আহসান হাবিব বুলবুল

‘রাসূলের জীবনে তোমাদের জন্য রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ’ (আল কুরআন)।

হযরত মুহাম্মদ (সা:) সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব ও শ্রেষ্ঠ রাসূল। তিনি ছিলেন শেষনবী। বিশ্বমানবের ইতিহাসে মহানবী (সা:)-এর স্থান সবার উপরে। তাঁর তাকওয়া, অনুপম ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র মাধুর্য আমাদের সকলের জন্য অনুসরণযোগ্য।

রাসূল (সা:) ছিলেন আল্লাহর নবী একই সঙ্গে একজন মানুষ। এই উভয় পরিচয়ে তিনি সত্য ও সুন্দরকে ভালোবেসেছেন। তিনি গরীব, দুর্বল, অনাথ, নারী সমাজ এবং সামগ্রিকভাবে বঞ্চিত নিপীড়িত মানবতার বিশেষ যত্ন ও সৌহার্দ্য প্রদর্শন করে গেছেন। ক্ষুদ্র শিশু এবং কিশোররা পর্যন্ত মহান নবীর সর্বাত্মক স্নেহ ও সুবিবেচনার অংশীদার হয়েছিল।

শিশুর অন্তরের অমিত সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তোলার জন্য মানবতার বন্ধু রাসূল (সা:)-এর চেষ্টার শেষ ছিল না। যে কারণে সর্বাবস্থায় তিনি শিশু-কিশোরদের ভালো-মন্দের কথা মনে রেখেছেন এবং সে অনুযায়ী আচরণ করেছেন। তিনি বলেছেন, “যারা আমাদের ছোটদের আদর করে না এবং বড়দের সম্মান করে না তাদের সাথে আমার সম্পর্ক নেই।” রাসূল (সা:) শিশুদের চরিত্রবান করে গড়ে তুলতে ও শিক্ষার ব্যবস্থা করতে অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছেন।

‘শিশুর জন্য হ্যাঁ বলুন’-শিশু অধিকার রক্ষার প্রশ্নে দুনিয়াব্যাপী আজ এই স্লোগানটি উচ্চারিত হচ্ছে। রাসূল (সা:) আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে শিশুদের প্রতি সেই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে গেছেন।

একদা রাসূল (সা:) একদল শিশুর সঙ্গে আনন্দ করছেন। শিশুরাও নবীজীকে ঘিরে খুশিতে মেতেছে। এমন সময় সেখানে এক বেদুঈন এসে উপস্থিত হলো। সে বললো, “শিশুদের নিয়ে এমন আমোদ-আহলাদ আমার পছন্দ নয়।”-রাসূল (সা:)-এর হাসি-খুশিমাখা মুখখানি মলিন হয়ে গেল। তিনি শুধু বললেন, যে ব্যক্তির হৃদয়ে মায়া-মমতা নেই, আল্লাহ যেন তাকে দয়া করেন” (মুসলিম)।

রাসূল (সা:) শিশুমনের অভিব্যক্তি বুঝতে পারতেন। তাদের চাওয়া-পাওয়া, মান-অভিমান সবই আপন করে নিতে পারতেন। তাই শিশুরাও একাকার হয়ে যেত রাসূল (সা:)-এর ভালবাসায়। রাসূল (সা:) বলেছেন, ‘শিশুরা আল্লাহর দেয়া খোশবু। ওরা ফুলের মতো’ (মিশকাত)।

মহানবী কোন শিশুর মনের কষ্ট প্রশমনে শিশুর মতোই আচরণ করেছেন। আরেকটি ঘটনা : ছোট শিশু আবু উমায়র। তার একটি পোষা পাখি ছিল। পাখিটি বেশ রঙিন। আরবিতে লাল পাখিকে ‘নুগায়র” বলে। ও বড় আদর করতো পাখিটিকে। আবু উমায়র পাখিটি নিয়ে প্রায়ই প্রিয়নবীর কাছে আসতো। রাসূল (সা:) তাকে আদর দিতেন। ওর লাল টুকটুকে পাখিটি নিয়ে খেলা করতেন। একদিন উমায়রের পাখিটি অসুখ হয়ে মারা যায়। এতে সে মনের দুঃখে কাঁদতে কাঁদতে রাসূল (সা:)-এর কাছে এলো। নবীজী অবস্থা আঁচ করতে পারলেন। তিনি উমায়রকে কাছে টেনে নিলেন। তারপর সুন্দর করে ছড়া কাটলেন,

