মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ তুলে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে কম খরচে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত, সিন্ডিকেট ভেঙে উন্মুক্ত ও স্বচ্ছভাবে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।
রোববার (২৩ আগস্ট) এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিতে কর্মরত প্রবাসীরা পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাই তাঁদের স্বার্থ রক্ষা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত, হয়রানি বন্ধ ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, দেশের বাইরে শ্রমশক্তি পাঠানোর ক্ষেত্রে কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সিন্ডিকেটের আওতায় এনে সরকারের একটি অসাধু চক্র দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্তে বায়রার সাধারণ সদস্যদের মধ্যেও উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, দুই দেশের সরকার মাত্র ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করে শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে কার্যত সিন্ডিকেটভিত্তিক শ্রমবাজার ব্যবস্থা তৈরি করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। অতীতেও সীমিতসংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে সিন্ডিকেট গঠনের ফলে সাধারণ শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল এবং এতে হাজার হাজার শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এবারও একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা প্রকাশ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সিন্ডিকেটের কারণে একজন শ্রমিকের মালয়েশিয়া যেতে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এই ব্যয় একজন সাধারণ শ্রমিক ও তাঁর পরিবারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বাংলাদেশে দুই হাজারের বেশি বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। তাই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নির্দিষ্ট ২৫টি এজেন্সির মাধ্যমে সিন্ডিকেট তৈরির পরিবর্তে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন (বায়রা)-এর সদস্য এবং অভিজ্ঞ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এতে প্রতারণা বন্ধের পাশাপাশি সাধারণ শ্রমিকদের সম্ভাব্য শোষণ, অতিরিক্ত ব্যয় ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে কম খরচে বিদেশের শ্রমবাজারে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে শ্রমিকরা পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বৈদেশিক ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, সহজ ও স্বল্প খরচে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা, প্রবাসীদের স্বার্থে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ, নিরাপত্তা বিধান এবং প্রতারণা থেকে তাঁদের রক্ষা করা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
তবে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এসব অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারকে অবিলম্বে জনস্বার্থের পরিপন্থী সব কার্যক্রম থেকে সরে এসে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও কম খরচের বৈদেশিক শ্রমবাজার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি সরকারের প্রতি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সব বৈধ ও অভিজ্ঞ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।