ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড (আইএমএফ) তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২০২৬) বাংলাদেশসহ বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে। এ বছর বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে তা আরো কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এদিকে বিশ্বব্যাংক তাদের প্রক্ষেপনে জানিয়েছে, বাংলাদেশ চলতি অর্থবছরে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বলেছে, এ বছর বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ শতাংশ। বিশেষ করে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সংঘাতের কারণে মূল্যস্ফীতির গড় হার দাঁড়াতে পারে ৯দশমিক ২ শতাংশ। আইএমএফ তাদের প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করেছে, এবছর (২০২৬) বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে ৩ দশমিক ১ শতাংশ, যা পরবর্তী বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ২শতাংশে উন্নীত হতে পারে। তবে ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত যদি অব্যাহত থাকে তাহলে আগামীতে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার দেখা দেবার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থনীতিবিদগণ দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তারা মনে করছেন, এ অবস্থায় যেকোন মূল্যেই হোক ব্যয় সংকোচন এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টাঅবশ্য এত হতাশার মধ্যেও আশার বাণী শুনিয়েছেন। সম্প্রতি রাজধানীতে ‘দারিদ্র্য বিমোচন নারীর ক্ষমতায়নে ক্ষুদ্র ঋণের প্রভাব’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য উপস্থাপনকালে তিনি বলেছেন, প্রতিবার দায়িত্ব নেবার পর আমরা সঙ্কটকে সুযোগে পরিণত করেছি। প্রথমবার ১৯৯১ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতাসীন হয় তখন দেশে দুর্ভিক্ষাবস্থা বিরাজ করছিল। সে অবস্থা থেকে দেশের অর্থনীতিতে গতিশীল করা হয়েছিল। ২০০১ সালে বিএনপি যখন পুনরায় ক্ষমতাসীন হয় তখন দেশের অর্থনীতি ছিল বিপর্যস্ত প্রায়। দেশ দুর্নীতির করাল গ্রাসে জর্জরিত ছিল। ট্রান্সপেরেন্সি ইন্টারন্যাশনালের তাদের প্রতিবেদনে দুর্নীতির ধারনা সূচকে বাংলাদেশকে সবার শীর্ষে স্থান দিয়েছিল। আওয়ামী লীগ এ নিয়ে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের তীব্র সমালোচনা করতো। কিন্তু তারা একবারও ভেবে দেখেনি, ট্রান্সপেরেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ২০০১ সালে দুর্নীতির যে ধারণা সূচক প্রকাশ করেছিল তার ভিত্তি বছর ছিল ২০০০ সাল, যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল।

আর এবার যখন বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে তখন ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের মধ্যে শুরু হয় প্রথাগত যুদ্ধ। এ যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালীতে বিভিন্ন দেশের জ¦ালানি তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেবার কারণে বিশ্বব্যাপী জ¦ালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এ যুদ্ধ যদি দীর্ঘ স্থায়ী হয় তাহলে বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে। ইতিপূর্বে আমরা দেখেছি যখনই যুদ্ধ বা রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ে তখন বিশ্বব্যাপী উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়। করোনা উত্তর বিশ্ব অর্থনীতি যখন উত্তরণের পর্যায়ে ছিল তখন শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এ যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির হার বিগত ৪০ বছরের রেকর্ড অতিক্রম করে ৯ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল। পুরো বিশ্বব্যাপী দেশে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে। বিশ্বব্যাপী দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করে। তবে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতি ততটা প্রভাবিত হয়নি। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে আমরা খাদ্য উৎপাদনের প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতার কাছাকাছি রয়েছি। আমাদের খাদ্য আমদানি করতে হয় খুব সামান্য পরিমাণ। ফলে দুর্যোগকালীন সময়ে আমাদের খাদ্য নিয়ে খুব একটা দুশ্চিন্তা করতে হয় না।

২০০৭-২০০৮ সালে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়ে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের জন্য হাহাকার শুরু হয়। আফ্রিকার অনেক দেশে বাজারে গিয়ে মানুষ খাদ্যের জন্য মারামারিতে জড়িয়ে মৃত্যুবরণ করে এমন ঘটনাও ঘটেছিল। কিন্তু সেই সময়ও বাংলাদেশের অর্থনীতি ততটা প্রভাবিত হয়নি। বাংলাদেশে খাদ্য পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছিল বটে কিন্তু তা হাহাকার পড়ার মতো অবস্থা ছিল না। ফলে সে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব আমাদের দেশের মানুষ তেমন একটা অনুভব করেনি। বরং সে সময় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ লাভ করেছিল।

এবার আসা যাক প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টার বক্তব্য প্রসঙ্গে। তিনি বলেছেন, প্রতিবারই আমরা সঙ্কটকে সুযোগে রূপান্তরিত করেছি। তার এই বক্তব্য অনেকেই সমালোচনা করছেন। কিন্তু বক্তব্যটি মোটেও অবাস্তব নয়। ২০০৭-২০০৮ সালে যখন বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয় সেই সময় দেশে দেশে খাদ্য নিয়ে দাঙ্গা সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে অনেক মানুষ খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছিল। বাংলাদেশের মানুষকে তখন খাদ্যের জন্য হাহাকার করতে হয়নি। যদিও খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছিল। সে সময় অর্থনৈতিক মন্দার কারণে চীন স্বল্প মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমিয়ে দেয়। তারা উচ্চ মূল্যের পোশাক রপ্তানির প্রতি মনোযোগি হয়। বাংলাদেশ এই সুযোগ চমৎকারভাবে কাজে লাগিয়েছিল। চীনের স্বল্প মূল্যের তৈরি পোশাক বাজারের একটি বড় অংশ বাংলাদেশ দখল করতে সক্ষম হয়েছিল। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় খুব একটা হ্রাস পায়নি।

বর্তমানে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের মধ্যে যে যুদ্ধ চলছে তা যে কোন সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পর্দার অন্তরালে যুদ্ধ বন্ধের জন্য তৎপরতা চালানো হচ্ছে। আগামী কিছু দিনের মধ্যে যদি যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বল্প মূল্যের তৈরি পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারি শীর্ষ দু’টি খাত তৈরি পোশাক ও জনশক্তি রপ্তানি কার্যক্রম প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে। গত আট মাস ধরেই রপ্তানি আয় হ্রাস পাচ্ছিল। মার্চ মাসে পণ্য রপ্তানি আয় হ্রাস পেয়েছে ১৮ শতাংশ। তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য,পাট ও পাটজাত পণ্য এবং প্রক্রিয়অজাত কৃষি পণ্য রপ্তানি মারাত্মকভাবে কমে গেছে। জাতীয় রাজস¦ বোর্ডের হিসাব মতে, গত মার্চ মাসে বাংলাদেশ মোট ৩৪৮ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এটা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ কম। সে সময় মোট ৪২৪ কোটি ৮৬ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করা হয়েছিল।

জ¦ালানি তেলের সঙ্কটে কারণে তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে ৫০ শতাংশ। জ¦ালানির অভাবে শিল্প-কারখানাগুলো তাদের উৎপাদন কার্যক্রম পূর্ণ মাত্রায় চালাতে পারছে না। এ মুহূর্তে বিকল্প উপায়ে জ¦ালানি সঙ্কট মোকাবেলার উদ্যোগ নিতে হবে। তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন সঠিকভাবে পরিচালনা করা গেলে যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাকের যে বর্ধিত চাহিদার সৃষ্টি হবে তা মেটানো সহজ হবে। বাংলাদেশ যদি আগামীতে তৈরি পোশাক রপ্তানি ঠিক রাখতে পারে তাহলে রপ্তানি আয় নিয়ে কোন চিন্তা করতে হবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে জ¦ালানি তেলের মূল্য যদি আরো ১০ মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পায় তাহলে বাংলাদেশকে বছরে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিরিক্ত খরচ করতে হবে। যদি জ¦ালানি তেলের ব্যারেলপ্রতি মূল্য ১২০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয় তাহলে বাংলাদেশকে বছরে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে। তাই চীন এবং রাশিয়া থেকে জ¦ালানি তেল ক্রয়ের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের কৃষি খাত আগামীতে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আগামী জুন মাস পর্যন্ত কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য ৬লাখ মেট্রিক টন সার মজুত রাখা প্রয়োজন। কিন্তু গ্যাসের স্বল্পতার কারণে সারের উৎপাদন ঘাটতি থাকবে প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টন। জরুরি ভিত্তিতে সার আমদানির ব্যবস্থা করতে হবে।