‘ওহে আবু উমায়র

কি হলো তোমার নুগায়র।

নবীজীর ছন্দ ও সুর শুনে সে হেসে ফেললো (বুখারী ও মুসলিম)।

হাদিসের এমন অনেক ঘটনা রয়েছে যা থেকে আমরা রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর শিশুদের প্রতি উদার মনোভাব ও সৌহার্দ্যরে পরিচয় পাই। মসজিদে নববীর সামনে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে নিয়মিত খেলতে আসা এক দূরন্ত ইয়াহুদী বালককে কয়েকদিন দেখতে না পেয়ে রাসূল (সা:) চিন্তিত হয়ে পড়েন। তিনি সাহাবীদের খোঁজ নিতে বলেন। জানা যায়, ছেলেটি অসুস্থ। তিনি তাৎক্ষণিক সেই ইয়াহুদী বালকের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হন এবং তাকে নিজ হাতে তুলে খাওয়ান। তাঁর সেবা শুশ্রƒষায় বালকটি সুস্থ হয়ে ওঠে।

হযরত আনাস (রা:) বলেন, “যখন রাসূলুল্লাহ (সা:) শিশুদের পাশ দিয়ে যেতেন, তিনি তাদের অভিবাদন করতেন, বলতেন, সালামু আলাইকুম’ (বুখারী)।

রাসূল (সা:) যেমন শিশুদের ভালোবাসতেন, তেমনি শিশুরাও মহানবীকে প্রাণ দিয়ে ভালবাসতো। মদিনায় হিজরতের ঘটনা: রাসূল (সা:) এক সোনালী প্রভাতে মদিনার দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেন। চারদিকে আল্লাহর নবীর আগমন বার্তা ঘোষিত হয়। মদিনায় আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। কচি-কাঁচা ছেলেমেয়েরা আনন্দে নাচতে নাচতে রাস্তায় নেমে আসে রাসূল (সা:)কে এক নজর দেখবে বলে। রাসূল (সা:) তাদের মাঝে গিয়ে দাঁড়ালেন। তারপর ফুলের মতো শিশুদের কাছে টেনে নিলেন। সোহাগ জড়ানো কণ্ঠে বললেন, “তোমরা আমায় ভালবাসবে তো!”

শিশুরা সমস্বরে বলে উঠলো, “নিশ্চয় ভালবাসবো। প্রয়োজন হলে আপনার জন্য আমরা জীবন দিব। আপনি আমাদের পড়শি” (রাসূলুল্লাহর সংগ্রামী জীবন)।

শিশুদের প্রতি রাসূল (সা:)-এর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির বড় উদাহরণ দৌহিত্র শিশু হাসান ও হুসাইন (রা:)। তিনি নাতী হাসান-হুসাইনকে অত্যন্ত ভালবাসতেন। হাদিসে আছে যখন রাসূল (সা:) সিজদায় যেতেন তখন শিশু হাসান-হুসাইন (রা:) রাসূল (সা:)-এর পিঠে চড়ে বসতেন। তখন নবীজী অনেক সময় ধরে সিজদায় থাকতেন। তবু যখন তারা নামতো না, তখন তিনি বাম হাত দিয়ে পিঠে জড়িয়ে ধরে নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন।

