স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ

গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন হাজী মাজার বস্তিতে আবারও মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ হেরোইন, নগদ অর্থ, বিদেশি মুদ্রা, দেশীয় অস্ত্র, মাদক প্যাকেজিং সরঞ্জাম এবং স্বর্ণ সদৃশ অলংকার উদ্ধার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। এ সময় দুইজন মাদকাসক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাত আনুমানিক ২টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদারের দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন নেতৃত্ব দেন।

অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ কমিশনার (গাছা/টঙ্গী জোন) টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ, মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্য, এপিবিএন এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা।

পুলিশ জানায়, অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ২২০ গ্রাম হেরোইন, ২ হাজার ১০০ পুরিয়া হেরোইন (মোট প্রায় ১ দশমিক ৬ কেজি), ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬০ টাকা, ২৮০ ওমানি রিয়াল, ১৫টি রামদা, ২টি সামুরাই, ১টি স্টিলের চাপাতি, ১টি প্লাস্টিকের খেলনা পিস্তল, ১০টি স্টিলের পাইপ, ১টি টাকা গণনার মেশিন, ১টি মাদক প্যাকেজিং মেশিন, ৩টি ডিভিআর, স্বর্ণ সদৃশ তিনটি চেইন, সাতটি আংটি ও দুটি ব্রেসলেট, পাশাপাশি মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম।

পুলিশের ভাষ্য, উদ্ধার হওয়া আলামত থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বস্তির ওই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংরক্ষণ, প্যাকেটজাতকরণ এবং সরবরাহের একটি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। জব্দ করা সরঞ্জাম ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

জিএমপি সূত্র জানায়, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপরাধ দমনে মহানগরজুড়ে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক দফায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সেসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, দেশীয় অস্ত্র, মাদক সেবন ও বিক্রিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ বলছে, মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের বিশেষ অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, মহানগরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক নির্মূল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে।