বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের আইনি স্বীকৃতি বা অনুমোদন না নিয়ে অবৈধভাবে ভেটেরিনারি প্রশিক্ষণ ও ক্লিনিক্যাল কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে গাজীপুরে দুটি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযানে একটি ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউটকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং একটি ভেটেরিনারি চিকিৎসা কেন্দ্রকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কাউন্সিলের স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অবৈধ প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে গাজীপুর চৌরাস্তা সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের উদ্যোগে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের পূর্বানুমোদন বা স্বীকৃতি না থাকা সত্ত্বেও ‘প্রাইম প্রফেশনাল অ্যান্ড ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউট’ দীর্ঘদিন ধরে ভেটেরিনারি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাশরিফুল ইসলাম ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এ ছাড়া অপর অভিযানে কাউন্সিলের যথাযথ স্বীকৃতি বা লাইসেন্স ছাড়াই ক্লিনিক্যাল কার্যক্রম পরিচালনার অপরাধে ‘ডক্টরস ভেট অ্যান্ড পেট কেয়ার’ নামের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানের প্রসিকিউটর ও বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস গণমাধ্যমকে জানান, প্রাইম প্রফেশনাল অ্যান্ড ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউটের হয়তো বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কিছু অনুমোদন থাকতে পারে, তবে আইন অনুযায়ী ভেটেরিনারি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অবশ্যই বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের সুনির্দিষ্ট স্বীকৃতি নিতে হয়।
তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইন অনুযায়ী কাউন্সিলের স্বীকৃতি ব্যতিরেকে ভেটেরিনারি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পরিচালনা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ এবং এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।" এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে পরবর্তী স্বীকৃতি লাভ না করা পর্যন্ত ভেটেরিনারি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ডক্টরস ভেট অ্যান্ড পেট কেয়ারকে দ্রুত বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের স্বীকৃতি গ্রহণ এবং কাউন্সিল নির্ধারিত ক্লিনিক পরিচালনার আদর্শ মানদণ্ড অনুসরণ করে সেবা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রাণিসম্পদের নিরাপদ, মানসম্মত চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান এবং প্রশিক্ষিত পেশাজীবীদের মাধ্যমে ভেটেরিনারি সেবা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল। সাধারণ মানুষের জীবন ও প্রাণিসম্পদ রক্ষায় অননুমোদিত ও মানহীন এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।