মসজিদে শিশুদের উপস্থিতি: মসজিদে নামাজের কাতারে শিশুদের অংশগ্রহণ ছিল মুসল্লিদের জন্য আনন্দদায়ক। তারা বড়দের পিছনে দাঁড়াতো। তাদের পিছনে অর্থাৎ শেষে দাঁড়াতেন মেয়েরা (বুখারী/মুসলিম)। শিশুদের কান্না শোনা গেলে আল্লাহর রাসূল (সা:) শিশু ও মায়ের কষ্ট, পেরেশানি হবে ভেবে কিরাত সংক্ষিপ্ত করতেন। (বুখারী/মুসলিম)

শিশুদের অগ্রাধিকার দিন: রাসূল (সা:) সব সময় শিশুদের অগ্রাধিকার দিতেন। তিনি যখন কোন বৈঠকে বসতেন, তখন তাঁর কিছু সাহাবা তাঁর চারপাশে বসতেন। তাদের মধ্যে একজনের একটি ছোট বালক ছিল। ওই শিশুটি রাসূল (সা:)-এর কাছে আসতো পেছন দিক থেকে। কিন্তু নবীজী ছেলেটিকে তাঁর সামনে এনে বসাতেন। (আত তারগীব ওয়াত তারহীব)।

রাসূল (সা:) কখনো সফরে বের হলে কোন শিশুকে দেখলে তাকে উটের পিঠে উঠিয়ে নিতেন এবং তার গন্তব্যে পৌঁছে দিতেন। এসব ঘটনা থেকে শিশুদের প্রতি রাসূল (সা:)- এর অকৃত্রিম ভালবাসা ও দায়িত্ববোধ পরিস্ফুটিত হয়ে ওঠে।

শিশুদের দিয়ে ভারি কাজ করানো যাবে না: রাসূল (সা:) শিশুদের দিয়ে ভারি কাজ করাতে নিষেধ করেছেন। উন্নয়নশীল দেশে দারিদ্র্যের কারণে অনেক শিশু ভাবি ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে থাকে। এসব শিশু কখনো দুর্ঘটনায় পতিত, কখনো মালিকের দ্বারা নির্যাতিত হয়। রাসূল (সা:) তাঁর অধীনস্তদের প্রতি খুবই সদয় ছিলেন। আনাস বিন মালিক (রা:)-এর বর্ণনায় জানা যায়, দশ বছর বয়সে তার মা তাকে রাসূল (সা:)-এর খেদমতে পেশ করেন। আনাস প্রায় দশ বছর রাসূল (সা:)-এর কাছে ছিলেন। আনাস (রা:) বলেন, “এই দীর্ঘ সময়কালে রাসূলুল্লাহ (সা:) কখনো কোন ধরনের মেজাজ দেখাননি। অথবা আমার প্রতি কোন অভিযোগসূচক ভাষা ব্যবহার করেননি। কোন ক্ষতি করে বসলেও রাসূল (সা:) কখনো আমায় তিরস্কার করেননি। বরং পরিবারের সদস্যদের উপদেশ দিয়েছেন এটাকে ভুলে যেতে। এই ঘটনা ঘটবার ছিল তাই ঘটেছে। ক্ষতির জন্য তাকে (আনাসকে) দোষী সাব্যস্ত করা উচিত হবে না” (বুখারী)।

বুখারী শরীফের অন্য একটি হাদিসে জানা যায়: খৃস্টান বালক জায়িদ। শৈশবে সে অপহৃত হয়। দস্যুরা তাকে বিক্রি করে দেয়। অনেক হাত ঘুরে জায়িদ শেষ পর্যন্ত রাসূল (সা:)-এর স্নেহ, ছায়ায় আসে। খোঁজ পেয়ে একদিন জায়িদের আব্বা ও চাচা রাসূল (সা:)-এর কাছে আসেন জায়িদকে ফিরিয়ে নিতে। রাসূল (সা:) জায়িদকে ডাকলেন। সে তার আব্বা ও চাচাকে চিনতে পারলো। পিতার করুণ অবস্থা দেখে রাসূল (সা:) জায়িদকে মুক্ত করে দিলেন। কিন্তু জায়িদ বললো, “আমি যাব না। আপনি আমার আব্বা আম্মার চেয়েও বেশি প্রিয়। আমি আপনাকে ভালবাসি, চিরদিন ভালবাসবো।”

-আব্বা ও চাচা যখন প্রত্যক্ষ করলেন, তাদের পুত্র স্বাধীনতার চেয়ে রাসূলুল্লাহর (সা:) খেদমতে থাকা বেশি পছন্দ করছে, তখন তারা সন্তুষ্টচিত্তে মক্কা ত্যাগ করলেন। জায়িদের প্রতি রাসূল (সা:)-এর আদর ও স্নেহের কারণেই জায়িদ পিতা-অভিভাবক ও স্বাধীনতার চেয়ে আল্লাহর রাসূল (সা:) কে অধিক পছন্দ করেছিল।

কন্যা শিশুদের প্রতি বৈষম্য নয়: বর্তমানে কন্যা শিশুর প্রতি বৈষম্য না করার জন্য সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে। কন্যাশিশু দিবসও পালন করা হচ্ছে। অথচ রাসূল (সা:) তাঁর সময়েই কন্যা সন্তানের অধিকার রক্ষায় যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে গেছেন। তিনি পুত্রসন্তানকে কন্যাসন্তানের উপর প্রাধান্য না দেয়ার জন্য বলেছেন। প্রাক-ইসলামী যুগে কন্যা সন্তান অবহেলিত হবার কারণে তিনি কন্যাশিশুকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা যখন ঘরে ফিরবে এবং কোন উপহার নিয়ে আসবে তখন কন্যা সন্তানকে আগে দিয়ে শুরু করবে।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা:) বলেছেন, কোন ব্যক্তির ঘরে কন্যা সন্তান ভূমিষ্ট হবার পর সে যেন তাকে জাহেলিয়াত যুগের ন্যায় জীবিত কবর না দেয় এবং তাকে তুচ্ছ মনে না করে, আর পুত্র সন্তানকে উক্ত কন্যা সন্তানের উপর প্রাধান্য না দেয়। তাহলে আল্লাহ তাকে বেহেশত দান করবেন। (আবু দাউদ)

শিশুদের যুদ্ধে ব্যবহার ও হত্যা করা নিষেধ: বর্তমানে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে শিশুদের জাতিগত দ্বন্দ্ব-সংঘাতে ও যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। জাতিসংঘ শিশুদের রক্ষায় বিশ্বজনমত গড়ে তুলতে সচেষ্ট। আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা:) অনেক আগেই শিশুদের যুদ্ধে ব্যবহার ও হত্যা না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। বদর যুদ্ধের ঘটনা: রাসূল (সা:) যুদ্ধের প্রস্তুতি নিজে তদারকি করছেন। দেখা গেল, যোদ্ধাদের সঙ্গে কিছু সংখ্যক বালকও প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাসূল (সা:) বালকদের জিহাদী প্রেরণা দেখে খুশি হলেন। কিন্তু কচিশিশুদের ঘরে ফিরে যেতে বললেন। অবশ্য উমায়র নামক একটি বালকের দৃঢ় সংকল্পের জন্য শেষে তাকে যুদ্ধে যেতে অনুমতি দিয়েছিলেন। (বুখারী)

অপর এক যুদ্ধের কথা। সে যুদ্ধে কয়েকজন শিশু মারা যায়। তারা ছিল শত্রুপক্ষের। এ খবর এসে পৌঁছলে রাসূল (সা:)-এর প্রাণ কেঁদে ওঠে। তিনি খুবই আফসোস ও দুঃখ প্রকাশ করতে থাকেন। এ অবস্থা দেখে একজন সৈনিক বললো, হে আল্লাহর নবী! আপনি যাদের জন্য এত মর্মবেদনা ভোগ করছেন তারা বিধর্মীদের সন্তান। রাসূল (সা:) তার কথায় অসন্তুষ্ট হলেন। তিনি বললেন, “এখন থেকে সাবধান হও। কখনো শিশুদের হত্যা করবে না। প্রতিটি শিশুই নিষ্পাপ, ওরা ফুলের মতো” (মিশকাত)।