বর্তমানে জনশক্তি বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুধু এ তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ মুসলিম দেশ এখন ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে শীর্ষ স্থানে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি মুসলিম দেশ। প্রতিটি দেশই এখন যুদ্ধের আওতাধীন। কাজেই বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা এসব দেশে কর্মরত আছেন তারা অনিশ্চিয়তার মধ্যে রয়েছেন। যেকোন সময়ে তাদের দেশে ফেরৎ পাঠানো হতে পারে। অনেকে স্বইচ্ছায় দেশে প্রত্যাবর্তন করতে চাইছেন। বর্তমানে যারা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর্মরত আছেন তারা যদি কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে হলেও সেই সব দেশে অবস্থান করেন তাহলে তাদের সামনে সুদিন অপেক্ষা করছে। যুদ্ধ থেমে যাবার পর এসব দেশে নির্মাণ খাতে ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হবে। তখন অনেক শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশ থেকে সেই সময় বিপুল পরিমাণ শ্রমশক্তি প্রেরণ করা যেতে পারে।

ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সঙ্কটের কারণে বিশ্বব্যাপী ভোক্তা চাহিদা সাংঘাতিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। জ¦ালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বিরাজমান মূল্যস্ফীতি আরো উচ্চতর পর্যায়ে চলে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আমাদের বিকল্প সূত্র থেকে জ¦ালানি তেল আমদানির চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। য্দ্ধু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি অনেকটাই কমে গেছে। যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। আমাদের সেই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য এখনই তৎপর হতে হবে। ব্যাপক মাত্রায় জ¦ালানি ভর্তুকি দিয়ে হলেও তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে হবে। প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি আমাদের তৈরি পোশাক রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে।

বাংলাদেশের পণ্য এবং জনশক্তি রপ্তানি কার্যক্রমের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে এ দু’টি খাত সীমিত সংখ্যক দেশের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। পণ্য রপ্তানির সিংহভাগ অর্জিত হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকে। আর জনশক্তি রপ্তানি খাতে যে আয় হয় তার বেশির ভাগ আসে মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি মুসলিম দেশ থেকে। পণ্য রপ্তানির আরো একটি জটিল সমস্যা হচ্ছে আমরা রপ্তানি পণ্য তালিকায় বহুমুখিকরণ করতে পারছি না। অনেক দিন ধরেই তৈরি পোশাক বাংলাদেশের রপ্তানি তালিকার শীর্ষে রয়েছে। মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি অর্জিত হয় তৈরি পোশাক খাত থেকে। আর জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা হচ্ছে আমরা পেশাজীবীদের বিদেশে পাঠাতে পারছি না। বাংলাদেশ থেকে সাধারণত অদক্ষ শ্রমিক বিদেশে যায় বেশি। তারা সেখানে গিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে নানা জটিলতার মুখোমুখি হন। অথচ আমরা যদি দক্ষ জনশক্তি এবং পেশাজীবীদের বিদেশে প্রেরণ করতে পারতাম তাহলে এ খাতের আয় বহুগুন বৃদ্ধি পেতে পারতো।

জাতীয় স্বার্থেরই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের খাতগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ঢেলে সাজাতে হবে, যাতে সর্বোত্তম সুবিধা আদায় করা যায়।

লেখক : সাবেক ব্যাংকার ও প্রাবন্ধিক।