তুরস্ক স্পষ্ট করেছে যে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সাথে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ ন্যাটোর কোনো ধারার পরিপন্থী নয়। দেশটির যোগাযোগ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ ন্যাটোর বিকল্প বা কোনো সমান্তরাল সামরিক জোট নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও যৌথ deterrence বা প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে একটি পরিপূরক ব্যবস্থা।
শুক্রবার তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ সংক্রান্ত দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
উত্তর আটলান্টিক চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদটি মূলত ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ধারা। এই ধারার অধীনে জোটের কোনো এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তুরস্কের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এনসোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিসইনফরমেশন (ডিএমএম) জানায়, এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা যার উৎস স্পষ্ট।
ডিএমএম জানায়, এই চুক্তি ন্যাটোর বাধ্যবাধকতাসহ তুরস্কের বিদ্যমান আন্তর্জাতিক জোটের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়; বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তায় সহায়তাকারী একটি পরিপূরক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আঞ্চলিক অংশীদারিত্বের উন্নয়নে তুরস্কের এই প্রচেষ্টা ন্যাটো সদস্যপদের কোনো বিকল্প নয়।’
এতে আরও বলা হয়, ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক ব্লক নয়; বরং এটি প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তৈরি একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা।’
ডিএমএম জানায়, এই চুক্তি কোনো তৃতীয় দেশ বা ব্লককে লক্ষ্য করে করা হয়নি। এর পরিবর্তে প্রতিরক্ষা শিল্প, সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করার প্রচেষ্টায় সহযোগিতা বাড়ানোই এর মূল লক্ষ্য।
ভিত্তিহীন দাবি এবং বিভ্রান্তিকর পোস্টগুলোতে বিশ্বাস না করতেও জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রটি।
এর আগে শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান চুক্তিটি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তি কোনো দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। এই অঞ্চলে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা প্রত্যাশী অন্যান্য বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জন্যও এটি উন্মুক্ত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সম্মিলিত প্রতিরোধের নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই চুক্তি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, যৌথ প্রতিরক্ষা শিল্প প্রকল্প এবং সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাত সমাধানের প্রতি তুরস্কের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।