ইয়াতিম অনাথ শিশুদের আশ্রয় দাও: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) ইয়াতিম অনাথ নিরাশ্রয় শিশুদের আশ্রয় দিয়েছেন। তাদের ভালোবেসেছেন। তাদের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দিতে বলেছেন সকলকে।

ঈদের দিনের একটি ঘটনা। রাসূল (সা:) নামায শেষে শুভেচ্ছা বিনিময় করে বাড়ির পথে পা বাড়িয়েছেন। হঠাৎ শত আনন্দের মাঝেও কান্নার সুর ভেসে এলো। মহানবী দেখলেন, পথের ধারে একটি শিশু বসে বসে কাঁদছে। তিনি ছুটে গেলেন শিশুটির কাছে। আদর করে বললেন, কি হয়েছে তোমার, কাঁদছো কেন? ছেলেটি বললো, ‘যুদ্ধে আমার আব্বা মারা গেছেন। আম্মাও বেঁচে নেই। আজ ঈদ...!’-রাসূল (সা:) ছেলেটিকে বুকে টেনে নিলেন। বললেন, ‘আমিও ছোটবেলায় আম্মাকে হারিয়েছি। আর আব্বাকে তো দেখিইনি।’ শিশুটি মহানবীর কোলে মাথা রাখলো। রাসূল (সা:) বললেন, “আজ থেকে আমি তোমার আব্বা, আমার স্ত্রী তোমার মা আর কন্যা ফাতিমা হবে তোমার বোন। কেমন! তুমি খুশি হবে তো!” (বুখারী/মুসলিম)-কি অপূর্ব অফুরন্ত ভালবাসা।

একবার মদিনায় ভীষণ দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। দরিদ্র ছিন্নমূল মানুষ কাজের সন্ধানে, এক মুঠো খাবারের আশায় ঘুরে বেড়ায়। অনেকেরই দিন কাটে অনাহারে-অর্ধাহারে। একটি বালক ক্ষুধার জ্বালায় অস্থির। সে লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরতে ঘুরতে একটি বাগানে ঢুকে পড়লো। গাছের তলা থেকে কুড়িয়ে নিল কয়েকটা ফল। গাছের ছায়ায় বসে তৃপ্তি সহকারে ফলগুলো খেলো সে। হঠাৎ বাগান মালিককে দেখে বালকটি ভয়ে কাঁপতে লাগলো। মালিক ছেলেটিকে মারধর করে তাড়িয়ে দিল। বালকটি কাঁদতে কাঁদতে নবীজীর দরবারে এসে তার সব কষ্টের কথা খুলে বললো। রাসূল (সা:) সব শুনলেন। অন্তরে ব্যথা পেলেন। তিনি বাগানের মালিককে ডেকে পাঠালেন। বললেন “তোমার এত বড় বাগান, এত ফলমূল। এতো আল্লাহর দান। ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়া তো তোমার কর্তব্য। আল্লাহ তোমাকে সম্পদ দিয়েছেন। এর শুকরিয়া আদায় করো। অন্যের উপর অত্যাচার করো না। জুলুম করো না।” রাসূল (সা:)-এর কথা শুনে বাগানের মালিক লজ্জিত হলো। ছেলেটির আর কোন কষ্ট থাকলো না (আবু দাউদ)। এভাবেই আল্লাহর রাসূল (সা:) শিশুদের ভালবেসেছেন। অসহায় শিশুদের আশ্রয় দিয়েছেন। খাদ্য দিয়েছেন। শিশুদের অধিকার সংরক্ষণে কথা বলেছেন। রাসূলুল্লাহর (সা:) প্রোজ্জ্বল আলোয় আলোকিত হয়েছিল শিশুরা, হয়েছে বিশ্ব ভুবন।

লেখক:

গল্পকার ও সাংবাদিক