য তথ্যের ভিত্তিতে সেগুলোর সংশোধন দেওয়া হলো: ১. ভুল ধারণা: হাজরে আসওয়াদ একটি সর্বশক্তিমান পাথর যা মানুষের সব বিপদ দূর করে। সঠিক তথ্য: পাথরটির নিজের কোনো ক্ষমতা নেই। আল্লাহ তাআলার হুকুম ও রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ ছাড়া এর কোনো নিজস্ব প্রভাব নেই। (রেফারেন্স: সহিহ বুখারি: ১৫৯৭)।
পরিশেষে; হাজরে আসওয়াদের ইতিহাস মূলত তাওহিদের বিশুদ্ধতা রক্ষা এবং সুন্নাহ অনুসরণের এক মহোত্তম উদাহরণ। কাবার কোণে অবস্থিত এই পাথরটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় কীভাবে হযরত ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.) একত্ববাদের দাওয়াত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং কীভাবে আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সা.) তাঁর প্রজ্ঞা দিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধ করেছিলেন। একজন মুসলিম যখন হাজরে আসওয়াদের দিকে হাত উঠিয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে, তখন সে মূলত কোনো পাথরের ইবাদত করে না; বরং বিশ্বজাহানের মালিক আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দেয় এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করে।
তথ্যসূত্র ও গ্রন্থপঞ্জি: ১. সীরাতে ইবনে হিশাম (১ম খণ্ড): আল-হাফিজ ইবনে হিশাম; কুরাইশদের কাবা পুনর্নির্মাণ ও নবীজির ‘আল-আমিন’ ভূমিকা (পৃষ্ঠা: ১৯৭-২০১)। ২. আর-রাহীকুল মাখতূম: আল্লামা সফিউর রহমান মোবারকপুরী; নবুয়তের পূর্ববর্তী জীবন ও কাবা সংস্কার অনুচ্ছেদ। ৩. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২য় খণ্ড): ইবনে কাছীর; কাবা পুনর্নির্মাণ ও হাজরে আসওয়াদ স্থাপনের ঐতিহাসিক বিবরণ।
লেখক:
সাংবাদিক ও গবেষক