চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে রোপা আমন চাষে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক, সেচ ও কৃষিশ্রমিকের মজুরি—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যয় বেড়েছে। এর সঙ্গে কোথাও কোথাও শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় বাড়তি মজুরি দিয়েও শ্রমিক নিতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার আমন চাষে জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ধান কাটা পর্যন্ত ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে পাওয়ার টিলারে জমি চাষ, চারা রোপণ, সেচ ও কৃষিশ্রমিকের মজুরি কৃষকদের বাড়তি চাপের মুখে ফেলেছে। পাশাপাশি সার, বীজ ও কীটনাশকের খরচও বেড়েছে।

চারিয়া এলাকার কৃষক মো. আজগর আলী বলেন, এক কানি জমিতে আমন চাষে জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার, কীটনাশক, সেচ ও ধান কাটাসহ প্রতিটি ধাপেই খরচ হচ্ছে। শ্রমিক সংকটের কারণে প্রয়োজনের সময় শ্রমিক পাওয়া যায় না। ফলে বেশি মজুরি দিয়ে শ্রমিক নিতে হচ্ছে। ভালো ফলন হলেও উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মির্জাপুর এলাকার কৃষক আবদুল করিম বলেন, ‘এবার জমি তৈরি, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর দাম বেশি। ধানের দাম যদি উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে কৃষকের লাভ করা কঠিন হয়ে যাবে।’

ধলই ইউনিয়নের কৃষক মো. সেলিম বলেন, ‘আমন চাষে সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে জমি প্রস্তুত ও শ্রমিকের মজুরিতে। এর সঙ্গে সার ও কীটনাশকের খরচও বেড়েছে। ধানের ভালো দাম না পেলে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হবে।’

কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, প্রয়োজনের সময় কোথাও কোথাও সার ও কৃষি উপকরণ কিনতে গিয়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ আরও বাড়ছে। তারা সার ও কৃষি উপকরণের বাজারে নিয়মিত নজরদারি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৩০ টাকা কেজি দামের কিছু সার ৩৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। অর্থাৎ কেজিপ্রতি তিন টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। তবে সব দোকানে এমন চিত্র দেখা যায়নি।

হাটহাজারী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৯৫৫ হেক্টর। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চলতি মৌসুমে হাটহাজারীতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ৯৫৫ হেক্টর। উপজেলায় সার ও বীজের কোনো সংকট নেই। সার ও বীজের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কেউ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষকদের পরিমিত সার ব্যবহার, উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সার ও কৃষি উপকরণ নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নজরদারি করা হচ্ছে।

কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুমে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা জরুরি। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিক দাম নিশ্চিত করা গেলে কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। পাশাপাশি সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।