প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য হাটহাজারী সফরকে ঘিরে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে পুরো উপজেলায়। আগামীকাল রোববার (৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমনকে সামনে রেখে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, র্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থল সাজসজ্জায় নতুন রূপ পেয়েছে। একই সঙ্গে জোরদার করা হয়েছে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর উপলক্ষে হাটহাজারীর পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠকে প্রস্তুত করা হয়েছে। মাঠ সংস্কার, মঞ্চ নির্মাণ, সাজসজ্জা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি ডাকবাংলো সড়ক, উপজেলা পরিষদ চত্বর, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু, বিদ্যুৎ অফিস এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় রং ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিনের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ইউএনও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে। সফর নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। জনসাধারণের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক চলাচল ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
সম্ভাব্য সফরসূচি
সম্ভাব্য সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাটহাজারী বড় মাদ্রাসায় পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করবেন।
পরে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় স্বল্প সময়ের জন্য বিশ্রাম শেষে বিকেল ৫টার দিকে পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি জনসাধারণের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন বলেও সম্ভাব্য সফরসূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান, পিএসসি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আগত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাব-৭ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে জনসাধারণকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলা এবং দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
উন্নয়নের নতুন আশায় হাটহাজারীবাসী
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমনকে ঘিরে হাটহাজারীর সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সফরটি শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থেকে উপজেলার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে।
হাটহাজারীবাসীর অন্যতম প্রধান দাবি হলো ৬০০ শয্যার হাটহাজারী হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টার দ্রুত চালু করা। দীর্ঘদিন ধরে উন্নত চিকিৎসাসেবার প্রত্যাশায় থাকা স্থানীয়রা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যকর উদ্যোগ চান।
পাশাপাশি হাটহাজারী কৃষি ইনস্টিটিউটকে পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউটকে পূর্ণাঙ্গ ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিও রয়েছে। কৃষি ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ ছাড়া হাটহাজারীতে মডেল মসজিদ নির্মাণ, হাটহাজারী-নাজিরহাট মহাসড়ক প্রশস্তকরণ, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার ও যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন জনদাবি বাস্তবায়নের প্রত্যাশা রয়েছে।
শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও রয়েছে মানুষের প্রত্যাশা। চারিয়ায় টেকনিক্যাল স্কুল এবং আলীপুরে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ দ্রুত শুরু করার দাবি রয়েছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, হাটহাজারীর দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা ও জনদাবি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সফর নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও ভেটেরিনারি শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ চান তারা।
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে হাটহাজারী এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রশাসনিক তৎপরতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সাজসজ্জা ও প্রস্তুতির সব কাজ শেষ। এখন শুধু প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায় হাটহাজারীবাসী—উন্নয়ন ও জনদাবি পূরণের নতুন আশায়।