নারায়ইগঞ্জ ও বরিশালেও শিবিরের ওপর ছাত্রদলের হামলা

জবিতে ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, ৫ দফা দাবি

স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসার আবাসিক হলে ছাত্রশিবিরকে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। গতকাল বুধবার সকালে হলে প্রবেশ করতে গেলে বকশীবাজার মোড়ে পুলিশ সদস্যরা তাদের আটকে দেন বলে অভিযোগ করেন তারা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ তাদের হলে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না। তাদের দাবি, মঙ্গলবার থেকে তারা হলের বাইরে অবস্থান করছেন। বৃহস্পতিবার অনেকের পরীক্ষা থাকায় হলে অবস্থান করা জরুরি। কিন্তু সেখানে প্রবেশ করতে না পারায় তারা উদ্বেগে রয়েছেন। এদিকে গতকাল বুধবারও নারায়নগঞ্জ ও বরিশালেও ছাত্রশিবিরের ওপর হামলা করেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার সামনে থাকা পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্যই এই ব্যবস্থা। এ কারণে আপাতত ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে, শিবিরের নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা সরে গেলে দুপুর ১টার দিকে পুলিশ ব্যারিকেড তুলে নেয়।

এদিকে, দুপুর পর্যন্ত হলটির ফটক তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। তবে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হলের কক্ষের ভাঙা জানালা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে বইপত্র নিয়ে যেতে দেখা যায়। অন্য একজন শিক্ষার্থী জানান, ঝামেলার পর থেকে হলে প্রবেশ করতে পারছেন না। হল তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও কিছু বলছে না। যেহেতু পরীক্ষা, সে জন্য জরুরি বই-খাতা, জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ব্যরিকেড দেওয়ার বিষয়ে দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ জোনের ডিসি তালেবুর রহমান জানান, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই ব্যবস্থা।এখানে শিক্ষার্থীদের বাইরে আরও অনেকে রয়েছে। এ কারণে তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের আগামীকাল ফাইনাল পরীক্ষা রয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে অনুরোধ করার পরও তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না-এমন প্রশ্নের জবাবে তালিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দেখবে। তারা যদি বলে, তাহলে প্রবেশের অনুমতি দিতে পুলিশের কোনো সমস্যা নেই।

জবিতে ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, ৫ দফা দাবি

জবি সংবাদদাতা জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রশক্তি, জকসু, শিবিরের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখা। এতে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট পাঁচ দফা দাবি জানায়। গতকাল বুধবার দুপুর ২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো:- দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে; ক্যাম্পাসে অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে; হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে; আগামী ছয় মাসের মধ্যে অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ করে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে; এবং সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় বক্তারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তারা এ ঘটনাকে অতীতের স্বৈরাচারী আমলের ক্যাম্পাস বন্ধের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন।

এ বিষয়ে জবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ছাত্রলীগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাস দখল করে সেগুলোকে টর্চার সেলে পরিণত করেছিল। একইভাবে বর্তমান সরকারের ইঙ্গিতে ছাত্রদলও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করছে। জুলাই-পরবর্তী সময়ে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তাদের দখলে নিতে দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “গতকালের (মঙ্গলবার) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদল যৌথভাবে দায়ী। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের বা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি দেশের সব মানুষের এবং শিক্ষার্থীদের। ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে ছাত্রদলকেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হবে।” জবি শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, “প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে ছাত্রদলকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করিয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপরও ছাত্রদল হামলা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ হাজার শিক্ষার্থী ও দেশের মানুষের ক্যাম্পাস। ছাত্রলীগের মতো ছাত্রদলকেও ক্যাম্পাসের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না।” তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবারের হামলার জন্য ছাত্রদলের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও দায়ী। ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী, জকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ ৬০-এর বেশি শিক্ষার্থী হামলায় আহত হয়েছেন। হামলার সঙ্গে জড়িত প্রশাসনের সদস্যদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।” এ ছাড়া আহত শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা নিতে জাতীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে সেখানে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে বলেও অভিযোগ করেন শাহিন মিয়া। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিচার এবং হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানান।

ববি সংবাদদাতা:

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পূর্বঘোষিত ‘অদম্য জুলাই’ র‌্যালিতে হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল । এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচি শেষে শিবিরের নেতাকর্মীরা ভিসি গেট দিয়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের দিকে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিলে বহিরাগতদের উপস্থিতির অভিযোগ তুলে হঠাৎ হামলা চালায়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের সময় ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান করছিল। তবে ছাত্রদল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সংবাদ পেয়ে ভিসি ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। আহতদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংঘর্ষে আহত শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মনিরুল ইসলাম, সাব্বির হোসেন, আল-আমিন, হাফিজ সিদ্দিক, হেলাল আহমেদ, আব্দুল্লাহি বাকী, আল মামুন সিয়াম, তায়েফ ও শারাফাত সিফাতসহ আরো কয়েকজন।

অন্যদিকে ছাত্রদলের আহত নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন ইমরান, সিফাত, হৃদয়, জাহিদ, তরিকুল, প্রান্ত, হেনা ও আবদুর রহিমসহ আরও কয়েকজন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম বাবু অভিযোগ করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দাবি করেন, বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছিল। ছাত্রদল তা প্রতিহত করেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদ বলেন,”৫ আগস্টের মতো একটা দিনে ছাত্রশিবির-ছাত্রদলের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডি সহ মাঠে থেকে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছি। আশাকরি খুব দ্রুতই একটা সমাধান আসবে। একই সাথে আশা করছি এই ভুল বোঝাবুঝি তাদের মধ্যে থাকবে না।”

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) বেলাল হোসাইন বলেন,”সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

নারায়ণগঞ্জে শিবিরের মিছিলে ছাত্রদলের হামলা, তোলারাম কলেজ সভাপতি-সম্পাদককে নির্যাতন

নারায়ণগঞ্জ মহানগর সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জে ‘জুলাই বিপ্লবের ২য় বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে ইসলামী ছাত্রশিবির মহানগর শাখা আয়োজিত মিছিলে হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল। বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে শহরের চাষাঢ়া মোড়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং শিবিরের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুরে শহরের মিশনপাড়া এলাকা থেকে মহানগর শিবিরের উদ্যোগে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। মিছিলটি চাষাঢ়া মোড়ে পৌঁছালে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আকস্মিক এই হামলায় শিবিরের মিছিলটি প- হয়ে যায় এবং এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর জানা যায়, সরকারি তোলারাম কলেজ শাখা শিবিরের সভাপতি তামিম ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সালকে আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়েছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এতে তারা গুরুতর আহত হন।

হামলার ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শিবির সভাপতি অমিত হাসান জানান, পূর্বপরিকল্পিত ভাবে তোলারাম কলেজের শিবির নেতৃবৃন্দের উপর ছাত্রদলের কিছু লোক হামলা করেছে, এর নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ছাত্র দলের জড়িত হামলাকারীর বিচার দাবি করেন।

ঘটনার সূত্রে জানা যায় ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে সরকারি তোলারাম কলেজের উদ্যোগে। অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের মতো শিবির নেতৃবৃন্দ তোলারাম কলেজ সভাপতি সেক্রেটারি ও অর্থ সম্পাদক উপস্থিত হন। এবং সভাপতি বক্তব্য রাখেন। প্রোগ্রাম শেষে শিবির নেতৃবৃন্দ কলেজ থেকে বের হলে তাদের উপর ছাত্রদলের তুহিন, রাজিবসহ ১০/১২ জন নেতৃত্বে তোলারাম কলেজ শাখা শিবির সভাপতির উপর হামলা করে। খবর পেয়ে শিবির নেতা কর্মীরা তাদেরকে উদ্ধার করতে ডাকবাংলোর সামনে আসলে তাদের উপর ও ছাত্রদল হামলা করে আহত করে। সভাপতি সম্পাদক কে উদ্ধার করে হসপিটালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।