প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশক পর অবশেষে দ্বিতীয় সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। ২০২৭ সালের ৩০ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদদীন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমাবর্তনের অপেক্ষায় থাকা প্রায় ২০ হাজার গ্র্যাজুয়েটের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট)) বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৫ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। দীর্ঘ ২০ বছরের যাত্রায় এখন পর্যন্ত মাত্র একবার সমাবর্তন আয়োজন করতে পেরেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম সমাবর্তনে ৩৬টি বিভাগের ১৮ হাজার ৩১৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

এরপর দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৩ সালের শুরুর দিকে প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মার্চে সমাবর্তন আয়োজনের কথা থাকলেও ওই বছরের এপ্রিলে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তা স্থগিত হয়ে যায়।

দীর্ঘদিন সমাবর্তন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের গ্র্যাজুয়েটরা আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। ফলে ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী সমাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদদীন বলেন, ‘সমাবর্তন যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন। প্রথম সমাবর্তনের পর আর কোনো সমাবর্তন হয়নি। অথচ এটি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৭ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’