অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা দেখে ফেলায় ১০ বছরের শিশু রাজু আহমেদকে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায়। ঘটনার তিন দিন পর পুলিশ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পার্শ্ববর্তী তাড়াশ উপজেলার একটি জলাবদ্ধ ধানখেত থেকে শিশুটির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে।
এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন—বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের ররোয়া গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে মোস্তাকিম হোসেন (২৫) এবং তাঁর সহযোগী মির্জাপুর বাজার এলাকার আব্দুল করিম (২২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য মোস্তাকিম ররোয়া গ্রাম থেকে একটি অটোরিকশা ছিনতাই করে। স্থানীয় শিশু রাজু আহমেদ সেই দৃশ্য দেখে ফেলে। ছিনতাইয়ের তথ্য প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ঘটনার একদিন পরই শিশুটিকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে হত্যার পর লাশ গুম করতে পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের গাবরগাড়ী এলাকার একটি মাঠের ধানখেতে পুঁতে রাখা হয়।
এদিকে রাজু নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার শেরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। একই সময়ে এলাকায় অটো ছিনতাইয়ের ঘটনাটিও পুলিশের নজরে এলে পুলিশ দুটি ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে অটো ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মোস্তাকিমকে এবং ছিনতাই করা অটো কেনার অভিযোগে আব্দুল করিমকে আটক করা হয়। তাঁদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাড়াশের গাবরগাড়ী এলাকার একটি জলাবদ্ধ জমিতে অভিযান চালিয়ে রাজুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা মূল অভিযুক্ত মোস্তাকিমের বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। শিশু রাজুর এমন নির্মম মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) জয়নুল আবেদীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটিকে ঠিক কী কারণে হত্যা করা হলো, অটো ছিনতাইয়ের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং লাশ গুম করার প্রক্রিয়ায় অন্য কেউ সম্পৃক্ত ছিল কি না—পুলিশ এসব বিষয় গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।