একজন বাধা দিয়েছেন-বলছেন ইউপি সদস্য; ‘বরমীর কেউ জমি কিনেছেন’ দাবি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের, ইউএনও বললেন ‘অভিযোগ পেয়েছি, প্রকৃত ঘটনা জানা নেই’।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী গ্রামে সরকারি রেকর্ডভুক্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার ইটের সলিং নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে কে বা কারা ওই কাজে বাধা দিচ্ছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা।
একজন ইউপি সদস্য বলছেন, ‘একজন বাধা দিয়েছেন’; আবার ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ভাষ্য, ‘বরমী এলাকার কেউ একজন জমি কিনেছেন।’ তবে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় কেউই নিশ্চিত করতে পারেননি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টেপিরবাড়ী গ্রামের রেকর্ডভুক্ত ওই রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে রাস্তাটি বেহাল হয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে রাস্তাটিতে ইটের সলিং নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। কাজ শুরুর পর একজন ব্যক্তি এতে বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে সেই ব্যক্তির পরিচয় বা তিনি কী কারণে বাধা দিয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৯ নং টেপিরবাড়ী মৌজার আরএস ৩৭৪৩ নম্বর দাগে প্রায় এক কিলোমিটার রেকর্ডভুক্ত রাস্তা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ওই রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন। সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তার উন্নয়নকাজে বাধার অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে দৈনিক সংগ্রামকে স্থানীয় সাংবাদিক ইকবাল হাসান কাজল বলেন, “৯ নং টেপিরবাড়ী মৌজার আরএস ৩৭৪৩ নম্বর দাগে প্রায় এক কিলোমিটার রেকর্ডভুক্ত রাস্তাটি বহু বছর ধরে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি জনসাধারণের গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তার উন্নয়নকাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “রাস্তার সীমানা ও সরকারি রেকর্ড যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব। এতে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের চলাচলের দুর্ভোগও কমবে। সরকারি রাস্তা সংরক্ষণ এবং জনগণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”
‘একজন বাধা দিয়েছেন’, কিন্তু কে?
রাস্তার কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়ে তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আফসার উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে দৈনিক সংগ্রাম। তিনি বলেন, “রাস্তার কাজ শুরু করার পর একজন বাধা দিয়েছেন।”
বাধাদানকারী ব্যক্তি কে এবং তার নাম কী-এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো নাম উল্লেখ করেননি। ফলে ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
‘বরমী এলাকার কেউ জমি কিনেছেন’
এ বিষয়ে তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন মুরাদের সঙ্গে কথা বলে দৈনিক সংগ্রাম। তিনি প্রথমে রাস্তার অবস্থান কোন ওয়ার্ড বা এলাকায় তা জানতে চান। পরে তিনি বলেন, “বরমী এলাকার কেউ একজন এখানে জমি কিনেছেন। সে বাধা দিয়েছে।”
তবে ওই ব্যক্তি কে, তার নাম কী কিংবা কোন জমি নিয়ে বিরোধ-এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দৈনিক সংগ্রামকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা পরিচয় দিতে পারেননি।
প্রশাসনের কাছে অভিযোগ, ‘প্রকৃত ঘটনা জানা নেই’
বিষয়টি নিয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূইয়ার সঙ্গে কথা বলে দৈনিক সংগ্রাম। তিনি বলেন, “আমার কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছে। প্রকৃত ঘটনা আমার জানা নাই।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, সরকারি রেকর্ডভুক্ত একটি রাস্তার উন্নয়নকাজে কেউ বাধা দিয়ে থাকলে তার পরিচয় ও দাবির বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে না কেন? একই সঙ্গে রাস্তার সীমানা, দাগ নং ও সরকারি রেকর্ড যাচাই করে দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, রাস্তার উন্নয়নকাজ কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা জমি-সংক্রান্ত দাবির কারণে বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত সরেজমিনে তদন্ত করে রাস্তার প্রকৃত অবস্থান, সরকারি রেকর্ড ও সীমানা যাচাই করা।