জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ৫৫ তম ব্যাচের (২০২৫-২০২৬ সেশন) "নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম ২৬" অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামে উক্ত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কামরুল আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক সভাপতি এবং ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্লা।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সোহেল রানা, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. মাহফুজুর রহমান এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীনবরণের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। পূর্ববর্তী সময়ে ক্যাম্পাসের প্রাণভোমরা নবীন ব্যাচগুলোকে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করা হতো। ফ্যাসিবাদী শক্তি রাজনৈতিকভাবে আবাসনসহ বিভিন্ন মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে গণরুম, গেস্টরুমের মতো নিকৃষ্ট কালচার চালু করেছিলো। বিপরীতে আমরা নবীনবরণের মত শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে ইতিবাচক বার্তা দিতে চাই এবং পূর্বের সকল ফ্যাসীবাদি কালচারের কবর রচনা করতে চাই। আশা করি প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যথাযথ শিক্ষা ও গাইডলাইনের মাধ্যমে দেশ ও জাতির উত্তরোত্তর সাফল্যে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নবীন শিক্ষার্থী তাহিয়া তাবাসসুম বলেন, শিবিরের আজকের আয়োজনে আসতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। আমরা সবাই অনেক ত্যাগ-সংগ্রামের পর এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছি। নিজেদের সততা ও দক্ষতার সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে আসতে পারলে সেটাই হবে আমাদের সাফল্য।
আয়োজকেরা জানান, নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের সঙ্গে পরিচিত করা, শিক্ষাজীবনে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য প্রস্তুত করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় উপহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়।
অনুষ্ঠানকে ঘিরে ৫৫ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। নিবন্ধন ও কুপন সংগ্রহের মাধ্যমে বিকেল সাড়ে ৫ টায় অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং রাত ১০ টা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্বের মধ্য দিয়ে আয়োজনটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।