ছাত্রদলের হামলার শিকার হওয়ার দুই দিনের মাথায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর ১২টায় উপাচার্য ভবনের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিনের হাতে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি তুলে দেন জকসু নেতৃবৃন্দ।

এ প্রসঙ্গে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন বলেন, "শিক্ষার্থীদের জন্য জকসুর এই উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়, একই সাথে জকসুর জন্যও বড় একটি অর্জন। আশা করছি অ্যাম্বুলেন্সটি শিক্ষার্থীদের উপকারে আসবে।"

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন বলেন, "জকসুকে অনেক ধন্যবাদ অ্যাম্বুলেন্সটি উপহার দেওয়ার জন্য।"

জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, "জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স, যা কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত হতে পারে না। জকসু নির্বাচনের আগেই আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য আরেকটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা। আমরা আমাদের জায়গা থেকে চেষ্টা করেছি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার।"

গত মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার বিষয়ে জকসু শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, "জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের জন্য যে আন্দোলন হয়েছিল, সেখানে যে হামলা হয়েছে; এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এছাড়াও হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্যের নিকট আমাদের স্মারকলিপি এবং আমাদের সব দাবিদাওয়া উপস্থাপন করেছি।"

এছাড়াও তিনি অ্যাম্বুলেন্স প্রদানের ফলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবায় কিছুটা হলেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, "মঙ্গলবারের ছাত্রদলের হামলায় ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। হামলার বিচার ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপাচার্যের কাছে জকসুর পক্ষ থেকে আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি। এ ছাড়া হামলায় জড়িত বহিরাগত, অছাত্র ও শিক্ষার্থীদের সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে জকসু।"

এছাড়াও স্মারকলিপিতে জকসুর পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো: দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় ধাপের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর; বরাদ্দকৃত ২০ কোটি টাকা দিয়ে ১,৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য চলতি বছর অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ; এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে একজন চিকিৎসক ও একজন টেকনিশিয়ান নিয়োগ।

প্রসঙ্গত, গত ৪ আগস্ট (মঙ্গলবার) জবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে জকসু, ছাত্রশিবির, ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্রশক্তি, ইনকিলাব মঞ্চসহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে জবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এতে জকসু ভিপি, জিএস, এজিএস, ছাত্রশক্তি সভাপতি, সেক্রেটারি, ছাত্রফ্রন্ট সভাপতি, সাংবাদিকসহ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।