ফ্যাসিবাদ, মাফিয়াতন্ত্র ও পরিবারতন্ত্র- এই তিনটি অপশাসনের মেলবন্ধন একটি রাষ্ট্রকে তার গণতান্ত্রিক ভিত্তি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত করে। গণতন্ত্রের প্রধান লক্ষ্য যেখানে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন করা; সেখানে ফ্যাসিবাদ, মাফিয়াতন্ত্র ও পরিবারতন্ত্র ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সেই ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যখন কোনো শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজস্ব ব্যক্তিগত বা পারিবারিক স্বার্থে ব্যবহার করে এবং ক্ষমতার জন্য বিরোধীদের দমন করতে অপরাধী চক্রের সাহায্য নেয়, তখন রাষ্ট্র ও রাজনীতির স্বাভাবিক বিকাশ রুদ্ধ হয়ে যায়।

ফ্যাসিবাদ, মাফিয়াতন্ত্র ও পরিবার তন্ত্রের ধারণা ও মূল বৈশিষ্ট্য : ফ্যাসিবাদ, মাফিয়াতন্ত্র এবং পরিবারতন্ত্র হলো স্বৈরাচারী ও শোষণমূলক শাসনব্যবস্থার তিনটি ভিন্ন রূপ, যা অনেক সময় রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করতে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

ক. ফ্যাসিবাদ : উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং চরম কর্তৃত্ববাদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একনায়কতান্ত্রিক রাজনৈতিক মতাদর্শ।

মূল বৈশিষ্ট্য: একজন পরম নেতার অন্ধ আনুগত্য। রাষ্ট্রীয় স্বার্থের নামে ব্যক্তির স্বাধীনতা হরণ। ভিন্নমত, বিরোধী দল এবং স্বাধীন গণমাধ্যম সম্পূর্ণ দমন। সমাজ ও অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ।

খ. মাফিয়াতন্ত্র : যখন কোনো রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ ও প্রশাসন অপরাধ চক্র বা মাফিয়াদের মতো কাজ করে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটেরা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

মূল বৈশিষ্ট্য: সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও অর্থ পাচার। আইনকে কেবল বিরোধীদের দমনে ব্যবহার করা, অপরাধীদের সুরক্ষা দেয়া। মেধার বদলে বিশ্বস্ততা এবং অপরাধের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পদায়ন। অবৈধ সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে বাজার ও অর্থনীতি সচল রাখা।

গ. পরিবারতন্ত্র : মেধা ও যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে কেবল পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের শীর্ষ ক্ষমতা, দল ও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো নিজেদের বংশের মধ্যে ধরে রাখার ব্যবস্থা।

মূল বৈশিষ্ট্য: উত্তরাধিকার সূত্রে রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তর। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণে পরিবারের সদস্যদের একচ্ছত্র প্রভাব। অনুগত ও চাটুকারদের দিয়ে প্রশাসন সাজানো। সাধারণ নাগরিকদের নেতৃত্ব ও অধিকার পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা।

ফ্যাসিবাদ, মাফিয়াতন্ত্র ও পরিবারতন্ত্রের পারস্পরিক সম্পর্ক : ফ্যাসিবাদ, মাফিয়াতন্ত্র এবং পরিবারতন্ত্রের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর, যা মূলত সীমাহীন ক্ষমতা, অবৈধ অর্থ এবং পারিবারিক উত্তরাধিকার ধরে রাখার একটি চক্রাকার জালের মতো কাজ করে। একটি রাষ্ট্রে যখন এই তিনটির সংমিশ্রণ ঘটে, তখন তাকে সাধারণত “মাফিয়া রাষ্ট্র” বা “ফ্যাসিবাদী একনায়কতন্ত্র” বলা হয়। ফ্যাসিবাদ হলো এই ব্যবস্থার রাজনৈতিক কাঠামো, মাফিয়াতন্ত্র হলো এর অর্থনৈতিক ও পেশীশক্তি, আর পরিবারতন্ত্র হলো এর নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রবিন্দু। এই তিনটি উপাদান একত্রিত হলে একটি দেশের গণতন্ত্র, অর্থনীতি এবং বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। আরও সহজ কথায়- পরিবারতন্ত্র ক্ষমতার লোভ ও লক্ষ্য নির্ধারণ করে, ফ্যাসিবাদ সেই ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ ও ভয় তৈরি করে এবং মাফিয়াতন্ত্র পুরো ব্যবস্থার অর্থনৈতিক ও মাঠ পর্যায়ের পেশিশক্তি জোগান দেয়। এই তিনটি যখন একসাথে সক্রিয় হয়, তখন একটি রাষ্ট্র পুরোপুরি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

ফ্যাসিস্ট হাসিনার সাড়ে ১৫ বছর: ইতিহাসের কালো অধ্যায় : ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের টানা শাসনকালকে বাংলাদেশে একটি চরম কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তার এই দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে। তার এই শাসনামলকে প্রধানত স্বৈরাচারী, মাফিয়াতান্ত্রিক ও পরিবারতান্ত্রিক কাঠামোর চূড়ান্ত রূপ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। নিচে এই শাসনকালের প্রধান দিকগুলো আলোচনা করা হলো:

১. একদলীয় ও নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন (ভোটের অধিকার হরণ)

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে টানা তিনটি জাতীয় নির্বাচনকে বিতর্কিত ও একতরফা করা হয়:

২০১৪ সালের নির্বাচন: প্রধান বিরোধী দলগুলোর বয়কটের মুখে ১৫৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার মাধ্যমে একটি প্রহসনের সংসদ তৈরি করা হয়।

২০১৮ সালের নির্বাচন: এটি ইতিহাসে ‘রাতের ভোট’ নামে পরিচিতি পায়, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় নির্বাচনের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করার অভিযোগ ওঠে।

২০২৪ সালের নির্বাচন: এটি ছিল ডামি প্রার্থী ও “আমি আর ডামির” নির্বাচন, যেখানে ডামি বিরোধী দল সাজিয়ে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখার নাটুকে পুনরাবৃত্তি করা হয়।

২. মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গুম-খুন (ভয়ের সংস্কৃতি) : রাষ্ট্রীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে একক দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে ভিন্নমত স্তব্ধ করার সংস্কৃতি তৈরি করা হয়:

> আয়নাঘর ও গুম সংস্কৃতি: সামরিক ও বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে ‘আয়নাঘর’ নামক গোপন টর্চার সেল তৈরি করা হয়, যেখানে শত শত বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী ও সমালোচককে বছরের পর বছর অবৈধভাবে আটকে রাখা ও গুম করা হয়।

> বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে “ক্রসফায়ার” বা বন্দুকযুদ্ধের নামে হাজারো মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়।

> ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (DSA) : সাইবার ও ডিজিটাল আইন প্রণয়ন করে সাংবাদিক, মুক্তচিন্তক এবং সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা ও লেখার অধিকার পুরোপুরি কেড়ে নেয়া হয়।

৩. প্রাতিষ্ঠানিক মাফিয়াতন্ত্র ও অর্থনৈতিক লুণ্ঠন : রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যাংক এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এক নজিরবিহীন লুটপাট চালানো হয়:

> ব্যাংক ও শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি: এস আলম গ্রুপ এবং অন্যান্য দলীয় সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দেশের বড় বড় ব্যাংক (যেমন: ইসলামী ব্যাংক) থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নামে-বেনামে বের করে নেয়া হয়।

> বিপুল অর্থ পাচার: মেগা প্রজেক্টের (পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র, মেট্রোরেল) নামে কয়েক গুণ অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে এবং দলীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে (বেগম পাড়া, মালয়েশিয়া, দুবাই) পাচার করা হয়।

> লাইসেন্স ও সিন্ডিকেট : নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার এবং বিদ্যুৎ খাতকে (কুইক রেন্টাল-এর ইনডেমনিটি আইন দিয়ে) নির্দিষ্ট কিছু মাফিয়া ও সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেয়া হয়, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হয়ে ওঠে।

৪. বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের চরম দলীয়করণ : রাষ্ট্রের সকল স্বাধীন স্তম্ভকে ভেঙে দিয়ে সেগুলোকে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের মতো ব্যবহার করা হতো:

> বিচার বিভাগের মেরুদণ্ড ভাঙা: সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে রায় নিজেদের পক্ষে না যাওয়ায় বন্দুকের মুখে দেশত্যাগে বাধ্য করা এবং বিচার বিভাগকে বিরোধীদের দমনের প্রধান হাতিয়ারে পরিণত করা।

> আমলা ও পুলিশতন্ত্র: সরকারি চাকরিতে মেধার চেয়ে ‘দলীয় আনুগত্য’ এবং ‘পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড’ প্রধান যোগ্যতা হয়ে দাঁড়ায়। পুলিশ ও প্রশাসনকে আইনি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে প্রকাশ্য দলীয় ক্যাডারের মতো আচরণ করতে বাধ্য করা হয়।

৫. ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও শেখ হাসিনার পতন : শেখ হাসিনার ১৭ বছরের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া এক দফা দাবিতে:

জুলাই গণহত্যা: আন্দোলন দমাতে শেখ হাসিনা প্রশাসন পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী এবং নিজ দলীয় ক্যাডার (ছাত্রলীগ-যুবলীগ) দিয়ে নির্বিচারে গুলী চালায়। এতে শিশু, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকসহ সহস্রাধিক মানুষ শহীদ হন এবং হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান: লাখ লাখ ছাত্র-জনতা যখন কারফিউ ভেঙে ঢাকার অভিমুখে ‘লং মার্চ’ শুরু করে, তখন গণভবন ঘেরাওয়ের মুখে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করে সামরিক হেলিকপ্টারে চড়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

শেখ হাসিনার এই দীর্ঘ শাসনকাল ছিল বাহ্যিক ‘উন্নয়নের আড়ালে’ এক চরম ফ্যাসিবাদের বাস্তব রূপ। এখানে সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার, ভোটাধিকার এবং বেঁচে থাকার নিরাপত্তা কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রকে একটি নির্দিষ্ট পরিবার ও তাদের অনুগত মাফিয়া চক্রের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করা হয়েছিল।

৬. উত্তরণে সংস্কার ভাবনা : মাফিয়াতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে রাষ্ট্রকাঠামোতে মৌলিক ও স্থায়ী সংস্কার প্রয়োজন। এর মূল ভিত্তি হতে পারে নিম্নরূপ:

ক্ষমতার ভারসাম্য ও বিকেন্দ্রীকরণ: নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার প্রকৃত ভারসাম্য (Balance of Power) আনতে হবে। রাষ্ট্রপতির ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদ ও একচ্ছত্র আধিপত্যে সীমাবদ্ধতা আনা প্রয়োজন।

সংবিধান সংস্কার: সংবিধান থেকে এমন সব ধারা বা বিধান বাতিল করতে হবে, যা একনায়কতন্ত্র বা পরিবারতন্ত্রের পথ প্রশস্ত করে। নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপমুক্ত করতে হবে।

স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যবস্থা: এমন একটি স্থায়ী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা, যা কোনো দলীয় সরকারের অধীনে না থেকে স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিতে পারে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। বিচার বিভাগকে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া এবং কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে যেন আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেয়া না হয়, তা নিশ্চিত করা।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা: গণমাধ্যমের ওপর থেকে সব ধরনের সেন্সরশিপ ও নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করা এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা, যা জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম পূর্বশর্ত।

পরিশেষে বলা যায়, ফ্যাসিবাদ, মাফিয়াতন্ত্র ও পরিবারতন্ত্রের দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো, অর্থনীতি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে প্রায় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। রাষ্ট্রকে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিণত করার এই অপচেষ্টা প্রমাণ করে যে, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন ছাড়া কোনো রাষ্ট্রই দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকতে পারে না। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান এবং জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে হলে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে মৌলিক সংস্কার অপরিহার্য। ক্ষমতার ভারসাম্য, স্বাধীন বিচার বিভাগ, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন এবং গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, যেখানে জনগণই হবে প্রকৃত ক্ষমতার উৎস এবং আইনের শাসন হবে সর্বেসর্বা।

লেখক : সাংবাদিক