স্টাফ রিপোর্টার
আওয়ামী লীগ আমলে গুমের শিকার হয়ে এখনো ফিরে আসেননি এমন ২৫০ জনের গুম হওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এসব ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন। তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে এসব তথ্য। গুমের এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
গুমের মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমাদের এখানে গুমের শিকার প্রায় ২৫০ জনের পরিবারের অভিযোগ এসেছে। এরই মধ্যে এসবের প্রাথমিক সত্যতা আমরা তদন্তে পেয়েছি। অর্থাৎ ২৫০ জনেরই এখনও সন্ধান মেলেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তারা অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি রেকর্ড করছেন আমাদের তদন্ত কর্মকর্তারা।
তিনি বলেন, যেসব স্থান থেকে এসব মানুষকে অপহরণ করা হয়েছিল, সেসব আমরা চিহ্নিত করেছি। মূলত তদন্তের কয়েকটি অধ্যায় থাকে। প্রতিটা পরিবার ধরে ধরে আমাদের তদন্ত চলছে। এজন্য কিছুটা সময় লাগছে। নিখুঁতভাবে তদন্ত করার কারণে প্রতিবেদন পেতে কষ্টকর হয়ে যায়। তবে যেসব ভুক্তভোগীর এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি, তাদের পরিবারের দেওয়া অভিযোগও চলমান অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। গুমের এসব ঘটনা আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছি।
আমিনুল ইসলাম বলেন, সব গুম পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমাদের অকৃত্রিম সহানুভূতি রয়েছে। এ নিয়ে আগের চিফ প্রসিকিউটরের যেমন সদিচ্ছা ছিল, আমিও একইরকম সদিচ্ছা নিয়েই কাজ করছি। এখানে কে কোন দলের মানুষ ছিলেন তথা জামায়াতে ইসলামীর একজন গুমের শিকার হয়েছেন, নাকি বিএনপির পরিবারের, তা আলাদা করে দেখতে চাই না। বর্তমানে গুমের তিনটি মামলার বিচার চলছে, যা সাক্ষ্যগ্রহণ পর্বে রয়েছে। এখানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী রয়েছেন, তারা হয়ত একটি দলের অনুসারী। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, বিএনপির যারা ভুক্তভোগীর শিকার হয়েছেন, তাদের বিচারটা হবে না। সুমন, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীসহ যারা গুম হয়েছেন, তাদের মামলার বিচারও একই মাপকাঠিতে হবে।
তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গুমের সব মামলা তদন্তের জন্য একটি বড় টিম করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আগে একজন করলেও এখন আরও চারজনকে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাঁচজন মিলে এসব তদন্ত করছেন। এছাড়া স্বয়ং চিফ প্রসিকিউটর থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রসিকিউটররাও সমন্বয় করছেন। শিগগিরই এসব মামলার দৃশ্যমান একটি ফলাফল দেখবো। একইসঙ্গে গুম পরিবারের সদস্যদের বিচার আমরা নিশ্চিত করবো ইনশাআল্লাহ।
গুমের বিচারে কোনো বৈষম্য রাখা হবে না উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল বলেন, তদন্তে আমরা কোনো ধরনের ডিসক্রিমিনেশন বা বৈষম্য করতে চাই না এখানে যদি মুসলিম কিংবা হিন্দু পরিবারের কোনো সদস্য অপহৃত হয়ে থাকেন, অথবা বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর কোনো অনুসারী অপহৃত হয়ে থাকেন- আমরা তাদের দলমত, পরিচয় দেখে তদন্ত করছি না। আমরা অপরাধকে অপরাধ হিসেবেই প্রাধান্য দেব। প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের সম্মুখীন করবো।
এদিন চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে বৈঠক করেন গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের প্ল্যাটফর্ম 'মায়ের ডাক'-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির নেতৃত্বে ভুক্তভোগী পরিবারের কয়েকজন সদস্য। গুমের এসব অভিযোগ রাজনৈতিক বিবেচনায় তদন্ত বা বিচার না করার অনুরোধ জানিয়েছেন সানজিদা ইসলাম। এছাড়া মামলার অগ্রগতি নিয়ে জানতে চায় ভুক্তভোগীদের পরিবার।