জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘জুলাইয়ের নাজরানা’ কর্মসূচির সমাপনী ও দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান গতকাল ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জুলাই যোদ্ধা সানজিদা চৌধুরী,সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সানজিদা চৌধুরী সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের কথা তুলে ধরেন, যখন তিনি পুলিশের সামনে নির্ভয়ে উচ্চারণ করেছিলেন, "পিছনে পুলিশ, সামনে স্বাধীনতা"। তিনি জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের হতাশা ও ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে যে বাংলাদেশ প্রত্যাশা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও ন্যায় ও আদর্শের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সমর্থন ও অংশগ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এছাড়া বক্তব্য প্রদান করেন সংরক্ষিত নারী আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ। তিনি তাঁর বক্তব্যে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ এবং জীবন ও আন্দোলনের সকল ক্ষেত্রে নারীদের এগিয়ে আসার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের আদর্শ ও চেতনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে ধারণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভানেত্রী এবং ডাকসুর কার্যনির্বাহী ও সিনেট সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না।

এ পর্বে আরও বক্তব্য রাখেন উম্মে কুলসুম সাবিনা, বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগীয় সম্পাদিকা, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা। তিনি বাংলাদেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতির সমালোচনা করে বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জুলাইয়ের চেতনা পূর্ণতা পাবে না। তিনি ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানান।

উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে দেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং চলমান সময়ের বিভিন্ন সংকট, হতাশা ও জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জুলাইকে কেন্দ্র করে নির্মিত দেয়ালিকা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদদের স্মৃতি এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্ন সৃজনশীলভাবে উপস্থাপিত হয়।

বিকেলে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক পর্বে পরিবেশিত হয় হামদ, নাত, দেশাত্মবোধক গান, জুলাইভিত্তিক সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এ পর্বে ফুলের মেলা এবং রেদোয়ান শিল্পীগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে।

অনুষ্ঠানের সমাপনীতে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষিত আদর্শ বাস্তবায়নের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়। জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়ার মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী ‘জুলাইয়ের নাজরানা’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।