বয়স মাত্র ১০-১১ বছর। এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় একের পর এক সাফল্য অর্জন করে নিজের মেধা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বাছড়া আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিবলী সাদিক। ইসলামি সংগীত, রচনা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্যে তাকে নিয়ে গর্বিত পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীরা।

সর্বশেষ ইসলামিক ফাউন্ডেশন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আয়োজনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ‘ক’ গ্রুপের হামদ-নাতে প্রথম এবং রচনা প্রতিযোগিতায়ও প্রথম স্থান অর্জন করে শিবলী। এর আগে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় ‘ক’ গ্রুপে প্রথম হয় সে। এছাড়া ওলামা এ্যালায়েন্স কুড়িগ্রাম জেলা শাখার হামদ-নাত প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

শুধু সাম্প্রতিক সময়েই নয়, এর আগেও জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতায় জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের কৃতিত্ব রয়েছে শিবলীর। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে এসোসিয়েশন বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিও পেয়েছে সে।

পড়াশোনার পাশাপাশি ইসলামি সংগীতচর্চায় শিবলীর রয়েছে বিশেষ আগ্রহ। ইউটিউবে তার কণ্ঠে গাওয়া অসংখ্য ইসলামি সংগীত রয়েছে। এর মধ্যে ‘মায়ের মত আপন’ শিরোনামের একটি সংগীত ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

শিবলীর বাবা মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম ফারুকী একজন বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামি আলোচক। তিনি বাছড়া আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরিন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি। তার নানা মাওলানা আতাউল গনি ওসমানী দেশবরেণ্য ইসলামি আলোচক। চাচা তারিক বিন আজাদও দেশবরেণ্য ইসলামি সংগীতশিল্পী ও ইসলামি আলোচক।

শিবলীর ধারাবাহিক সাফল্যে পরিবার, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। শিক্ষক ও পরিবারের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে তার মেধা ও প্রতিভা আরও বিকশিত হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজে আসবে।

ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে শিবলী সাদিক জানায়, সে একজন ‘দায়ী ইলাল্লাহ’—অর্থাৎ ইসলামের পথে মানুষকে আহ্বানকারী—হতে চায়। পড়াশোনার পাশাপাশি ইসলামি জ্ঞান ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে মানুষের কাছে ইসলামের সুন্দর বার্তা পৌঁছে দেওয়াই তার স্বপ্ন।

শিবলীর এই অদম্য প্রচেষ্টা ও সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক।