জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চাঁদপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট, চাঁদপুর জেলা।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়াসহ ১১ দলের জেলা নেতৃবৃন্দ।

এ সময় চাঁদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা এখন সময়ের দাবি। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে গৃহীত জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট দূর করে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনতে হবে এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণের কষ্ট লাঘবে সরকারকে দ্রুত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

এ সময় জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম, এনসিপি চাঁদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম, খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা তারেকুল ইসলাম, এলডিপির নেতা সারোয়ার হোসেনসহ জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে জানানো হয়, বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে শত শত শহীদ ও হাজার হাজার মানুষের পঙ্গুত্ববরণের বিনিময়ে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী সরকার হটিয়ে ঐতিহাসিক "জুলাই গণ-অভ্যুত্থান” সফল করেছিল। ৩০টি রাজনৈতিক দলের ৮ মাসব্যাপী সংলাপের ঐকমত্যের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের পথচলার জন্য প্রণীত হয়েছিল "জুলাই সনদ”। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ গণমানুষ "জুলাই সনদ” বাস্তবায়নের পক্ষে রায় প্রদান করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকার এই গণ-রায় বাস্তবায়ন নিয়ে গড়িমসি ও টালবাহানা করছে। জাতীয় সংসদকে পাশ কাটিয়ে জ্বালানি গ্যাসের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করেছে। তাছাড়া যানবাহনের জ্বালানি তেলের দামও বাড়িয়েছে। আপামর জনগণের পকেট কাটার জন্য বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে অযৌক্তিক চার্জ ধার্য করে প্রতিমাসে গ্রাহকদের নিকট থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় জনগণকে অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়া গুণতে হচ্ছে। পরিবহনে চাঁদাবাজির কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়ে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এমতাবস্থায়, দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট জনগণের পক্ষ হতে বর্তমান সরকারের নিকট নিম্নের দাবিসমূহ পেশ করছে এবং তা কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী বরাবরের স্মারকলিপি প্রদান করছে।

দাবিসমূহ:

১. গণভোটে পাস হওয়া "জুলাই সনদ” অবিলম্বে বাস্তবায়নের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২. রান্নায় ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাস ও এলএনজি গ্যাসের মূল্য কমিয়ে সহনীয় মাত্রায় ধার্য করতে হবে।

৩. অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বৈধ গ্যাস গ্রাহকদের পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

৪. সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের মূল্য কমিয়ে সহনীয় মাত্রার মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।

৫. বিদ্যুৎ বিলের ডিমান্ড চার্জসহ অযৌক্তিক সকল চার্জ বাতিল করতে হবে।

৬. বিদ্যুতের লোডশেডিং বন্ধ করতে হবে।

৭. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সকল প্রকার চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।

৮. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি অভিযান জোরদারসহ প্রশাসনের বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে।