মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের ওপর নির্ভর করার এবং আঞ্চলিক সংহতি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শুক্রবার তিনি এই আহ্বান জানান। তার মতে, আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐক্যই বহিঃশত্রুর হুমকি মোকাবিলার সর্বোত্তম উপায়।
মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আব্বাস আরাঘচি জানান, বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রস্তুতি, সক্ষমতা ও শক্তি প্রদর্শন করেছে।
তিনি বলেন, ‘মুসলিমরা যখন ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ায়, তখন আমরা বিদ্বেষপূর্ণ বহিরাগতদের যেকোনো চ্যালেঞ্জ সরাসরি মোকাবিলা করতে পারি।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন সময় এসেছে কেবল নিজেদের ওপর নির্ভর করার এবং প্রকৃত ভ্রাতৃত্বকে আলিঙ্গন করার।’
বিদেশি শক্তির বদলে আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতৃত্বে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তারা জোর দিচ্ছেন। এর মধ্যেই আব্বাস আরাঘচির এই মন্তব্য সামনে এলো।
উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি শুক্রবার জানান, উপসাগরীয় দেশগুলো ক্রমেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছে যে, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা আঞ্চলিক দেশগুলোরই নিশ্চিত করা উচিত।
তিনি জানান, উপসাগরীয় নেতারা ইতোমধ্যে একটি নতুন আঞ্চলিক সংলাপ প্রক্রিয়া শুরু করার রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখিয়েছেন। এর মধ্যে উপসাগরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি প্রস্তাবিত বৈঠকও রয়েছে। অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে এলে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে যেতে পারে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক, পারমাণবিক এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে সমন্বিত হামলা চালালে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এর জবাবে তেহরান পুরো অঞ্চলজুড়ে থাকা ইসরায়েলি ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ১৮ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে সক্রিয় শত্রুতার অবসান ঘটে এবং একটি চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হয়। তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং চলাচলের স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরবর্তীতে আলোচনা থমকে যায়।
এদিকে শুক্রবার মক্কায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, ‘এই তিন রাষ্ট্রের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।’