শ্রীলঙ্কার কয়েকটি কারাগারে বন্দিদের দাঙ্গা ও পালানোর চেষ্টার সময় কারারক্ষীদের সাথে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে তিন কয়েদির। আহত অন্তত ৩০ জন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৭ আগস্ট) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধান কারাগারগুলোতে সশস্ত্র সেনা এবং কমান্ডো বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার সরকারের মাদকবিরোধী অভিযানের কারণে কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার চার গুণ বেশি কয়েদি রাখা হয়েছিলো। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সেল ভেঙে, ছাদে উঠে এবং কারারক্ষীদের ওপর চড়াও হয়ে পালানোর চেষ্টা করে তারা। রাজধানী কলম্বোর সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত ওয়েলিকাদা ও নিউ ম্যাগাজিন কারাগারের পাশাপাশি কুরুউইটা কারাগারে একই সময়ে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও কারারক্ষীরা লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস এবং একপর্যায়ে সরাসরি গুলি করে। পরে সেনাবাহিনী ও বিশেষ কমান্ডো মোতায়েন করে শ্রীলঙ্কা সরকার।
মন্ত্রী জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানী কলম্বোর নিউ ম্যাগাজিন কারাগারে প্রায় ৪০ জন বন্দি সেল ভেঙে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে এক বন্দি নিহত হন।
এরপর শুক্রবার সকালে রাজধানী থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে কুরুউইটা কারাগারে নতুন করে দাঙ্গা শুরু হয়। সেখানে সংঘর্ষে আরও দুই বন্দির মৃত্যু হয়। আহত হন বেশ কয়েকজন।
এদিকে রাজধানী থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের উপকূলীয় শহর নেগম্বোর একটি উন্মুক্ত কারাগারেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে বেশ কিছু বন্দি কারাগারের ছাদ ও খোলা মাঠে চলে আসেন। পরে দাঙ্গা দমন পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণে এনে নিজ নিজ ওয়ার্ডে ফিরিয়ে নেয়।
জননিরাপত্তামন্ত্রী আনন্দ উইজেপালা বলেছেন, কারাগারে সহিংসতার পেছনে মাদক ব্যবসায়ী ও প্রতিদ্বন্দ্বী অপরাধী চক্রগুলোর অভ্যন্তরীণ বিরোধ থাকতে পারে। তবে এর সঙ্গে কোনো পরিকল্পিত অন্তর্ঘাত জড়িত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে সরকার।
শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোর অতিরিক্ত ভিড় পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বন্দিদের অধিকারবিষয়ক কমিটির সভাপতি সেনাকা পেরেরা জানিয়েছেন, দেশটির কারাগারগুলোতে বর্তমানে ধারণক্ষমতার প্রায় চারগুণ বন্দি গাদাগাদি করে অবস্থান করছেন।
দেশটির বিচারমন্ত্রী সম্প্রতি জানিয়েছেন, প্রায় ১০ হাজার বন্দির ধারণক্ষমতার বিপরীতে শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোতে বন্দির সংখ্যা ৩৯ হাজারের বেশি। তাদের বড় একটি অংশ মাদকসংক্রান্ত মামলার বিচারাধীন আসামি।
কারাগারে বন্দির চাপ কমাতে এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে উচ্চ আদালতের বিচারকদের চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনাও করছে সরকার।
তবে একসঙ্গে একাধিক কারাগারে দাঙ্গার ঘটনায় দেশটির কারা নিরাপত্তা ও অতিরিক্ত বন্দির সমস্যা নতুন করে সামনে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা