মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ ইস্যুতে তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো চাপ বা অবরোধে তারা পিছিয়ে যাবে না।
রোববার (২৬ এপ্রিল) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়। এ সময় তারা সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি, ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আলোচনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে কূটনৈতিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সামরিক নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান।
যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, আলোচনা চলাকালীন এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের তথাকথিত সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধবিরতির চুক্তির পরিপন্থী এবং আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী। এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল নতুন করে সংঘাত তৈরি করলে তা শুধু এই অঞ্চলের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
পাশাপাশি, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেয় ইরান। তারা মনে করে, বাহ্যিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে তাদের চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়টি ইরানের প্রেসিডেন্টকে জানান এবং সংঘাত নিরসনে শান্তিপূর্ণ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।