ববি সংবাদদাতা: পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্লাস্টিক ও কাগজের ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে ‘প্রজেক্ট সুখল’। ‘আমরা নতুন’ নেটওয়ার্কের আওতায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) চারজন এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) একজন শিক্ষার্থীর সম্মিলিত উদ্যোগে এই সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পটি চালু হয়। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য স্থানীয় ও অবহেলায় পড়ে থাকা প্রাকৃতিক উপাদানকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব কমানো।
এই ভাবনারই অংশ হিসেবে তরুণ উদ্ভাবকেরা সুপারি পাতার খোলকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে তৈরি করেছেন পরিবেশবান্ধব আইডি কার্ড। বিভিন্ন সেমিনার, কনফারেন্স ও জাতীয় আয়োজন শেষে বিপুল পরিমাণে প্লাস্টিক ও কাগজের আইডি কার্ড বর্জ্যে পরিণত হয়। এই পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রজেক্ট সুখলের দল সুপারি পাতার খোল দিয়ে এমন একটি বিকল্প তৈরি করেছে, যা একাধারে নান্দনিক, কার্যকর এবং শতভাগ পচনশীল।
উদ্ভাবনটির মাঠপর্যায়ের যাত্রা ও উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলেন প্রজেক্ট সুখলের কো-ফাউন্ডার এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল তামিম। তিনি বলেন, “আমাদের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য শুধু একটি নতুন ধরনের আইডি কার্ড তৈরি করা নয়; বরং প্রতিদিনের ব্যবহারে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারের একটি বাস্তব উদাহরণ তৈরি করা। সুপারি পাতার খোল আমাদের দেশে অত্যন্ত সহজলভ্য একটি প্রাকৃতিক উপাদান, যা ব্যবহারের পর অনেক সময় বর্জ্য হিসেবেই পেড়ে থাকে। আমরা সেই ফেলনা উপাদানকেই নতুনভাবে কাজে লাগিয়ে প্লাস্টিক ও কাগজের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারযোগ্য একটি পণ্য তৈরির চেষ্টা করেছি।”
সম্প্রতি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘১ম ন্যাশনাল সাইন্স কনফারেন্স’-এ এই উদ্ভাবনটির সফল ব্যবহার দেখা যায়। সেখানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য এই বিশেষ আইডি কার্ড সরবরাহ করা হয়। বৈজ্ঞানিক পরিবেশ এবং সম্মেলনে প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি আইডি কার্ডের ব্যবহার উপস্থিত সবার নজর কাড়ে ও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন বলেন, “নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্যোগ। শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে রূপান্তর করছে—একজন বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে বিষয়টি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। পাশাপাশি এই উদ্ভাবনের পরিবেশগত গুরুত্বও অনেক। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো সম্ভব, যা পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের এই গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে আমরা আরও এগিয়ে নিতে চাই। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও আমরা কাজ করব।”