কুষ্টিয়ার খোকসা পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মেয়র পদপ্রার্থী ও খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাফিজ আহমেদ খান রাজুর ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে খোকসা থানাপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দলীয় কার্যালয়ের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় গেটের সামনে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁর পথরোধ করে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ধারালো অস্ত্র ও ভারী বস্তু দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তাঁর পায়ে গুরুতর জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।

স্থানীয়দের দাবি, রাজুর চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একাধিক ফাঁকা গুলি ছোড়ে এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর তারা দুটি মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির গেট লক্ষ্য করে অন্তত ১৬ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।

আহত নাফিজ আহমেদ খান রাজু অভিযোগ করেন, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঠেকাতেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে আগে থেকেই প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও খোকসা উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইসরাত জাহান পুরম বলেন, রাজুর চিৎকার শুনে বাইরে এসে তিনি গেটের সামনে গুলিবর্ষণ ও ককটেলের বিস্ফোরণ দেখতে পান। প্রাণ রক্ষায় রাজু বাড়ির ভেতরে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা গেট লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। তাঁর দাবি, ঘটনার কিছু সময় পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন জানান, অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশের ধারণা, আসন্ন খোকসা পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে হামলার পেছনের প্রকৃত কারণ তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।